৫ এপ্রিল, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মুক্তিপণের দাবিতে সাত বছরের শিশুকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে আশিক মন্ডল (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে আলাদা আলাদা ধারায় ডাবল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার মঙ্গলবার বিকেলে এ আদেশ দেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও আসামি আশিককে ১৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। রায় ঘোষণা শেষে তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

আশিক বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার পশ্চিম লুকোকলোনী দীঘিরপাড়া গ্রামের আকতার হোসেন ওরফে বাবুর ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৯ জুলাই সকালে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়তে ওই এলাকার রাশেদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তার ছেলে মেঘদাদ হোসেনকে (৭) নিয়ে বশিপুর ঈদগাহ মাঠে যান। নামাজ শেষে মাঠসংলগ্ন আনন্দ মেলায় মেঘদাদ খেলনা কিনতে যায়।

সেখান থেকে মেঘদাদ নিখোঁজ হয়। পরে রাশেদুলের মোবাইলে যোগাযোগ করে মেঘদাদকে ফিরে পেতে সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরদিন ৩০ জুলাই আবার ফোন করে তিন লাখ টাকা দাবি করে বলা হয় এ ঘটনা পুলিশকে জানালে ছেলের লাশ পাওয়া যাবে। পরে ২ আগস্ট আদমদীঘি থানায় এজাহার দায়ের করেন রাশেদুল।

এর পরদিন আসামি আশিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ শিশু মেঘদাদের লাশ উদ্ধার করে।

বশিপুর গ্রামের পরিত্যক্ত একটি গেঞ্জি মিলের ভেতরে মাটিতে পুতে রাখা অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। ওই সময় নিহত মেঘদাদের হাত ও মুখ বাঁধা অবস্থায় ছিল।

মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছিল। এরপর এই রায় ঘোষণা করা হলো।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি এন্তাজুল হক বাবু। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম।

Share

আরও খবর