১৫ ডিসেম্বর, বিনোদন ডেস্কঃ ঢাকার মঞ্চে যে গুটি কয়েক আঞ্চলিক ভাষার নাটক দর্শকদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে তার মধ্যে নাট্যদল ঢাকা পদাতিকের ‘পাইচো চোরের কিচ্ছা’ অন্যতম।

গ্রামীণ সংস্কৃতির পটভূমি কেন্দ্র করে আবর্তিত হওয়া গবেষণাধর্মী এই নাটকের গল্প সংগ্রহ, নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন কাজী চপল।

আগামী ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে খুলনার আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত এই নাটকটির ৫০তম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্দেশক কাজী চপল।

নাটকের পটভূমি খুলনা অঞ্চলের লোক সংস্কৃতিকে বেছে নেয়ার কারণ জানতে চাইলে কাজী চপল বলেন, ‘আমার মামা বাড়ি খুলনায়। আমি খুলনা অঞ্চলের লোক গান, নাটক দেখেই বড় হয়েছি। ঢাকায় আসার পর দেখলাম বাংলার লোক সংস্কৃতি কেন্দ্রিক কিছু নাটক নির্মিত হলেও খুলনা অঞ্চলের লোক সংস্কৃতি সেখানে অনুপস্থিত। কারণ ফোক ঘরাণার বেশির ভাগ নাটকই তখন নির্মিত হচ্ছিল ময়মনসিংহ গীতিকা নিয়ে। অথচ খুলনা অঞ্চলে রয়েছে লোক সংস্কৃতির বিশাল এক ভান্ডার। তখন আমি এই নাটকটি করার সিদ্ধান্ত নিই। মূলত এই নাটকের মাধ্যমে খুলনা অঞ্চলের তথা বাংলার শিকড়ের সংস্কৃতিকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছি।’

তবে নাটকটির অভিনয়িশিল্পীরা সবাই খুলনা অঞ্চলের নয়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘না না মোটেও তা নয়। এ নাটকের অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে ২-৩ জনের বাড়ি খুলনায়। অন্যদের বাড়ি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। বস্তুত তারা সবাই অনেক কষ্ট করে খুলনার ভাষাটা আয়ত্ত করেছে। এমনকি তাদেরকে খুলনা অঞ্চলের মানুষের হাঁটা-চলা, কথা বলার ধরণ, জীবন ধারণ পদ্ধতি সব বিষয়ে ধারণা লাভ করতে হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক মাসের অধ্যবসায় এবং রিহার্সেলের ফলেই তা সম্ভব হয়েছে।’

তবে এ নিয়ে কিছু মজার ঘটনাও আছে। একবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে একটি প্রদর্শনীর পর কিছু দর্শক আসে আমার সাথে দেখা করতে। তারা ভেবেছিল নাটকের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা সবাই খুলনা অঞ্চলের। তারপর তারা সবাই প্রশংসা করছিল যে, খুলনা থেকে এতগুলো মানুষ ঢাকায় এসেছে নাটক করতে। কিন্তু যখন তারা জানতে পারে নাটকের বেশীরভাগ অভিনয়শিল্পী খুলনা অঞ্চলের নয় তখন তারা খুব অবাক হয়েছিল। আরেকবার কলকাতার ফাইন আর্টস মিলনায়তনে আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল- নাটক প্রদর্শনী শেষে দর্শকরা আসন ছেড়ে উঠছিল না তাদের দাবি তারা নাটকের অভিনয়শিল্পীর সাথে একটু কথা বলবে কারণ বাংলার লোক সংস্কৃতিকে নাকি এর আগে এভাবে কাউকে মঞ্চে তুলে আনতে দেখেননি। একজন নির্দেশক হিসেবে এই ঘটনাগুলো আমাকে অনেক বেশী অনুপ্রাণিত করেছিল।’ বলেন চপল।

৫০তম মঞ্চায়ন প্রসঙ্গে নির্দেশক জানান, যেহেতু ৫০তম প্রদর্শনী তাই কিছুটা উদযাপন করবেন। তবে খুব বেশী আড়ম্বরপূর্ণ করার পরিকল্পনা নেই। প্রদর্শনী শেষে কেক কাটবেন তারা। দলের সবাইকে নিয়ে একটু আনন্দ-আড্ডা হবে। তবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হবে যদি দর্শক হলে এসে নাটকটি দেখেন। কারণ দর্শকদের সঙ্গে এই ৫০তম প্রদর্শনী উদযাপন করতে চান বলেও জানান তিনি।

নাটক নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে  তিনি বলেন, ‘নাটকটিতে খুলনা অঞ্চলের লোক সংস্কৃতির মাধ্যমে বাংলার শিকড়ের সংস্কৃতিকেই তুলে ধরতে চেয়েছি। যাতে করে নতুন প্রজন্ম বাংলার এই শিকড়ের সংস্কৃতি ভুলে না যায়। আমি এই নাটকটি মঞ্চায়নের মাধ্যমে সারা বিশ্বে বাংলার এই শিকড়ের সংস্কৃতিকে উপস্থাপন করতে চাই।’

৫০তম প্রদর্শনীতে বিভিন্ন চরিত্রে দেখা যাবে- সালাউদ্দিন রাহাত, কাজী শিলা, রিয়াজ আহমেদ, মাসুদ আহমেদ, জাকারিয়া কিরণ, শ্যামল হাসান, পিয়া, মুমু, তন্দ্রা, তন্নি, সম্রাট, সুমন, শাওন, লিটন, নিপা, জাহাঙ্গীর, কবির, কাজী আমিনুর, দেবাশীষ বড়ুয়া, সজল, সুমন দত্ত, আল আমিনসহ অনেককে।

২০১২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রথম মঞ্চস্থ হয় ঢাকা পদাতিকের এই নাটক। তারপর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়। ঝুলিতে জমা হয়েছে অসংখ্য গল্প।

Share

আরও খবর