১১ অক্টোবর, নিজস্ব প্রতিবেদনঃ  নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং (ই-ভোটিং) পদ্ধতির প্রস্তাব দেবে আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান করার পক্ষে দলীয় অবস্থান জানাবে দলটি।

এ ছাড়া সংলাপে সীমানা পুনর্নির্ধারণে আপত্তি এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নেরও সুপারিশ করা হবে।
১৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সংলাপে অংশ নেবে আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে দলের পক্ষ থেকে একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। ১৪ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলের পক্ষ থেকে যেসব প্রস্তাব ইসিতে দেওয়া হবে তা চূড়ান্ত হবে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দলীয় সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয়ে ইসির সঙ্গে সংলাপে সম্ভাব্য প্রস্তাব নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ড. মশিউর রহমান, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ড. আবদুর রাজ্জাক, নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রশিদুল আলম, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রিয়াজুল কবির কাওছার প্রমুখ। দলের কার্যনির্বাহী সংসদের আগামী শনিবারের বৈঠকে খসড়া প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হবে। বৈঠকে অনুমোদন নিয়ে তা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে তুলে ধরা হবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন কেন্দ্র করে আমাদের অনেক প্রস্তাব রয়েছে। নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান থাকবেন শেখ হাসিনা। আমরা ই-ভোটিংয়ের পক্ষে। মূলত অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এ দুটি দাবি জোরালোভাবে জানাব। তবে কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সবকিছু চূড়ান্ত হবে। ’

আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ইসির নির্ধারিত এজেন্ডার মধ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২, বিদ্যমান ইংরেজি আইনটি বাংলায় রূপান্তর ও এর প্রয়োজনীয় ধারা সংশোধনের ব্যাপারে বর্তমান আরপিওর ৯৪ ধারা অনুযায়ী বাংলায় ভাষান্তর করার কথাই তুলে ধরবে দলটি। বিগত নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অবৈধ অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার রোধকল্পে আইনি কাঠামো সংস্কার প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নতুন কোনো প্রস্তাব তুলে ধরবে না। তারা বর্তমান প্রচলিত আইন সঠিকভাবে প্রয়োগের দাবি জানাবে। সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণকল্পে জনসংখ্যার পাশাপাশি ভোটার সংখ্যা, সংসদীয় এলাকার আয়তন, প্রশাসনিক অখণ্ডতা এবং যোগাযোগব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে ডিজিটাল টেকনোলজি ব্যবহারের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রস্তাব হচ্ছে বর্তমান আইন অনুযায়ী আদমশুমারির পর সীমানা নির্ধারণ করা। যেহেতু ২০১৩ সালে আদমশুমারির ফল ঘোষণা করা হয়েছে, সে ক্ষেত্রে পুরানা সীমানায়ই নির্বাচন চায় ক্ষমতাসীনরা। এ ছাড়া নির্বাচনকালে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পক্ষে নয় দলটি। নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ দাবি করবে, অনেক ভোটারের পিতা, স্বামীর নাম সঠিক নেই। সেগুলো দ্রুত সঠিকভাবে করার উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া ভোট কেন্দ্র স্থানান্তর বিষয়ে নদীভাঙন ও বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া ভোট কেন্দ্র স্থানান্তরে আপত্তি তুলে ধরবে আওয়ামী লীগ।

নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নিরীক্ষাসংক্রান্ত প্রস্তাবে নতুন করে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনে আপত্তি না তুললেও যেসব রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে নিবন্ধনকৃত তারা কমিশনের শর্ত পূরণ করতে পারছে কিনা তার জন্য সুপারিশ দিতে পারে দলটি। এ ছাড়া দলটির পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে : অভিন্ন পোস্টার, প্রার্থীদের জামানত ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা, নির্বাচন কমিশন থেকে প্রার্থীদের নির্দিষ্ট একটি ‘টোকেন মানি’ সরবরাহ, নির্বাচন কমিশনের নিয়োগবিধি অনুযায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ, নির্বাচন কমিশনের বাজেট স্বাধীনভাবে খরচ করতে দেওয়ার বিষয়গুলোও ক্ষমতাসীন দলের প্রস্তাবে থাকবে। তবে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে স্পষ্ট যুক্তি তুলে ধরবে আওয়ামী লীগ। বলা হবে : নির্বাচনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারপ্রধান থাকলেও তিনি শুধু রুটিনমাফিক কাজ করবেন। তফসিল ঘোষণা করলেই সব ক্ষমতা ইসির কাছে থাকবে। সকল পর্যায়ের রদবদলের দায়িত্বেও থাকবে নির্বাচন কমিশন। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই সরকারপ্রধান থাকবেন।

Share

আরও খবর