১২ জুন, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ দেশের খাদ্য মজুদ বাড়াতে আলাদা দুটি আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে সরকার ১ লাখ টন চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ৫০ হাজার টন সাধারণ চাল (বাসমতি নয়) এবং বাকি ৫০ হাজার টন আতপ চাল। এজন্য মোট ব্যয় হবে ৩৪৬ কোটি ৬২ লাখ ৬৯ হাজার টাকা।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের সিদ্ধ চাল আমদানির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্যাকেজ-১ এর আওতায় খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক আন্তর্জাতিক কোটেশন আহ্বান করা হয়। এতে মোট পাঁচটি সরবরাহকারী সংস্থা অংশ নেয়। এর মধ্যে মেসার্স সুখবীর অ্যাগ্রো এনার্জি লিমিটেড প্রতি টনের দাম ৪২৭ দশমিক ৮৫ ডলার উল্লেখ করে সবনিম্ন দরদাতা হিসেবে ৫০ হাজার টন সিদ্ধ চাল সরবারহ করবে। এজন্য ব্যয় হবে ১৬৮ কোটি ৬৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

আন্তর্জাতিক কোটেশনে অংশংগ্রহণকারী অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মেসার্স ওলাম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড প্রতি টনের দাম ৪৩৯ দশমিক ২১ ডলার, মেসার্স বাগাদিয়া ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড ৪৪৮ দশমিক ৯৩ ডলার, মেসার্স আমির চাঁন্দ জগদিশ কুমার (এক্সপোর্ট) লিমিটেড ৪৫৪ ডলার এবং মেসার্স অ্যাগ্রো কর্প ইন্টারন্যাশনাল ৪৭৩ দশমিক ৯ ডলার দাম উল্লেখ করে।

সূত্র জানায়, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে মেসার্স সুখবীর অ্যাগ্রো এনার্জিকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সংস্থাটিকে চাল সরবরাহের সুপারিশ করে।

অন্যদিকে প্যাকেজ-২ এর আওতায় ৫০ হাজার টন আতপ চাল আমদানির অন্য একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভা কমিটির পরবর্তী বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক কোটেশনে মোট পাঁচটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে মেসার্স অ্যাগ্রো কর্প ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড প্রতি টনের দাম ৪০৬ দশমিক ৪৮ ডলার উল্লেখ করে সর্বনিম্ন দরদাতা হয়। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে তাদেরকে চাল সরবরাহের সুপারিশ করে। এজন্য ব্যয় হবে ১৬৮ কোটি ৬৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

দরপত্রে অংশগ্রহণকারী অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মেসার্স লুইস ড্রেফুস কোম্পানি এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড প্রতি টনের দাম ৪১৩ দশমিক ১৩ ডলার, মেসার্স ওলাম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ৪১৩ দশমিক ১৩ ডলার, মেসার্স ফনিক্স গ্লোবাল ডিএমসিসি ৪২১ দশমিক এবং মেসার্স দেশ ট্রেডিং করপোরেশন ৪৪৬ দশমিক ৭০ ডলার দাম উল্লেখ করে।

সূত্র জানায়, দেশের বিশেষ কয়েকটি এলাকার মানুষ আতপ চাল পছন্দ করে। তাদের কথা বিবেচনা করে প্রতি বছরই কিছু কিছু আতপ চাল আমদানি করা হয়। কোটেশনে যারা চাল সরবরাহের যোগ্যতা অর্জন করবে, তারাই নির্ধারণ করবে তারা কোথা থেকে চাল আমদানি করবে। সরবরাহকারী সংস্থা নির্দিষ্ট জায়গায় চাল পৌঁছে দেওয়ার পর খাদ্য মন্ত্রণালয় তার গুণগত মান নিশ্চিত করে এসব চাল গ্রহণ করবে।

Share

আরও খবর