৩০ জুন, ডেস্ক রিপোর্টঃ সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে (সুইস ব্যাংক) বাংলাদেশি নাগরিকদের জমানো টাকার পরিমাণ বেড়েই চলেছে। এক বছরে বাংলাদেশি সঞ্চয় বেড়েছে ১৯ শতাংশ।সর্বশেষ হিসাবে ৬৬ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ গচ্ছিত রয়েছে বাংলাদেশি নাগরিকদের যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ হাজার ৫৬৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা (১ সুইস ফ্রাঁ=৮৪ টাকা হিসাবে)। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড ২০১৬’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদন গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে যাতে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

সুইস ব্যাংকগুলোতে এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশিদের জমার পরিমাণ বেড়েছে ১১ কোটি ১১ লাখ ফ্রাঁ বা ৯৩৪ কোটি টাকা। সুইস ব্যাংকে ২০১৫ সালে বাংলাদেশিদের জমার পরিমাণ ছিল ৫৫ কোটি ৮ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা ৪ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত এবং পাকিস্তানের পরেই রয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের গচ্ছিত অর্থ বাড়লেও ভারতীয়দের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণে রেকর্ড পতন ঘটেছে। ২০১৫ সালে ১২০ কোটি ফ্রাঁ থেকে ২০১৬ সালে ৬৬ কোটি ফ্রাঁতে নেমে এসেছে। ভারতে অর্থ পাচারে কড়াকড়ির কারণে ভারতীয়দের গচ্ছিত অর্থ গত কয়েক বছর ধরেই কমছে। এছাড়া মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গচ্ছিত আমানতও কমেছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার আমানত বেড়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মহাব্যবস্থাপক দেব প্রসাদ দেবনাথ বলেন, শুধু বাংলাদেশি নয়, বিদেশে বসবাস করেন এমন বাংলাদেশিরাও সুইস ব্যাংকগুলোতে অর্থ জমা রাখছেন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গভীর উদ্বেগজনক। কারণ সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের যে টাকা রাখা হয়েছে, সেটা মূলত দুর্নীতির। বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের মূলত তিনটি কারণ। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে দুর্নীতি। দুর্নীতি বেড়েছে বলেই অর্থ পাচারও বেড়েছে।

‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড ২০১৬’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদন বলা হয়েছে, যেসব বাংলাদেশি পরিচয় প্রদান করে টাকা জমা রেখেছেন এটি হল তার চিত্র। কিন্তু এর বাইরে যারা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে টাকা রেখেছেন সে হিসাব এখানে নেই।

ধারণা করা হচ্ছে, পরিচয় গোপনকৃত টাকা যুক্ত হলে এর পরিমাণ হবে আরও কয়েকগুণ।

উল্লেখ্য, এর আগে সুইস ব্যাংকগুলোতে কেবল বাংলাদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ সম্পর্কে তথ্য প্রদান করতো। বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাখা অর্থের তথ্য দেওয়া হচ্ছে।

Share

আরও খবর