১৬ ডিসেম্বর, অনলাইন ডেস্কঃ একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধে গৌরবদীপ্ত বিজয় অর্জিত হয়। কেড়ে আনা হয় লাল-সবুজের পতাকা, একটা মানচিত্র। ৫৫ হাজার বর্গমাইলের যে ভূখণ্ড স্বাধীন করা হয়, তা ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত বেহাল দশার এক বাংলাদেশ। মাঠ-ঘাট ছিল ফসলশূন্য, বিরানভূমি। ছিল ভাঙাচোরা কল-কারখানা, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জনশূন্য শহর-গ্রাম আর ঘরে ঘরে অনাহারক্লিষ্ট মানুষের শীর্ণ মুখ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে পা রেখেই বলেছিলেন, ‘এবার সোনার বাংলা গড়ে তোলার নতুন বিপ্লবের সূচনা করতে হবে। ’ কিন্তু দেশ গড়ার বিপ্লব ছিল প্রায় অসাধ্য ব্যাপার। একাত্তরে সদ্য স্বাধীন যে ভূখণ্ডকে পশ্চিমারা তলাবিহীন ঝুড়ি বলে টিপ্পনী কাটত, সেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের আশ্চর্য প্রদীপ। চার লেন মহাসড়ক, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, এলএনজি টার্মিনাল, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, পরিকল্পিত বহুমুখী বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলাসহ উন্নয়নের বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে দেশজুড়ে। পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরুর পর থেকেই একের পর এক মেগা প্রকল্প নিয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে দেশ। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন গোটা দেশবাসীর জন্য গর্ব আর অহঙ্কারের পুঁজি এনে দেয়।

এ দেশেই আছেন ক্রিকেটের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। রয়েছেন এভারেস্ট বিজয়ী মুসা ইব্রাহীম, ওয়াসফিয়া নাজরীন, নিশাত মজুমদার, এম এ মুহিতরা। এভাবেই সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, পৌঁছে যাচ্ছে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে।

এশিয়ার নতুন বাঘ বাংলাদেশ : বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন উড়ন্ত সূচনায় রয়েছে। শিগগিরই দেশটি এশিয়ার নতুন বাঘ হিসেবে আবির্ভূত হবে। ’ দেশে রাজনৈতিক শান্তি বিদ্যমান থাকার পাশাপাশি জনপ্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবহন খাত ভিত গড়েছে উন্নয়নের। সমস্যা ছিল বিনিয়োগে। সেখানেও বইছে সুবাতাস। মাথাপিছু জাতীয় আয় বেড়ে ১,৩১৬ ডলার থেকে ১,৪৬৬ ডলারে উন্নীত হয়েছে। উন্নতির রকম দেখে চমকে গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও।

বিশ্বের প্রভাবশালী সাময়িকী ইকোনমিস্ট বলেছে, ‘কী করে উন্নয়নের মডেলে পরিণত হওয়া যায় তা দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ’ এখন সারা বিশ্বই সমীহ করছে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের এই বিপুল সম্ভাবনার নেপথ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষ। চাষাবাদের জমি দিন দিন কমলেও ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানির মতো বাড়তি ফসল উৎপাদন করছেন এ দেশের কৃষকরা। বিভিন্ন খাতে নিয়োজিত বিপুল শ্রমশক্তি তাদের শ্রমে-ঘামে বিনির্মাণ করছে বিস্ময়কর উত্থানের পটভূমি। প্রিয়জনদের ফেলে রেখে প্রবাসের নির্বাসনে শ্রম বিক্রি করে দেশে উন্নয়নের স্বপ্ন বুনছেন কোটি বাংলাদেশি। সামাজিক উন্নয়নে ভারতকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। বিদেশি বিনিয়োগের গতি সম্পর্কে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এফডিআই বাড়ার মূল কারণ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ। প্রায় আড়াই বছর ধরে হরতাল-অবরোধ নেই। বিদ্যুৎ সরবরাহেরও উন্নতি হয়েছে। রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন হয়েছে। দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অনেক ভালো। এসব কারণে দেশের মেগা প্রকল্পগুলোও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী করে তুলেছে।

