১৮ এপ্রিল, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা অনুষদের মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের গড়া সব ভাস্কর্য উল্টে রেখেছে ওই বিভাগেরই শিক্ষার্থীরা।

সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে চারুকলা অনুষদ চত্বরের ভাস্কর্যগুলো উল্টে ছড়িয়ে রাখে শিক্ষার্থীরা।

এদিকে রাতের আঁধারে ভাস্কর্য উল্টে রাখা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সারাদেশে তোলপাড় দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারুকলা অনুষদ চত্বরে মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্যের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের গড়া কয়েকশ’ ভাস্কর্য উল্টে রাখা হয়েছে।

অনুষদের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল সোমবার রাতের আঁধারে এগুলো উল্টে রাস্তা ও শিক্ষকদের চেম্বারসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। তবে কোনো ভাস্কর্য ভাঙা হয়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চারুকলা অনুষদের অধিকর্তা অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এসব ভাস্কর্য বহিরাগত দুর্বৃত্তরা উপড়ে ফেলেনি। মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাই উল্টে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ভাস্কর্য বিভাগের কয়েকজন শিক্ষর্থী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বানানো এ ভাস্কর্যগুলো এখানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে আছে। কিন্তু এগুলোর পরিচর্যা করা হয় না। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এই চত্বরে প্রাচীর নির্মাণের জন্য শিক্ষকদের নিকট দাবি জানালেও তা আজ পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়নি। প্রাচীর না থাকায় এর আগে রহিরাগতরা এসে বেশ কয়েকটি ভাস্কর্য ভেঙে ফেলেছে। তবে আমরা কোনো ভাস্কর্য ভাঙিনি। এগুলো সংস্কারের দাবিতে উল্টিয়ে রেখেছি। যাতে শিক্ষকরা দ্রুত সমস্যার সমাধান করেন। রাতে প্রায় ৩০-৪০ শিক্ষার্থী এসব ভাস্কর্য উল্টিয়ে ছড়িয়ে রাখে বলেও উল্লেখ করেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোস্তফা শরীফ আনোয়ার বলেন, ‘এ বিষয় নিয়ে আমরা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে জানতে পেরেছি, আমাদের বিভাগের ৬-৭ জন শিক্ষার্থী প্রতিবাদস্বরূপ এ কাজ করেছে। তবে এটি কোনো প্রতিবাদের ভাষা নয়।’

শিক্ষার্থীদের এমন কাজের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যে দাবি জানিয়েছে তার কোনো লিখিত ডকুমেন্ট নেই। ভাস্কর্য উল্টে ফেলার মাধ্যমে তারা দেশের সমগ্র শিল্পী সমাজকে আঘাত করেছে। তারা অন্যভাবে তাদের দাবি জানাতে পারতো। আর তারা যেসব দাবি জানিয়েছে, তা ভাস্কর্য উল্টে প্রতিবাদ করার মতো জঘন্য কাজের সঙ্গে যায় না। এক সময় শিক্ষার্থীরা তাদের অপরাধ বুঝতে পারবে।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Share

আরও খবর