৪ জানুয়ারি, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালি ও গুলশান-১ নম্বরে ডিসিসি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে বুধবার সকাল থেকেই যানজটের কবলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় রাজধানীবাসীকে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে সংগঠনটি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবারের মতো এবারো র‌্যালি বের করে সংগঠনটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমাবেশ শেষে র‌্যালি শুরু হয়। র‌্যালিটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা শাহবাগ, মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট সংলগ্ন সার্ক ফোয়ারা, প্রেসক্লাব, পল্টন হয়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শেষ হয়। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে র‌্যালির সমাপ্তি করেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে র‌্যালির শুভ উদ্ধোধন ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

র‌্যালিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, তিতুমীর কলেজসহ ঢাকা মহানগর উত্তর দক্ষিণের ছাত্রলীগের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী ব্যানার, ফেস্টুন, ব্যান্ড পার্টি, পিক-আপ ভ্যান, সাউন্ড বক্সসহ অংশ নেন। ছাত্রলীগের এ র‌্যালির কারণে সৃষ্টি হয় বড় যানজটের।

অন্যদিকে মঙ্গলবার গুলশান-১ নম্বরে ডিসিসি মার্কেটে আগুনের কারণে সেখানে বুধবারও রাস্তা বন্ধ করে রাখা হয়। ফলে সকাল থেকে মহাখালী-গুলশান, গুলশান-২ থেকে গুলশান-১ ও হাতিরঝিল এবং বাড্ডা লিংক রোড থেকে গুলশান-১ , রামপুরা, শাহবাগ, মৎস্যভবন, জাতীয় প্রেসক্লাব, গুলিস্তান, ফার্মগেট, বাংলামোটর, কাকরাইল, বিজয়নগর, পল্টনসহ বিভিন্ন সড়কে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী।

মৎস্য ভবন সিগনালে মিরপুরগামী কয়েকজন যাত্রী বলেন, ছাত্রলীগ এখন ৬৯ বছওে পদার্পণ করেছে। তারপরও তারা সময়োপযোগী কর্মসূচি গ্রহণ করেনি। এই র‌্যালি সেকেলের ট্রেন্ড। ছাত্রলীগকে এখন ডিজিটাল কর্মসূচি গ্রহণ করা দরকার। এসব নিয়ে কি সংগঠনের নীতি-নির্ধারকরা ভাবেন না? র‌্যালির নামে মানুষের ভোগান্তির কোনো কর্মসূচির দরকার নেই।

এ ব্যাপারে মৎস্য ভবন সিগনালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর এখন র‌্যালি কর্মসূচি থেকে বের হয়ে আসা উচিত। যুগ এখন বদলে গেছে। এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমেই অনেক কর্মসূচি গ্রহণ করা যায়। এই ব্যাপারে কারও কোনো ভাবনা নেই। এই যানজটের প্রভাব আজ সারা দিনই ঢাকাবাসীকে ভোগাবে।

Share

আরও খবর