৩০ এপ্রিল, অনলাইন ডেস্কঃ ছোটবেলা থেকেই আমরা চাঁদের সঙ্গে পরিচিত। গরমের দিনে উঠোনে বসে প্রবল জ্যোৎস্নার ভেতর বড়দের কাছ থেকে চাঁদকে নিয়ে দু-চারটি গল্প শোনেনি এমন লোক পাওয়া মুশকিল। সে সময়ে চাঁদের দিকে তাকিয়ে কত কল্পনাই না আসতো।

এরপর বড় হয়ে আমরা জেনেছি চাঁদ পৃথিবীর একটি উপগ্রহ। নিজের অক্ষের ওপর পাক খাওয়ার পাশাপাশি পৃথিবী যেমন সূর্যকে কেন্দ্র করে তার চারিদিকে ঘুরে থাকে, চাঁদও তেমন নিজের অক্ষের ওপর পাক খাওয়ার পাশাপাশি পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরে থাকে। কিন্তু এটা নিয়ে কৌতূহল জাগা স্বাভাবিক যে, নিজের অক্ষের ওপর পাক খেলে পৃথিবী থেকে সবসময়ই আমরা কেন চাঁদের একপাশ দেখি। চলুন তাহলে সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

এটা সত্য যে চাঁদ গোলাকার, অনেকটা চাকতির মতো এবং নিজ অক্ষের ওপর পাক খেতে খেতে এটি পৃথিবীর চারিদিকে আবর্তিত হয়। কিন্তু নিজের অক্ষের ওপর পাক খেলেও পৃথিবী থেকে আমরা সবসময় চাঁদের এক পাশই দেখি। কারণ চাঁদ পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরার পাশাপাশি তার নিজের অক্ষের ওপরে যে ঘোরে, এই ঘোরা বৃত্তাকার, কিংবা উপবৃত্তাকারভাবে না, বরং এটি ঘোরে সমলয় বা যুগপৎভাবে। অর্থাৎ অবস্থান বদলানোর সাপেক্ষে ঘূর্ণন। এছাড়া পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরতে চাঁদের যে সময় লাগে, নিজের অক্ষের ওপরে পাক খেতেও চাঁদের একই সময় লাগে। এই আশ্চর্যমিল অন্য কোনো গ্রহের উপগ্রহদের বেলায় দেখা যায় না। এসব কারণেই পৃথিবী থেকে চাঁদের একটা পিঠই সবসময় আমাদের চোখে পড়ে।

নিজের চারিদিকে এবং পৃথিবীর চারিদিকে একবার ঘুরতে চাঁদের সময় লাগে প্রায় ২৭ দিন, ৭ ঘন্টা, ৪৩ মিনিট এবং ১১ সেকেন্ড আর সমসাময়িক আবর্তনের ফলে পৃথিবী থেকে এ সময়টি ২৯.৫ দিন হিসেবে গণনা করা হয়। পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘোরার সময়ে একটি ঘণ্টা আবর্তনের মধ্যে অর্ধেক ডিগ্রি দূরত্ব করে দূরত্ব অতিক্রম করে চাঁদ। এইভাবে পশ্চিম থেকে পূর্বে পৃথিবীকে কেন্দ্র করে যে অক্ষরেখায় চাঁদ আবর্তন করে থাকে, সেই অক্ষরেখায় সে একদিন বা ২৪ ঘন্টায় ১৩°কোণ অতিক্রম করে। তবে এই সময়ে চাঁদের কক্ষপথের উৎকেন্দ্রিকতা থেকে যে ক্ষুদ্র পরিবর্তনের সৃষ্টি হয় তার কারণে পূর্ণিমার সময়ে পৃথিবী থেকে চন্দ্রপৃষ্ঠের শতকরা প্রায় ৫৯ ভাগ দেখা যায়।

চাঁদের যে পৃষ্ঠটি পৃথিবী থেকে দেখা যায় তাকে নিকট পাশ বলা হয় এবং এর বিপরীত পৃষ্ঠটিকে বলা হয় দূর পার্শ্ব। আর চাঁদের চাঁদের যে গোলার্ধে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যের আলো পৌঁছায় না সে গোলার্ধকে অন্ধকারাচ্ছন্ন পার্শ্ব বলা হয়। ১৯৫৯ সালে প্রথমবারের মতো চাঁদের অপর পৃষ্ঠের ছবি তোলে সোভিয়েত ইউনিয়নের লুনা-৩ নামক নভোযান। তবে চাঁদের অপর পৃষ্ঠে কালো দাগের সংখ্যা কম। পৃথিবী থেকে চাঁদের বুকে যে কালো রেখা দেখা যায় তাকে বলা হয় ‘মারিয়া’। সাহিত্যে একে চাঁদের কলঙ্ক বলে আখ্যায়িত করা হয়। বিশেষ করে পূর্ণিমার সময় এই দাগ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। প্রাচীনকালে জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ এই দাগগুলোকে মনে করতেন চাঁদের বুকে বয়ে যাওয়া সাগর। যে কারণে নাম দেওয়া হয় ‘মারিয়া’। এই ‘মারিয়া’ শব্দের একবচন হল ‘মারে’। লাতিন ভাষায় যার অর্থ হল সাগর। তবে এখন আবিষ্কৃত হয়েছে চাঁদে বাতাস কিংবা পানি কোনোটিই নেই। ফলে সেখানে জীবের অস্তিত্ব থাকাও প্রায় অসম্ভব।

এখনো পর্যন্ত চাঁদ সম্পর্কে অনেক কিছুই রয়েছে আমাদের কাছে অজানা। তবে ভবিষ্যতে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার কারণে হয়তো আমরা পৃথিবীর এই একটিমাত্র উপগ্রহ সম্পর্কে আরও জানতে পারবো।

ভিডিওতে চাঁদের ঘূর্ণন দেখুন :

তথ্য সূত্র :
*সৌরজগৎ : সুব্রত বড়ুয়া,
*মুন ফ্যাক্ট শিট : ড ডেভিড উইলিয়ামস
*উইকিপিডিয়া।

Share

আরও খবর