৭ এপ্রিল, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রাজশাহী মেডিকেল কলেজে (রামেক) ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ছাত্রশিবির রামেক শাখার প্রাক্তন সভাপতি হেলালসহ চার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সংঘর্ষের সময় ছাত্রশিবিরের কর্মীরা চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

রাত আড়াইটা পর্যন্ত কলেজের নূর উন নবী হলে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ চাইনিজ কুড়াল ও জিহাদি বই জব্দ করেছে। পুলিশ ছাত্রশিবির রামেক শাখার সাবেক সভাপতি হেলালসহ চার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, শহিদ জামিল আখতার রতন হোস্টেলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে এমবিবিএস ৫২তম ব্যাচের র‌্যাগ ডে উপলক্ষে ছাত্রলীগ রামেক শাখার সভাপতি শফিকুল ইসলাম অপুর সঙ্গে ছাত্রশিবির নেতা রাকিবের তর্কবিতর্ক হয়। এ সময় শিবির নেতা রাকিব ঘোষণা দেন, র‌্যাগ ডে প্রতিরোধ করা হবে। ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা এ সময় প্রতিবাদ করলে উভয় সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ছাত্রলীগ সভাপতি অপু জানান, একপর্যায়ে ২৫ থেকে ৩০ জন ছাত্রশিবির নেতা-কর্মী ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকশ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী সংগঠিত হয়ে ছাত্রশিবিরকে প্রতিরোধ করেন। এ সময় ছাত্রশিবির নেতা-কর্মীরা আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে শহিদ জামিল আখতার রতন হোস্টেল ত্যাগ করে।

তিনি জানান, পালানোর সময় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা ধাওয়া দিয়ে ছাত্রশিবির রামেক শাখার সভাপতি হেলাল উদ্দিন ও রেটিনা কোচিং সেন্টারের ব্যবস্থাপক ছাত্রশিবির নেতা আরিফুল ইসলাম রাহাতকে ধরে ফেলে। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

এদিকে এ ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নূর উন নবী হোস্টেলে তল্লাশি চালায়। এ সময় শিবিরের সাথী তৃতীয়বর্ষের গোলাম রাব্বী এবং কর্মী একই বর্ষের মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। তল্লাশিকালে শিবিরের কলেজ শাখার বর্তমান সভাপতি শিমুলের কক্ষ থেকে চাইনিজ কুড়াল, জিহাদি বই ও মার্বেল জব্দ করে।

অভিযানে অংশ নেওয়া রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার ইবনে মিজান গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, রাত ২টার পর থেকে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত শিবির নেতা-কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিশেষ করে শহিদ জামিল আখতার রতন হোস্টেল থেকে ছাত্রশিবির নেতা-কর্মীরা চলে যাবার সময় গুলিবর্ষণের বিষয়টি স্পর্শকাতর। গুলিবর্ষণের সঙ্গে জড়িত শিবির কর্মীর পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

Share

আরও খবর