১৮ মে, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সম্প্রতি চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও ঢাকা জেলার কর্মিসভা ঘিরে সংঘর্ষে জড়ানোর নেপথ্যে থাকা নেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছেন তিনি। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম উত্তরের সদস্যসচিব কাজী আবদুল্লাহ আল হাসান ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েলকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী মহানগরী, জেলা ও ঢাকা জেলার কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা যায়, ২ মে চট্টগ্রাম উত্তর ও ৩ মে দক্ষিণ জেলা বিএনপির কর্মিসভা থাকলেও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষের কারণে তা পণ্ড হয়ে যায়। তবে কর্মিসভা সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ঘাটতি থাকায় সতর্ক করা হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীমকে। ঢাকা জেলা ও রাজশাহী জেলা এবং মহানগরী বিএনপির কর্মিসভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত ও ইন্ধনদাতা সাত নেতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে জানা গেছে। গতকাল বিএনপির দফতর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েল ও উত্তর জেলার সদস্যসচিব কাজী আবদুল্লাহ আল হাসানকে দলের সকল পর্যায়ের পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

দলীয় গঠনতন্ত্রের ৫ (গ) ধারা মোতাবেক এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় : ‘উল্লিখিত দুজনই এখন থেকে দলের কোনো সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকতে পারবেন না। ’ এ ছাড়া বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবুর রহমান শামীমকে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে ও সতর্কতার সঙ্গে পালনের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, ‘এখন থেকে দলের চেয়ারপারসন যে সিদ্ধান্ত দেবেন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। দল যেভাবে চাইবে সেভাবে কাজ করব। ’ এদিকে ১৪ মে ঢাকা জেলার কর্মিসভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান সালাহউদ্দিন বাবু ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক সাক্ষাৎ করেন। কর্মিসভার বিস্তারিত ঘটনা তাকে জানান তারা। এ সময় খালেদা জিয়া বলেন, জেলা বিএনপির কর্মিসভায় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যের গায়ে বোতল ছুড়ে মারা হয়েছে। তাকে বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়নি। শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজশাহী টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, দুই দিনে মহানগর ও জেলা কর্মিসভায় যেসব অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানো হয়েছে তার নেপথ্যে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন ও জেলা নেতা দেলোয়ার হোসেন দুলুসহ একজন কেন্দ্রীয় নেতা। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও রাজশাহীর টিমপ্রধান গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘রাজশাহীতে যা হয়েছে তা আমরা প্রতিবেদন আকারে দলকে দেব। ’

Share

আরও খবর