৫ নভেম্বর, স্পোর্টস ডেস্কঃ মাহমুদউল্লাহর শটটা সীমানা পার হওয়ার পর রাতের আকাশে তাকালেন মুশফিক। সৃষ্টি কর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের পর মাহমুদউল্লাহকে জড়িয়ে ধরলেন। এরপর বাতাসে ঘুষি ছুঁড়লেন।

ঠিক তিন বছর আগে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ জয়ের আগে এমন উল্লাসে মেতে সমলোচিত হয়েছিলেন। সেদিন থেকেই জেদ করেছিলেন, ভারতের বিপক্ষে সুযোগ পেলে দেশকে বড় উৎসবে ভাসাবেন।  মুশফিক পেরেছেন। জেদি মুশফিক পূরণ করেছেন তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন! ডানপিঠে ছেলেটা দিল্লিতে বেঙ্গালুরুর দুঃস্মৃতি মুছে দিয়ে বাংলাদেশকে উল্লাসে ভাসিয়েছেন। দিয়েছেন ক্রিকেটে মহাপরাক্রমশালী ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি জয়ের স্বাদ। 

ম্যাচ জয়ের নায়ক পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে মন জয় করেছেন ভারতের সমর্থকদেরও।  কষ্ট করে মাঠে আসায় কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তাঁদেরকে। তাতে মুশফিক পেয়েছেন করতালি।  ম্যাচসেরার পুরস্কার নেওয়ার পর মুশফিক বলেন,‘আমরা অনেক দর্শকের উপস্থিতিতে ম্যাচটি খেললাম। খুবই ভালো লাগছে তাদের উপস্থিতিতে। ’ (দর্শকদের করতালি)

‘দলের প্রয়োজনে আমাকে আজ বড় একটি ইনিংস খেলতেই হতো।  এরকম ইনিংসের থেকে বেশি কিছু আশা করা যায় না।  আর ভারতের মাটিতে ভারতকে হারানোর স্বাদ ভিন্ন।  এটা (ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার দেখিয়ে) আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। ’

‘মাঠে সৌম্য ও আমার মধ্যে কথা হচ্ছিল।  আমাদের দুজনের পরিকল্পনা ছিল ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত টেনে নেব।  আমাদের পরিকল্পনা ছিল যেকোনো একজন পেসারকে আমরা টার্গেট করে ওই ওভারে ১৫-২০ রান তুলে নেব।  কারণ স্পিনাররা ভালো করছিল এবং তাদের আক্রমণ করা কঠিন ছিল।’

‘আমি শেষ করে আসতে পারায় খুশি হয়েছি। পরিণত একজন ক্রিকেটার হতে এখনও আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।  আশা করছি আগামীতে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিটি ম্যাচে আমি আমার সর্বোচ্চটা উজার করে দিতে পারব।’

টি-টোয়েন্টিতে এ নিয়ে চতুর্থবার ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন মুশফিক।  ভারতের বিপক্ষে প্রথম।  বলার অপেক্ষা রাখে না, দিল্লির সবুজ গালিচায় পাওয়া ম্যাচসেরার ট্রফিটি শোকেজে বিশেষ জায়গা করে নেবে।

Share

আরও খবর