২৭ নভেম্বর, অনলাইন ডেস্কঃ  রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় সামরিক আদালতে বিচার শুরু করেছে মিয়ানমার৷

সে দেশের সামরিক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে৷    

আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য মিয়ানমার যখন বিচারের মুখোমুখি সে সময় দেশটি এ উদ্যোগ নিল।

রোহিঙ্গাদের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতনের ঘটনার তদন্তের পর নিজস্ব আদালতে এই বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জাও মিন তুন৷

রোহিঙ্গাদের গণহত্যার অভিযোগ করে গত ১১ নভেম্বর মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে) বা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করেছে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া৷

আগামী ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানি হবে৷ সেখানে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে৷ পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসি-তেও মামলা করা হয়েছে, যদিও এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মিয়ানমার৷

আন্তর্জাতিকভাবে বিচারের এই উদ্যোগ নিজেদের সাবর্ভৌমত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে অভিহিত করে মিয়ানমার বলে আসছে তারা নিজেরাই সেসব অভিযোগ তদন্ত করবে৷

সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জাও মিন তুন বলেন, গুডার পাইন নামের একটি গ্রামে সৈন্য ও কর্মকর্তারা যথাযথভাবে সামরিক নির্দেশ পালন করেনি৷

এছাড়া সামরিক বাহিনী তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছে, ওই গ্রামের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সামরিক আইনে বিচার করা হচ্ছে৷

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের কক্সবাজারে শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দেয়া তথ্য ও মোবাইলে করা ভিডিওর পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারের গুডার পাইন গ্রামে অন্তত পাঁচটি গণকবর থাকার কথা জানিয়েছিল সংবাদ সংস্থা এপি৷

তবে মিয়ানমার তা অস্বীকার করে এসেছে। ২০১৭ সালে একটি গ্রামে ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যার দায়ে সাত সৈন্যকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়৷ এক বছরের কম সময়ের মধ্যে অবশ্য তাদের মুক্তি দেয়া হয়৷

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইনে ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে অভিযান চালায় সে দেশের সামরিক বাহিনী। তারা নির্মমভাবে রোহিঙ্গাদের হত্যা, নির্যাতন, নারীদের ধর্ষণ করে এবং তাদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেয়। 

সে সময় মিয়ানমার বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়।

Share

আরও খবর