১৮ জানুয়ারি, অনলাইন ডেস্কঃ রাজনৈতিক নেতারাই নিয়ন্ত্রণ করছেন মাদক-বাণিজ্য। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে মহানগর, জেলা, উপজেলা, ওয়ার্ড, এমনকি ইউনিট পর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মী-সমর্থক সরাসরি মাদক কেনাবেচা করছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ের কাউন্সিলর থেকে শুরু করে ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, জাতীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদক কেনাবেচাসহ সরবরাহ কাজে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে শুরু করে রাজধানী ঢাকা, এমনকি গ্রাম-পাড়া-মহল্লা পর্যায়েও মাদকের সরবরাহ, কেনাবেচা চলছেই।

সর্বনাশা নেশা ইয়াবার বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া টেকনাফের (কক্সবাজার) সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি গ্রেফতার বরণসহ জেলহাজতও ঘুরে এসেছেন। মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী কক্সবাজার এলাকায় ইয়াবার কারবারে যুক্তদের তালিকায় সরকারি দলের এমপি আবদুর রহমান বদিরই নয়, তার আপন দুই ভাই ও দুই সৎ ভাইয়ের নামও রয়েছে। ইয়াবা পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত টেকনাফ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও আবদুর রহমান বদির এপিএস জাহেদ হোসেন জাকুসহ ছয়জন ইতিমধ্যে ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। টেকনাফ ছাড়া যশোরের সীমান্ত এলাকায়ও মাদক পাচারের সঙ্গে স্থানীয় এক এমপি এবং চৌগাছার এক শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার নাম উঠে এসেছে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে হেরোইন কারবারে এগিয়ে আছে পৌর আওয়ামী লীগ নেতার ভাই- ভাতিজার গ্রুপ। সেখানে ওমর আলী গ্রুপ, আবদুল মালেক গ্রুপ, জহুরুল গ্রুপ— এমন নানা নামের নানা গ্রুপ মাদক-বাণিজ্যে সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছে। কুমিল্লা জেলায় প্রতি মাসে ২০০ কোটি টাকার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন আটজন প্রভাবশালী নেতা। মাদক-বাণিজ্যের লাভ-ক্ষতি লেনদেনের ক্ষেত্রে সরকারদলীয়, বিরোধীদলীয় নেতাদের চমৎকার বোঝাপড়া রয়েছে। সীমান্ত গলিয়ে মাদকদ্রব্যাদি আমদানি, সেগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বিঘ্নে সরবরাহসহ পাইকারি ও খুচরা কেনাবেচা পর্যন্ত তারা নিয়ন্ত্রণ করছেন। কুমিল্লা থেকেই দেশের অভ্যন্তরে অন্তত ১০টি জেলায় সরাসরি মাদক সরবরাহ করা হয়।

কক্সবাজার, উখিয়া, টেকনাফে স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা সরাসরি সম্পৃক্ত থাকায় মাদক চোরাচালানিরা দিনের পর দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। চোরাচালান দমনে প্রশাসনের অব্যাহত চাপে গুটিকয় চুনোপুঁটি চোরাকারবারি ধরা পড়লেও রাঘব-বোয়ালরা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। কক্সবাজার, কুমিল্লা, যশোরসহ ২০টি সীমান্ত জেলাতেই অভিন্ন অবস্থা বিরাজ করছে। সর্বত্রই জেলার প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাদক-বাণিজ্য পরিচালনা করে চলেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পৃথক মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায়ও রাজনৈতিক নেতাদের নাম উঠে এসেছে। থানা পর্যায়ের তালিকায়ও শীর্ষ পাঁচজনই হচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব ধরনের ধরপাকড়ের ক্ষেত্রে প্রথম পাঁচ-সাতজনকে বাদ রেখেই অভিযান পরিচালনা করা হয়ে থাকে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ওষুধ-বাণিজ্যের আড়ালে বিপুল পরিমাণ রেকটিফায়েড স্পিরিট বা বাংলা মদ বাজারে ছাড়া হচ্ছে। মোহাম্মদপুরে ইয়াবার ডিলার জিপু গড়ে তুলেছেন এই মাদকটির শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। পল্লবীতে এমপির ছোট ভাই আলী মোল্লা এক ডজন মাদক ব্যবসায়ীকে নিয়ে আলাদা সাম্রাজ্য চালাচ্ছেন বাধাহীনভাবে। কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরার বাসিন্দা ও আনন্দবাজার বস্তি এলাকার কোটিপতি হেরোইন বিক্রেতা সৈয়দ আলীও নিজের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সম্প্রতি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। স্ত্রী তারা বানুও তার হেরোইন ব্যবসার দোসর। খিলগাঁও এলাকায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয়ে সব ধরনের মাদক ব্যবসার শেল্টার দিচ্ছেন এক নূর মোহাম্মদ। মানিকনগরে যুবদল নেতা শাহনেওয়াজের নেতৃত্বে মাদক ব্যবসায়ীরা দাপুটে জোট গঠন করেছে। সবুজবাগের বৌদ্ধমন্দির এলাকায় ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করছেন স্থানীয় আরেক ছাত্রলীগ নেতা। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণে ক্ষমতাসীন দলের একশ্রেণির নেতা-কর্মী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছেন। তারা ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। নিজেরাও লোকজন দিয়ে আড়ালে থেকে মাদক ব্যবসা করাচ্ছেন। পুলিশ জেনেও কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আশকারা দিচ্ছে। বিনিময়ে পাচ্ছে মাসোহারা।

