জেলহত্যা দিবস৩ নভেম্বর, ডেস্ক রিপোর্টঃ যথাযোগ্য মর্যাদায় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে জেলহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। দেশবাসী আজ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীরসেনানী ও জাতীয় ৪ নেতাকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত এই কালো অধ্যায়টিকে স্মরণ করেছে।

সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বঙ্গবন্ধু ভবন ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে দলের শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি শুরু হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে সামনে রক্ষিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে দলীয় প্রধান হিসাবে বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। পরে দোয়া ও মোনাজাত অংশনেন এবং নীরবে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন।

এ সময়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, এডভোকেট সাহারা খাতুন, কাজী জাফরুল্লাহ, ড. আব্দুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ ফারুক খান, নুরুল ইসলাম নাহিদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, ডা. দীপুমণি, এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, একেএম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি ও বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় নিহত সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান স্মরণে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। পরে আওয়ামী লীগ নেতারা বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদ ও জেলখানায় শহীদ জাতীয় নেতাদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। বনানী কবরস্থানে পবিত্র ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া সকাল সাড়ে আটায় ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর পুত্র এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের যে সেলে জাতীয় চারনেতাকে হত্যা করা হয়েছিল সেই স্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন কালে আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য এডভোকেট সাহারা খাতুন, তথ্যমন্ত্রী এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যস্থাপনা সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না এলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার যেমন বিচার হতো না তেমনি জাতীয় চারনেতার হত্যাকান্ডেরও বিচার হতো না। তিনি বলেন, পাহাড়সম বাধা দূর করে এবং নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতার হত্যার বিচার করেছেন।

নাসিম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করার জন্য এবং দেশকে নেতৃত্ব শূন্য করার জন্য স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সাথে হাত মিলিয়ে বেঈমান খন্দকার মোস্তাক এবং খুনি জিয়াউর রহমান জাতীয় চারনেতাকে হত্যা করেছিল।

জাতীয় চারনেতার মধ্যে এ এইচ এম কামারুজ্জানকে রাজশাহীর কাদিরগঞ্জে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সেখানেও শ্রদ্ধা নিবেদন, মিলাদ মাহফিল, র‌্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, এনামুল হক এমপি, আব্দুল ওয়াদুদ দারা এমপি, আয়েন উদ্দিন এমপি, বেগম আখতার জাহান এমপি, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।

শাহরিয়ার আলম বলেন, জেলহত্যা দিবস বাঙ্গালী জাতির জীবনে বঙ্গবন্ধু হত্যান্ডের পর সবচেয়ে কলঙ্ক জনক অধ্যায়। আর এ হত্যাকান্ডের উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করা।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর জাতীয় চারনেতাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিমর্মভাবে হত্যা করা হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের সঙ্গে নির্মমভাবে হত্যা করার পর জাতীয় চারনেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, এ এইচ এম কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীকে গ্রেফতার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। পঁচাত্তরের ৩ নভেম্বর তাদের কারাগারের সেলের অভ্যন্তরে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

এছাড়াও কুড়িগ্রাম, নড়াইল, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, পাবনা, রাজশাহী, খুলনা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, নোয়াখালী, বরিশাল, সিলেট, নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় জেলহত্যা দিবস পালিত হয়েছে।

Share

আরও খবর