২০ এপ্রিল, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেছেন, ‘আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন করা হবে।’

বুধবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) আয়োজিত ‘আইএলও কনভেনশনের ১৩৮ ধারা অনুস্বাক্ষর’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। ২০২৫ সালের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক, অপ্রাতিষ্ঠানিক সব পর্যায়ে শিশুশ্রম নিরসন করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গার্মেন্টেসে কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণে সরকার একটি কেন্দ্রীয় তহবিল গঠন করেছে। গত জুলাই থেকে এ পর্যন্ত এই তহবিলে ৩৭ কোটি টাকা জমা হয়েছে। মোট রপ্তানি মূল্যের শূন্য দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ অর্থ সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে এই তহবিলে জমা হচ্ছে।’

গার্মেন্টেসে কর্মরত যেকোনো শ্রমিক দুর্ঘটনায় মারা গেলে ৩ লাখ টাকা এই তহবিল থেকে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ২ লাখ টাকা দেওয়া হবে বীমা বাবদ।

তিনি বলেন, ‘শিশু শ্রমিকদের সর্বনিম্ন বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইএলও কনভেনশনের ১৩৮ ধারা অনুস্বাক্ষরের বিষয়ে সরকার আন্তরিক। এই কনভেনশন অনুস্বাক্ষরের আগে আমাদেরকে যথোপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সমাজে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সমাজে ব্যক্তি পর্যায়ে সবাইকে ১৩৮ ধারার বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে। যৌক্তিক পর্যায়ে পৌঁছালে সরকার ১৩৮ ধারা অনুস্বাক্ষর করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত শ্রমিকদের কল্যাণে শ্রমিককল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে। এই তহবিলে বর্তমানে জমার পরিমাণ ২০৮ কোটি টাকা। এই তহবিল থেকে শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রথমবারের মতো এ তহবিল থেকে আগামী মাসে শ্রমিকের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষাসহায়তা দেওয়া হবে।’

বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহানাজ হুদা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন বাসসের বিশেষ প্রতিনিধি মাহফুজা জেসমিন। এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব খন্দকার মোস্তান হোসেন, বাসসের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শাহরিয়ার শহীদ, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা, সিএসআইডির নির্বাহী পরিচালক খন্দকার জহুরুল আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Share

আরও খবর