বহুল প্রচলিত বাক্য সমাজ নষ্ট হয়ে গেল। মানুষ আর ভাল নেই। নষ্ট মানুষ নষ্ট সমাজ।দেশের সর্বক্ষেত্রে একের পর এক ঘটনা দূর্ঘটনায় আশা নিরাশার দোলাচলে দুলছে জাতি। এক দিকে দৃশ্যমান বস্তুগত উন্নয়ন। অন্যদিকে সামাজিক প্রতিষ্ঠান সব অস্তিত্ব সংকটে। বুয়েটে আবরার হত্যা, সড়কে নৈরাজ্য, পেঁয়াজের ঝাঁঝ, মানুষকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে রেখেছে। আবার বাবা হাতে সন্তান খুন, কতিপয় ছাত্রের অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলে লাঞ্চিত করার ঘটনা, সকল ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা মানুষের মনে এক ধরনের হতাশা তৈরি করেছে। এমনটা

কেন হচ্ছে কেউ কি ভেবে দেখেছি। সমস্যাটা কোথায় বের করার চেষ্টা করেছি ? রোগের কারণ না খুঁজেই ওষুধের অতিমাত্রার ব্যবহার রোগীকে সুস্থ করার বদলে আরও অসুস্থ করে ফেলছে।

মানুষব্যতীত কী সমাজের ধারণা বাস্তব হতে পারে? মোটেও না। কারণ মামুষই সমাজ তৈরি করেছে। আবার এককভাবে কোণ ব্যক্তিই সমাজের বাইরে অবস্থান করার সুযোগ নেই। কারণ বিভিন্নভাবে প্রত্যেকটি মানুষই সমাজের উপর নির্ভরশীল।

মানব শিশু জন্ম নেয় সমাজে। ছোট কাল থেকে সে সমাজে বড় হয় সমাজ উপযোগী হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। পাঠক, আমি আপনি সবাই এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আজকের এই অবস্থানে এসে পৌঁছেছি। সামাজিকীকরণের এই প্রক্রিয়াই আমাদেরকে সমাজের সদস্য করে গড়ে তুলেছে।

সকল পেশার মানুষ একে অপরের উপরের উপর অসন্তুষ্ট।চলছে পেশাগত নষ্ট হবার প্রতিযোগিতা। কে কার চেয়ে বেশি সম্পত্তির অর্জন করবে। হোক সেটা বৈধ বা অবৈধ পথে। পথে কী আসে যায়!! সামাজিক এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যেকেই আবার বলে সমাজ নষ্ট হয়ে গেল। সমাজ কি নিজে নিজে নষ্ট হতে পারে? সমাজের কি নিজস্ব হাত মাথা আছে? নাকি আমরাই প্রথমে নিজেকে নষ্ট করেছি এবং এরই ধারাবাহিকতায় সমাজ নষ্ট হয়েছে? আমরা প্রত্যেককে নিজ অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করলে অথবা নিজেকে অসৎ ও অসত্যের পথে ধাবিত না করলে এই অবক্ষয় আটকানো সম্ভব ছিল। নিজের অসৎ ও অসত্যের কর্মকান্ডকে কিছুটা গ্রহণযোগ্য করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সমাজের উপর দায় চাপানোর একটি সুক্ষ্ণ প্রক্রিয়া হিসেবেই তারা এই রকম বলে থাকে। ফলে নতুন প্রজন্ম বেড়ে উথার আগেই নিশ্চিত হচ্ছে যে তারা একটি নষ্ট সমাজে বড় হচ্ছে। এই সমাজ তাদেরকে কিছু দেবে না। ফলে তারাও নিজেদেরকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবতে থাকে। ফলে সমাজ নিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দায়বদ্ধতার ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়।

পরিশেষ বলতে চাই, সমাজ নষ্ট হয়ে যায়নি। সমাজ নষ্ট হতে পারে না। নষ্ট হয়েছি বা দূষিত হয়েছি আমি বা আপনি, আমি এবং আমরা। আবার আমাদের প্রয়োজনেই সমাজকে সুস্থ করতেহবে আমাদেরই। আসুন, নিজের ব্যর্থতার দায় অন্যের উপরে না চাপিয়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য একটি আদর্শ সমাজ গঠনে প্রত্যেককে নিজ অবস্থান থেকে কাজ শুরু করি। এতেই আমরা পারস্পারিক দূষণের মিথষ্ক্রিয়া থেকে বের হয়ে আসতে পারব।

Share

আরও খবর