সম্প্রতি ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী মহানগরসহ অন্য জেলা-উপজেলায় ইয়াবার আশঙ্কাজনক বিস্তার ঘটেছে। অল্প দিনে বিপুল বিত্তের মালিক বনে যেতে এ ব্যবসার আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের একশ্রেণির সদস্য। এতে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে সরকারের। অথচ সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করা হয়েছে।

নেতাদের হাতে মাদক-বাণিজ্যের চাবি : রাজধানীর রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের অনেকে সেবনে যেমন এগিয়ে, মাদক ব্যবসায়ও তারা বেশ সফল। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক তালিকায় সাড়ে তিন হাজার পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে অন্তত ৭০০ জনকেই নেতা-কর্মী বলে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া তালিকায় ১২০০ দাগি আসামির নাম রয়েছে। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ছত্রচ্ছায়ায় মাদক-বাণিজ্য অব্যাহত থাকায় আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে প্রশাসনকে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মেট্রো কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষমতাধর ব্যক্তি এবং সরকারি দলের লোকজনের মদদে অনেক স্থানে মাদক ব্যবসা চলছে। এ কারণে মাদক-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র জানায়, মতিঝিলের ক্লাবগুলোতে জুয়ার পাশাপাশি এখন মাদকের আখড়া বসছে রাজধানীর এক যুবলীগ নেতার প্রত্যক্ষ মদদে। তবে মতিঝিল-দিলকুশার অফিসপাড়াসহ আশপাশে ইয়াবা-ফেনসিডিল ব্যবসার প্রধান নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছেন শ্রমিক লীগের আবুল কালাম আজাদ। পুলিশের পাহারায় তার অস্ত্রবাজ ক্যাডাররা মাদকের চালান খালাস এবং তা রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে সরবরাহ করে থাকে। একইভাবে রমনা ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কেন্দ্রীয় এক ছাত্রলীগ নেতার সহযোগিতায় ইয়াবা-ফেনসিডিলের ব্যবসা করছেন টুটুল ও মিঠু। সেগুনবাগিচায় ফরিদপুর ম্যানসনের ওপরে রিপন নামে কথিত ছাত্রলীগ নেতার মাদকের আসর কোনোভাবেই বন্ধ যাচ্ছে না।

গুলশানে সি-সেল বারের ওপর মিনিবার চলছে রফিক নামের সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতার মাধ্যমে। গুলশানের ৪৩ নম্বর রোডসহ কয়েকটি এলাকায় অনুমোদনহীন বার চলছে এক মন্ত্রীর ছেলের নামে। ভাটারা থানার মহল্লা পর্যায়ে শাহীন, আল আমিন, রুবেল, গুঁজা জাহাঙ্গীর, জামাই হবিসহ ২০-২২ জন মাদক ব্যবসা চালাচ্ছেন যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের পরিচয়ে। এভাবেই রাজধানীর সর্বত্র ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় অর্থলোভী নেতা এখন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীদের রক্ষাকবচ হয়ে কাজ করছেন। অতি সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বেরিয়ে আসে ওই জেলার ২৭ জন পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক রাজনৈতিক নেতার তত্ত্বাবধানে মাদক-বাণিজ্য গড়ে ওঠার নানা চিত্র।

