১৫ এপ্রিল, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজছাত্রী মালদ্বীপের মডেল রাউধা আতিফের হত্যা মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়েছে।

পাশাপাশি রাউধার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা অপমৃত্যুর মামলাটিও তদন্ত করবে সিআইডি।

সিআইডির রাজশাহী বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে চাঞ্চল্যকর এ মামলা দুটি তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে সিআইডি। সিআইডির রাজশাহীর পরিদর্শক আসমাউল হককে মামলা দুটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, শুক্রবার সকালে সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা দুটি মামলারই কাগজপত্র আগের তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বুঝে নিয়েছেন। মামলা দুটি হলেও ঘটনা এক হওয়ায় সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা একটি ঘটনারই তদন্ত করবেন। এরপর তদন্তে যা পাওয়া যাবে, সে অনুযায়ী অভিযোগপত্র দাখিল হবে।

গত ২৯ মার্চ রাজশাহীর নওদাপাড়ায় ইসলামী মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেল থেকে রাউধার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রাউধা এ কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানায়, রাউধা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এরপর ঝুলন্ত লাশ নামিয়ে বিছানায় রাখা হয়েছিল।

এ ঘটনায় ওই দিনই কলেজ কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে নগরীর শাহমখদুম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে। নীল চোখের অধিকারী রাউধা মালদ্বীপের একজন উঠতি মডেল ছিলেন। মাত্র ২১ বছরের রাউধার ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতি।

রাউধার লাশের ময়নাতদন্তের পর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাকে রাজশাহীতে দাফন করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাউধা আত্মহত্যা করেছেন। এরপর মালদ্বীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তা রাজশাহীতে এসে ঘটনা তদন্ত করে যান। এরপর দেশে ফিরে গিয়ে তারা জানান, রাউধাকে হত্যার কোনো প্রমাণ তারা পাননি।

রাউধার মৃত্যুর ঘটনায় কলেজের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সে কমিটিও তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, রাউধা আত্মহত্যা করেছেন।

তবে গত ১০ এপ্রিল রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ রাজশাহীর আদালতে একটি হত্যামামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, রাউধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

এ মামলায় রাউধার সহপাঠী সিরাত পারভীন মাহমুদকে (২১) একমাত্র আসামি করা হয়েছে। সিরাতের বাড়ি ভারতের কাশ্মীরে। নিহত রাউধার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল খুব বেশি। সিরাতের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তাকে শুক্রবার পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না সে ব্যাপারেও কোনো মন্তব্য করছে না পুলিশ।

রাউধার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাটি তদন্ত করছিলেন শাহমখদুম থানার পরিদর্শক আনোয়ার আলী তুহীন। তবে অপমৃত্যুর মামলাটি তদন্ত করছিলেন রাজশাহী মহানগর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক রাশিদুল ইসলাম।

Share

আরও খবর