মান্না১৭ ফেব্রুয়ারি, বিনোদন ডেস্কঃ চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় মুখ মান্না না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার আট বছর পূর্ণ হল আজ। ২০০৮ সালের এ দিনে সমগ্র দেশবাসীকে কাঁদিয়ে মান্না চলে যান সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে। সেদিনের সেই দুঃসংবাদটা অনেকে আজও মেনে নিতে পারেনি। আগের দিন মান্নার প্রিয় কর্মস্থল এফডিসি থেকে হাসিমুখে সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় যান তিনি। সকালবেলা জানা গেল হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন মান্না। এ খবরটা শুনেই চলচ্চিত্র জগতের সকলে বিস্মিত ও অবাক হন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে উৎকণ্ঠা। কারণ মান্না তখন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে। তার এমন সংবাদে চলচ্চিত্র জগতের প্রিয় মুখগুলো ছুটতে থাকেন হাসপাতালে। কারণ এ দুঃসংবাদের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না কেউ। তার পরের ঘটনাগুলো সকলেরই জানা। এফডিসিজুড়ে শুধু নয় সারা দেশজুড়ে মান্নার মৃত্যু বয়ে আনলো শোকের ছায়া। অনেক ব্যবসাসফল ছবির এ নায়ককে আজও একইভাবে মনে রেখেছেন ভক্তরা। মান্নার মৃত্যুর খবরে সবার চোখে মুখে অভিব্যক্তি একটাই, সব শেষ। মান্নার চলে যাওয়ায় চলচ্চিত্রের সব শেষ না হয়ে গেলেও সব শেষ হওয়ার পথে। এক শাকিব খান একা টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। তাই তো আজও চলচ্চিত্রের শুটিং ডাবিং থেকে শুরু করে নেতৃত্ব আন্দোলন যে কোন ভাল বিষয়েই উঠে আসে মান্নার নাম। আজও চলচ্চিত্রাঙ্গনের মানুষেরা মান্নার অভাবটা প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করেন। মান্নাবিহীন যে কোন আন্দোলনই যেন গতিহারা, মান্নাবিহীন পুরো চলচ্চিত্রটাই কেমন যেন ছন্নছাড়া। চলচ্চিত্রের অনেকে এখনও আফসোস করে অকপটে স্বীকার করেন, মান্না থাকলে এমনটি হতো, কিংবা মান্না থাকলে এমনটি হতো না। কারণ, মান্না শুধু একজন নায়ক কিংবা অভিনয় শিল্পীই ছিলেন না। তিনি ছিলেন আপাদমস্তক একজন সিনেমাপ্রেমী মানুষ। দর্শকদের ভালবাসা পাওয়া একজন শিল্পীর জন্য যা সবচেয়ে বড় পাওয়া। মান্না এ ভালবাসা এত বেশি পেয়েছেন যা হিসাব করে বলা যাবে না। তাই তো তার অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বলছেন কে বলে মান্না নেই? মান্না আছেন এবং থাকবেন সবার হৃদয়ে।

১৯৬৪ সালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন চিত্রনায়ক মান্না। তার আসল নাম এস. এম. আসলাম তালুকদার। ১৯৮৪ সালে এফডিসি আয়োজিত ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রমের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে আসেন তিনি। এরপর থেকে একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে সেরা নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

মান্না মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বরত ছিলেন। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র তওবা (১৯৮৪)। জীবদ্দশায় মান্না প্রায় তিন শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার প্রাপ্ত এই নায়ক একজন সফল প্রযোজকও।

মান্না অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে- ‘সিপাহী’, ‘যন্ত্রনা’, ‘অমর’, ‘পাগলী’, ‘দাঙ্গা’, ‘জনতার বাদশ ‘, ‘লাল বাদশা’, ‘আম্মাজান’, ‘দেশ দরদী’, ‘অন্ধ আইন’, ‘স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ’, ‘অবুঝ শিশু’, ‘মায়ের মর্যাদা’, ‘মা বাবার স্বপ্ন’সহ আরও অনেক।

শিল্পী সমিতিতে দোয়া মাহফিল
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মান্নার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মান্নাসহ ফেব্রুয়ারিতে যেসব শিল্পী মারা গেছেন তাদের জন্যও আজ কোরআনখানি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে শিল্পী সমিতি। এফডিসির আর্টিস্ট স্টাডি রুমে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে (বাদ আসর) উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Share

আরও খবর