চারদিকে সুখবরের ছড়াছড়ি : চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বরিশাল, খুলনাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সাগরের বুক চিরে জেগে উঠছে নতুন নতুন ভূখণ্ড। এর পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার বর্গকিলোমিটার। ১৪৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সন্দ্বীপের তিন পাশেই গড়ে ওঠা নতুন ভূমির পরিমাণ মূল সন্দ্বীপের প্রায় দ্বিগুণ। আবার নিঝুম দ্বীপ ছাড়াও চরকবিরা, চরআলীম, সাগরিয়া, উচখালী, নিউ ডালচর, কেরিং চরের আশপাশে আরও প্রায় ৫০ হাজার একরের জেগে ওঠা নতুন ভূমি স্থায়িত্ব পেতে চলেছে। নতুন এ ভূমি খুলে দিচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। আমদানিনির্ভর বাংলাদেশ ক্রমেই রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। রপ্তানি ক্ষেত্রেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি অপ্রচলিত পণ্যও রপ্তানি হচ্ছে দেদার। চা, চামড়া, সিরামিক থেকে শুরু করে মাছ, শুঁটকি, সবজি, পেয়ারা, চাল, টুপি, নকশিকাঁথা, বাঁশ ও বেতশিল্পের তৈরি পণ্য, মৃিশল্প রপ্তানি হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। কয়েক বছর ধরে দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পও বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছে। খুলনার শিপইয়ার্ডে যুদ্ধজাহাজ পর্যন্ত নির্মাণ হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপারসের (পিডব্লিউসি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে শীর্ষ তিনটি দেশের একটি হবে বাংলাদেশ। শুধু তা-ই নয়, এ সময়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ভিত্তিতে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৩তম বড় অর্থনীতির দেশ। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, চীন ও জাপান বাংলাদেশকে দেখছে ভবিষ্যতের বড় বিনিয়োগের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে।

নীরব বিপ্লব কৃষিতে : স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের যত অর্জন আছে, এর মধ্যে কৃষিতে অর্জন উল্লেখ করার মতো। একদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে দিনদিনই কমছে আবাদযোগ্য জমি। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী প্রকৃতিতেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ। সবজি উৎপাদনে তৃতীয় আর চাল ও মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে। ধান, গম ও ভুট্টা উৎপাদনে বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে ক্রমেই এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। ফসলের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে দেশের বিজ্ঞানীদের সফলতাও বাড়ছে। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) বেশ কয়েকটি জাত ছাড়াও পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন করেছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) বিজ্ঞানীরা মোট ১৩টি প্রতিকূল পরিবেশসহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন।

গড়ে উঠছে বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল : অর্থনৈতিক অঞ্চল সমুদ্র উপকূলীয় ফেনীর সোনাগাজী ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের চরাঞ্চলে গড়ে উঠছে সম্ভাবনার আরেক বাংলাদেশ। সেখানে চলছে দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ। প্রায় ৩৫ হাজার একর আয়তনের এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০ লাখেরও বেশি লোকের কর্মস্থানের সুযোগ হবে।

ক্ষুদ্র ও হালকা শিল্পে নজিরবিহীন বিপ্লব : সারা দেশেই নাগরিক চোখের আড়ালে ঘটে চলেছে এক অভাবনীয় বিপ্লব। দেশীয় প্রযুক্তির ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ উদ্ভাবন, উৎপাদন ও বাজারজাতে বদলে গেছে দৃশ্যপট। কদিন আগেও অতিপ্রয়োজনীয় যেসব যন্ত্রপাতি-মেশিনারিজ শতভাগ আমদানিনির্ভর ছিল, আজ দেশের চাহিদা মিটিয়ে সেসব রীতিমতো রপ্তানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত মেশিনারিজ এখন চীন-ভারতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিশ্ববাজারে ঠাঁই করে নিচ্ছে। ব্যক্তিপর্যায়ের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিজ নিজ প্রচেষ্টায় অভাবনীয় এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ক্ষুদ্র ও হালকা শিল্পে ব্যতিক্রমী সাফল্যের মাধ্যমে কয়েক যুগ ধরেই দৃষ্টান্ত হয়ে আছে জিঞ্জিরা। এখানকার ঝুপড়ি বস্তির অজস্র কারখানায় খুদে ইঞ্জিনিয়ারদের তৈরি করা হাজারো পণ্যসামগ্রীর কদর রয়েছে সর্বত্র। দেশ-বিদেশে ‘মেইড ইন জিঞ্জিরা’ হিসেবে এর ব্যাপক পরিচিতিও আছে। রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীর তীরঘেঁষা জিঞ্জিরা-শুভাঢ্যা জুড়ে দুই হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও হালকা শিল্প কারখানায় চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। সেখানে ১২ লাখ কারিগর-শ্রমিকের উদয়াস্ত পরিশ্রমে গড়ে উঠছে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত।