চিঠির তথ্যমতে, সিদ্ধিরগঞ্জের মাদক ব্যবসায় সহায়তা করেন থানার এসআই আলেক ও তুষার। পুলিশের পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন থানা যুবলীগের সভাপতি মতিউর রহমান মতি ও যুবলীগ নেতা শহিদুল্লাহ ওরফে কালা মানিক। সিদ্ধিরগঞ্জের এনায়েতনগর, কুমিল্লাপট্টি, গোদনাইল পাঠানটুলি, জেলপাড়া পুল, আদমজী ইপিজেড, মুক্তি সরণি, চট্টগ্রাম রোড ও ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকা মাদক স্পট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। কালা মানিকের সহযোগীদের মধ্যে কেটু সুমন, দেলোয়ার হোসেন দুলু, ডাকাত মাসুম অন্যতম। দেলোয়ার সম্প্রতি মাদকসহ গ্রেফতার হলেও প্রভাবশালী মহলের তদবির চাপে দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসেন এবং এর পর থেকে পুলিশের সোর্স পরিচয়ে মাদক ব্যবসা অব্যাহত রেখেছেন।

শুধু সরকারি দলের নেতারাই নন… : মাদক বাণিজ্যে শুধু সরকারি দলের নেতা-কর্মীরাই নন, বিরোধী দলের নেতারাও অনেক স্থানেই মাদকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে চলেছেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় সরকারদলীয় এমপি ও তার ভাই-ভাতিজারা ইয়াবার আমদানি ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করলেও ঢাকায় ইয়াবা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন বিএনপি নেতা আমির হোসেন আমির। রাজধানীর একটি থানা কমিটির দায়িত্বশীল নেতা আমির হোসেন আমির এখনো মাদক সাম্রাজ্যের সবচেয়ে দাপুটে অধিপতি হয়ে আছেন। মাত্র সাত-আট বছর আগেও পরিবহনের লাইনম্যান হিসেবে রাস্তায় লাঠি হাতে ঘুরে বেড়ানো আমির হোসেন রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তার তত্ত্বাবধানেই রাজধানীর বিরাট এলাকাজুড়ে ইয়াবা সরবরাহ হচ্ছে।

এদিকে টানা ১৭ বছর ধরেই বারিধারা, গুলশান-বনানী ও মহাখালী এলাকার মাদক-বাণিজ্যের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক হয়ে আছেন ‘বিএনপি কবির’। অর্ধশতাধিক সেলসম্যানের মাধ্যমে তিনি দৈনিক ২০ লক্ষাধিক টাকার মাদক বিক্রি করে থাকেন। তার মাদক-বাণিজ্যের নিরাপত্তা বিধানের জন্য ১৫-১৬ জন অস্ত্রবাজ ক্যাডারের নিজস্ব বাহিনীও গড়ে তুলেছেন বিএনপি কবির খ্যাত হুমায়ুন কবির। তার চক্রে আছে চশমা জাহাঙ্গীর, স্মার্ট সেলিম ওরফে বাঞ্ছারাম। সহযোগীরা হলো সুলতান, মোজাম্মেল, ফরিদ, আলম, দুলাল, বেলাল, ফারুক, মিজান, মোতাহার ও শাহেদ। সূত্র জানায়, বনানী বাজার, ফুল মার্কেট, বনানী ১১ নম্বর রোড ও কামাল আতাতুর্ক এভিনিউসহ আশপাশের পুরো এলাকায় তারা ফেরি করে বিদেশি মদ ও বিয়ার বিক্রি করে। বিশেষ করে কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই মদ সিন্ডিকেটের প্রধান টার্গেট। সেরিনা হোটেলের বিপরীত দিকের ভবনটি হচ্ছে তাদের গোপন আস্তানা। হুমায়ুন কবির ওরফে বিএনপি কবির বনানী বাজার এলাকায় অবৈধ বিদেশি মদ বিক্রি চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে বনানী কাঁচাবাজার-সংলগ্ন মিয়ানমার দূতাবাস কর্মচারীদের কোয়ার্টারকে মাদকের গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মিয়ানমার দূতাবাসের গাড়ি ও চালকদের ব্যবহার করেই বিএনপি কবিরের মাদকের চালান যায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে।

