৪ নভেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ২০২০ সালে বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা আরো সহজ করতে ১০ দফা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করে এসব পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে যখন যার সঙ্গে দরকার বৈঠক করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে মতামত-পরামর্শও নেয়া হচ্ছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী বছর বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা আরো সহজ করতে সরকার যে ১০ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তার মধ্যে রয়েছে- সৌদি সরকারের ‘রুট টু মক্কা ইনেশিয়েটিভ’ এর আওতায় বাংলাদেশের শতভাগ হজযাত্রীর সৌদি আরব অংশের ইমিগ্রেশন বাংলাদেশে সম্পন্ন করা। হজযাত্রীদের লাগেজ ব্যবস্থাপনা ত্রুটিমুক্ত করা, যাতে কোনোভাবেই বাংলাদেশের হজযাত্রীদের লাগেজ হারিয়ে না যায়। বাংলাদেশি হজযাত্রীর কোটা বাড়ানো। হজের ব্যয় কমানো। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ যাত্রীর সংখ্যা বাড়ানো। হজ ও ওমরাহ আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা। জেদ্দা ও মদিনা এয়ারপোর্টে হজযাত্রীদের ভোগান্তি দূর করা। সব দেশের হাজিদের সুবিধার জন্য মিনার আয়তন বাড়াতে রাজকীয় সৌদি সরকারকে মানানো। মাশায়ের মোকাদ্দাসায় হাজিদের সুবিধা বৃদ্ধি করা এবং হাজিদের খাবার সরবারহের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর বাধ্যবাধকতা বন্ধ করা।

জানা গেছে, সরকারের এই ১০ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৌড়-ঝাঁপ করছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ। বর্তমানে তিনি লন্ডনে ওয়ার্ল্ড হজ অ‌্যান্ড ওমরাহ কনভেনশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। লন্ডনের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে তিন দিনব‌্যাপী কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি। এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা সহজ ও উন্নত করতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় ২০১৯ সালের হজ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বছর হজ ব্যবস্থাপনা আরো সুন্দর করতে আমরা ১০টি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

ওয়ার্ল্ড হজ অ‌্যান্ড ওমরাহ কনভেনশনে এর সিইও মোহসিন তোতলা, নাইজেরিয়ার ন্যাশনাল হজ অ‌্যান্ড ওমরাহ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বশির, স্বাগতিক যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভারত, পাকিস্তানসহ প্রায় ২৫টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী ও যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত কাউন্সিলর (রাজনৈতিক) দেওয়ান মাহমুদুল হক এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেন।

উল্লেখ্য, ব্রিটিশ হজ অ‌্যান্ড ওমরাহ কাউন্সিলের সহযোগিতায় বিভিন্ন সরকারের হজ মিশনের প্রতিনিধি এবং হজ অ‌্যান্ড ওমরাহ এজেন্সিজ অ‌্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিগণ এ সম্মেলনে অংশ নিয়ে থাকেন।

সভায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিগণ পূর্ববর্তী বছরের হজ ও ওমরাহ কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং লব্ধ অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কে পরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকেন।

গত ৮ বছর ধরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এ কনভেনশন হজযাত্রীদের হজ টার্মিনাল, টেলিযোগাযোগ সেবাসমূহ, খাবার ব্যবস্থাপনা, হোটেল, আবাসন, প্রযুক্তি, পরিবহন এবং সারা বিশ্বের হজযাত্রীদের কল্যাণ এবং উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ উদ্যোগের ফলে সারা পৃথিবীর লাখ লাখ হজযাত্রী উপকৃত হয়েছে। এ সম্মেলন থেকে প্রাপ্ত সুপারিশের আলোকে সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

Share

আরও খবর