‘ধোলাইখাল ব্র্যান্ড’ : ইঞ্জিন-যন্ত্রাংশ, গাড়ির ছোট পার্টসসহ প্রায় ২০০ ধরনের মেশিনারিজ উৎপাদন ও বাজারজাতের বিরাট সম্ভাবনার খাত হয়ে উঠেছে ‘ধোলাইখাল ব্র্যান্ড’। এ শিল্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত পাঁচ লক্ষাধিক লোকের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে এর মাধ্যমে। ধোলাইখাল ব্র্যান্ডের কারিগররা বাইসাইকেল থেকে শুরু করে সব ধরনের গাড়ি, ট্রাক্টর, ক্রেইন, রি-রোলিং মিল, এমনকি ট্রেনের বগিসহ যাবতীয় যন্ত্রাংশ অনায়াসে প্রস্তুত করছেন। বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহাবুবুল আলম বলেন, দেশের এ হালকা প্রকৌশল শিল্পে প্রায় তিন হাজার ৮০০ রকমের যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ তৈরি হচ্ছে, যার মধ্যে ১৩৭টি আইটেম বিশ্বের ১৭টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

বিশাল সাফল্যের আউটসোর্সিং : ইন্টারনেটভিত্তিক অনলাইন আউটসোর্সিং বিশ্বব্যাপী শিক্ষিত তরুণ সমাজের কাছে জনপ্রিয় পেশা। বিশাল সম্ভাবনা নিয়ে এ খাতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে পাঁচ লাখের বেশি বাংলাদেশি আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত। আয় হচ্ছে প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আউটসোর্সিং থেকে বাংলাদেশের আয় প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয় ৭ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৯ কোটি ৪৯ লাখ ডলার হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আউটসোর্সিং থেকে আয় বেড়েছে ২ কোটি ১০ লাখ ডলার। আয় বাড়ার এ হার ২৮ শতাংশের ওপরে। আউটসোর্সিংয়ের পাশাপাশি কম্পিউটার সেবা থেকেও আয় বাড়ছে।

স্বপ্নের দুয়ার খুলেছে ওষুধশিল্প : ওষুধশিল্প সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের স্বপ্নের স্বর্ণদুয়ার খুলে দিয়েছে। ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতের ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তারা রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছেন। রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে এ শিল্প। এ খাতের প্রবৃদ্ধি বিস্ময়কর। এক সময়ের আমদানিকারক বাংলাদেশ এখন ওষুধের রপ্তানিকারক দেশের গৌরবে গৌরবান্বিত। দেশের উৎপাদিত ওষুধ অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে বিশ্বের ১৩৩টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

বিশ্বনেতৃত্বে বাংলাদেশ : দারিদ্র্য, অশিক্ষা, অপুষ্টিকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এখন শুধু এগিয়েই যাচ্ছে না, আন্তর্জাতিক নানা ক্ষেত্রে নেতৃত্বও দিচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যদের সংগঠন ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সভাপতি নির্বাচিত হন সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি। ১২৫ বছরের বনেদি এ সংগঠনটি বিশ্বের সংসদীয় রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই পরিচিত। একইভাবে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর এমপিদের সংগঠন কমনওয়েলথ পার্লামেন্টরি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ১৯৭৩ সালে কমনওয়েলথে যোগদানকারী বাংলাদেশ এবারই প্রথম নেতৃত্ব দেওয়ার কর্তৃত্ব পেয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের ৪৭ সদস্যের মর্যাদাপূর্ণ মানবাধিকার কাউন্সিল নির্বাচনেও উত্তীর্ণ হয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়াকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে ২০১৫-২০১৭ মেয়াদে নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল স্যাটেলাইট অর্গানাইজেশনের (আইএমএসও) মহাপরিচালক পদে নির্বাচিত হন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ক্যাপ্টেন মঈন উদ্দিন আহমেদ। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও রোমানিয়ার প্রার্থীদের পরাজিত করে নির্বাচিত হন তিনি।

বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনে বরাবরের মতো নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর হয়ে বিশ্বব্যাপী শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে বাংলাদেশ। বেলজিয়ামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইসমত জাহান ‘নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য বিলুপ্ত কমিটি’র (সিডো) সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া এশিয়া-প্যাসিফিক ইনস্টিটিউট ফর ব্রডকাস্টিং ডেভেলপমেন্টের (এআইবিডি) নির্বাচনে দুই বছরের জন্য সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ। রাসায়নিক অস্ত্রনিরোধী বিশ্ব সংস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনেরও নেতৃত্ব লাভ করেছে এ দেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ওপিসিডব্লিউসিতে স্থায়ী প্রতিনিধি শেখ মোহাম্মদ বেলাল ৪১ সদস্যের এই নির্বাহী পরিষদে ‘সর্বসম্মতভাবে’ নির্বাচিত হন।

Share

আরও খবর