রাজনৈতিক পরিচয়ে মাদক ব্যবসা যাদের : রাজধানীর ৪৯ থানা এলাকায় তৎপর ডিএমপির তালিকায় রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ৫২৬ মাদক ব্যবসায়ীর সন্ধান মিলেছে। তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মী। এর মধ্যে খিলগাঁও, মতিঝিল, তেজগাঁও, কামরাঙ্গীরচর, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, উত্তরা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, পল্লবী, কাফরুল, সবুজবাগ, সূত্রাপুর, লালবাগ, কদমতলী থানা এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেশি। আর সবচেয়ে কম ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায়। বিভিন্ন থানা থেকে হালনাগাদ তৈরি করা তালিকা ডিএমপি কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীরা একেকজন একেকটি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাদের মধ্যে কাফরুলের কাজীপাড়ায় হারুন মোল্লা, বাদশা মিয়া, বাবুল মিয়া, আল-আমিন, মাহমুদুর রহমান, ফেন্সি রিপন ও সেলিম; ভাসানটেক এলাকায় কানা জাহাঙ্গীর, আবুল কালাম ওরফে কালু মিয়া, দুলাল মিয়া, বাশার ও আবদুল মিন্টু; যাত্রাবাড়ীর ধলপুর সিটি পল্লীতে তসলিম, কবির মাস্টার, রুহুল আমিন, রিজভী, বশির আল আমিন, রমজানের মা, কালার বউ, ফাতেমা, রহিমা, আসলাম, দ্বীন ইসলাম, ভাবী পারুল ও মিরাজ; দনিয়ায় আকতার, নদী, বাবুল মিয়া, সুজন, নাদিম, মিজান ও পুলিশের সোর্স কবির; তেজগাঁও সাতরাস্তায় আবু সাঈদ, রবিউল ইসলাম, শহিদুল্লাহ ও নুরুজ্জামান; কালাচাঁদপুরে লোটন, ইসহাক ও আবিদুর রহিম; দক্ষিণখানে গুলবাহার; ছাপড়া মসজিদ এলাকায় রাসেল; আবদুল্লাহপুর স্লুইসগেট এলাকায় আজাহার; তুরাগে আয়নাল ও রমজান; গুলবাগ রেললাইনে বেবী; গেন্ডারিয়ায় রানা, বাছেদ, রহিমা, হাসি, সাজু, ফকির, রাসেল ও রানী; সূত্রাপুরের ঢালকানগরে ইউনুছ, তাসলিমা আক্তার, শিমু ও জামাল; নিমতলীতে নার্গিস আক্তার ওরফে ফেন্সি নার্গিস, পারুল ও কামাল; নয়াবাজারে ফিরোজ, বঙ্গবাজারে তারা বানু, সুলতান ও রহিম ব্যাপারী, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বড় সাধু, ছোট সাধু ও রাশিদা; পল্লবী ১১ নম্বর সেকশনের মিল্লাত ক্যাম্পে গুড্ডু, ছানা, বাদল ও আরিফ; স্বর্ণপট্টিতে সাজু; ১২ নম্বর সেকশনের ‘ত’ ব্লকে জামাল; মুসলিম বাজার ঢালে নুরু; চলন্তিকা ক্লাব-সংলগ্ন এলাকায় তপন, গিয়াসউদ্দিন, সুন্দর বাপ্পী, জিতু, মামুন ও রফিক; রূপনগর শিয়ালবাড়ীতে পারভেজ, পারভিন, হারুন, নানা, রাজু ও তার মা নাজমা; ৮ নম্বর লিংক রোডের বস্তিতে আবু সাঈদ, সুমন, উজ্জ্বল আলী, আওলাদ, আরাফাত, সুমন, হৃদয়, সোহেল, শিল্পীর মা শুক্কুরী বেগম, শিলা আপা, লতিফ, জাকির, কসাই মিন্টু ও সুমন; মেরুল বাড্ডায় জয়নাল, রুবির মা ও জুলহাসের বউ; কামরাঙ্গীরচরে আমান উল্লাহ ও হানিফ; হাজারীবাগ চৌদ্দটুলি সুইপার কলোনিতে স্বপন ও রহিম দাদা; সিটি কলোনিতে জামেলা, ফারুক ও ভুট্টু; আগারগাঁও বিএনপি বস্তিতে আবুল হোসেন লিটন, সামসুন্নাহার রনি, কবির হোসেন, জাকির, স্বপন, রাবিয়া ও লতিফা বেগম; মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পে আসাদ, মুকছেদ, নাছরিন, লতা বেগম ও হাসু মিয়া উল্লেখযোগ্য। এ ব্যাপারে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তালিকাভুক্তরা কেউ আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, হকার্স লীগ, বিএনপি, জামায়াত, শ্রমিক দল, জাতীয় পার্টিসহ একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। গত দুই মাসে ৬৪১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও তারা চুনোপুঁটি। মাদক মাফিয়া খ্যাত রাজনৈতিক নেতাদের ধারেকাছেও যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

Share

আরও খবর