২০ জানুয়ারি, বিনোদন ডেস্কঃ ওপরে আঙুল তুলে যম বলেন, ‘আমি সেই শুকতারার ওপর থেকে এসেছি। শুকতারা থেকে ঢাকা আসতে সময় লেগেছে দুই মিনিট। আর আপনার বাসায় পৌঁছাতে সময় লাগল পাক্কা দুই ঘণ্টা। এত জ্যাম, গরম- উফ অসহ্য! আপনারা এই শহরে থাকেন কীভাবে?’

অনেকটা ভয় পেয়ে রেজওয়ান সাহেব বলেন, ‘আমাকে কোথায় নিয়ে যেতে এসেছ?’ জবাবে যম বলেন, ‘আপনার ক্রেডিট লিমিট শেষ। আই মিন আপনাকে ওপরে নিয়ে যেতে এসেছি।’ এ কথা শুনে উঠতে গিয়ে উঠতে পারেন না রেজওয়ান সাহেব। দৃশ্যটি ‘যম হজম’ নামে একক একটি টেলিভিশন নাটকের।

স্যাটায়ারধর্মী গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে নাটকটি। এটি রচনা, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন ঈসা আল জামী রাহী। নাটকটির রেজওয়ান চরিত্রে অভিনয় করেছেন গুণী অভিনয়শিল্পী শহীদুজ্জামান সেলিম। আর যমের চরিত্রে দেখা যাবে হিমে হাফিজকে। সেলিমের স্ত্রীর চরিত্রটি রূপায়ন করেছেন নওশীন।

নাটক প্রসঙ্গে কথা হয় পরিচালক ঈসা আল জামী রাহীর। তিনি বলেন, ‘চার বছর আগে এই নাটকের ভাবনা মাথায় আসে। চিত্রনাট্য চার বছর আগেই তৈরি করেছিলাম। আমি যখন ঢাকা এফএমে ছিলাম তখন ওখানে অডিও নাটক হিসেবে প্রচার হয়। এটি ঢাকা এফএমে প্রচারিত আমার লেখা প্রথম নাটক ছিল। তখন ভিজ্যুয়ালি তুলে ধরার কথা ভেবেছিলাম। অবশেষে কাজটি শেষ করলাম। খুব সাধারণভাবে শুটের কাজ করেছি। সম্পাদনার কাজ বাকি আছে। দেখা যাক, চূড়ান্তভাবে কী দাঁড়ায়।’

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে ঈসা আল জামী রাহী বলেন, ‘কাজটি নিয়ে সেলিম ভাই আমাকে খুব উৎসাহ দিয়েছেন। গল্পের সারাংশ পড়ার পরই কাজটি করার জন্য তিনি রাজি হয়ে যান। এবারই প্রথম তার সঙ্গে কাজ করলাম। শুটিংয়ের সময় একটি বিষয় আমার খুব ভালো লেগেছে- সেলিম ভাইয়ের পুরো চিত্রনাট্যের সংলাপ মুখস্থ ছিল। শুধু তাই নয় শুটিংয়ের সময় দেখি, নওশীন ও হিমে হাফিজও সংলাপ মুখস্থ বলে যাচ্ছেন।’

নাটকটির মূল চরিত্র তিনজন। এ ছাড়াও কয়েকটি ছোট চরিত্র রয়েছে। সম্প্রতি নগরীর উত্তরার মন্দিরা শুটিং হাউসে দৃশ্যধারণের কাজ শেষ হয়েছে। খুব শিগগিরই বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে নাটকটি প্রচার হবে বলেও জানান এ নির্মাতা।

নির্মাতা ঈসা আল জামী রাহী লোক নাট্যদলের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে যুক্ত। তবে নির্মাণ ও লেখায় সিদ্ধহস্ত রাহী। তিনি ইউনিসেফের প্রজেক্টে ৩০টি শর্ট ফ্লিল্ম নির্মাণ করেছেন। এ ছাড়া ঢাকা এফএম ও পিপলস রেডিওতে তার লেখা নাটক নিয়মিত প্রচার হয়।

Share

আরও খবর