রমজান মাস, এই সময়ে প্রায়ই সবাই চেষ্টা করেন সারা দিন উপবাস রাখতে। কিন্তু হৃদরোগীদেরও অনেক বিধি-নিয়ম মেনে চলতে হয়। রমজান মাসে রোজাপালনের সময় ১৪-১৫ ঘণ্টা কোন প্রকার পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়। এ লেখার বর্তমান উদ্দেশ্য হল রমজান মাসের রোজা স্বাস্থ্যের উপর কি ধরনের প্রভাব ফেলে, হার্টের রোগে আক্রান্ত তারা রোযা রাখতে পারবেন কিনা সে বিষয়ে আলোকপাত করা।

রোজা রাখার কারণে শরীরে কি ধরনের পরিবর্তন হয়ঃ
অনেকের কাছে একটা জিজ্ঞাসা-রোজা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না উপকারী? সাধারণ অবস্থায় লিভারে ও মাংসপেশীতে যে গ্লুকোজ জমা থাকে যা শরীরকে শক্তির যোগান দেয়। রোজায় এগুলো ব্যবহার হয়ে যায়। এরপর শরীরে জমা চর্বি ব্যবহৃত হয়। রোজায় যতটুকু সময় আমরা না খেয়ে থাকি এ সময় শরীরের প্রোটিন শক্তির জন্য ব্যবহৃত হয় না। যার কারণে রোজায় শরীরে চর্বির পরিমাণ কমে যায়। কিন্তু শরীরের গঠন ঠিক থাকে।

রমজানে শারীরিক সমস্যা হয় মূলতঃ
• অসম খাওয়া দাওয়া।
• অতিরিক্ত খাওয়া দাওয়া।
• অপর্যাপ্ত ঘুম।

রমজান ও হৃদরোগ :
• হার্টের রোগীরা কি রোজা রাখবেন?
• যাদের এনজিওপ্লাস্টি করে হার্টে স্টেন্ট/রিং লাগানো আছে তারা কি রোজা রাখবেন?
• যাদের হার্টের বাইপাস অপারেশন হয়েছে তারা কি রোজা রাখবেন?
• হার্ট ফেইলুরের রোগীরা কি রোজা রাখবেন?
যাদের ঘন ঘন বুকের ব্যথা হয় এবং বার বার ওষুধ খাওয়া লাগে তাদের রোজা না রাখাই ভালো। যাদের হার্ট ফেইলুর আছে, শ্বাসকষ্ট হয় এবং অল্প ব্যবধানে ওষুধ সেবন করতে হয় তাদেরও রোজা রাখা জরুরি নয়। কিন্তু যাদের হার্টের সমস্যা স্থিতিশীল তারা চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে সতর্কতার সাথে রোজা রাখতে পারেন।
• যে সব হার্টের রোগীদের একই সাথে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরল থাকে রোজার মাসে তারা কম চিনি, কম লবণ ও কম চর্বিজাতীয় খাবারের মাধ্যমে তাদের রোগসমূহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
• বেশি ওজন ও ওবেসিটি হার্টের সমস্যা বাড়ায়। রোজা রেখে ওজন কমানের মাধ্যমে আমরা হার্টের সমস্যা কমাতে পারি।
• যারা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন কিন্তু ধূমপান ছাড়তে পারছেন না তারা রোজার মাধ্যমে ধূমপান পরিত্যাগের উদ্যোগ নিতে পারেন।
• হার্টের রোগীরা হতাশায় ভোগেন, রোজায় যে আত্মিক উন্নতি হয় তার মাধ্যমে তারা হতাশা থেকে মুক্ত হতে পারেন।

হার্টের রোগীদের জন্য কয়েকটি পরামর্শ :
হার্টের রোগী যারা রোজা রাখতে চান তারা আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন এবং রোজার শুরুতেই ডাক্তারের কাছে চেক-আপ করুন।
• প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ওষুধ সেবন করুন।
• রোজার বিধি নিষেধ পালন করে ধূমপানের অভ্যাস ভঙ্গ করুন।
• রোজার মাসে হালকা ব্যায়াম করতে পারেন যেমন ইফতারির আগে সামান্য হাটতে পারেন।

ডঃ এন কে নাতাশা।
অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ হেল্‌থ সায়েন্স।
সহকারী পরিচালক, দেস ফ্রিসকা।
তারিখঃ ৫/০৬/২০১৭

Share

আরও খবর