মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ারাশিয়ার এই হামলার ফলে অনেকই নাখোশ হয় তার উপর। বিশ্লেষকদের মতে, পাশ্চাত্য, ইসরাইল ও আরব সরকাররা সিরিয়াকে টুকরো টুকরো করার ও ইসরাইল-বিরোধী সংগ্রামের অন্যতম প্রধান ফ্রন্টের নেতা হিসেবে খ্যাত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার যে স্বপ্ন দেখছিল তা মরীচিকায় পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় রাশিয়ার সঙ্গে এই জোটের সরাসরি সামরিক সংঘাতও বেধে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। বিশেষ করে ইসরাইল এই আশঙ্কা করছে যে সিরিয়ায় রুশ সেনা ও অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা-ব্যবস্থা মোতায়েনের ফলে দেশটির আকাশে রুশ সেনাদের সঙ্গে ইসরাইলি সেনাদের সংঘর্ষ ঘটতে পারে। এছাড়া সাবেক মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রেজনস্কি প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে হবে বলে ওয়াশিংটনকে পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান সন্ত্রাসীদের ওপর রাশিয়ার বিমান হামলায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সিরিয়ায় রাশিয়ার বিমান হামলা চিন্তা ও বিরক্তির কারণ হয়ে উঠেছে। রাশিয়া যে পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সিরিয়ায় যে বিমান হামলা চালাচ্ছে তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এমনকি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যখন সিরিয়ায় বিমান হামলা জোরদার করার ঘোষণা করে তখন তিনি তার বিরোধিতার কথা জানান। তিনি বার বার বলেছেন, প্রেসিডেন্ট আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরতেই হবে।

আবার এর উল্টো দিকও আছে। যেমন রাশিয়ার নেতৃত্বে নতুন জোটে যোগ দেওয়া কথা জানিয়েছে চীন। শুধু তাই নয় সম্প্রতি এক খবরে জানাযায় নতুন জোটকে সাহায্য করার জন্য চীনের একটি রণতরী ভূমধ্য সাগরের দিকে এগিয়ে আসছে। আর এই জোটে চীনের অংশ গ্রহণ মার্কিন ও আরব গোষ্ঠীর জোটকে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় পুরোপুরি অক্ষম করে তুলবে বলে বিশ্লেষকরা ধরনা করছেন।

এবার রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক উইলিয়াম অ্যাংদাল এর কথায় আসা যাক। তিনি প্রশ্ন করেন, আমেরিকা যে এত দিন দাবি করে আসছিল তারা সিরিয়ায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআই এল-এর বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তাদের হামলা সত্ত্বেও ওই গোষ্ঠীর তৎপরতা ক্রমেই আরও বৃদ্ধি পাচ্ছিল। তাহলে কি আসলে সিরিয়ায় তাদের হামলা ছিল শুধুই লোক দেখানো। তিনি আরও বলেন, আমেরিকা গত কয়েক মাসে সিরিয়ায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যা করতে পারে নি রাশিয়া ৪ দিনের অভিযানে তা করে দেখিয়েছে। তার মতে, সিরিয়ায় আসলে কোনো সমাধান চায় না আমেরিকা বরং সন্ত্রাস ও সংঘাত জিইয়ে রাখাই মূল উদ্দেশ্য।

আর আফগানিস্তান নিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বক্তব্যের ফলে অনুমান করা যায় ভবিষ্যতে এশিয়াতে যদি এমন লোক দেখানো অভিযান চালানো হয় তা হলে সেখানে রাশিয়ার উপস্থিতি অনিবার্যই হবে। এমনকি এই অঞ্চলে মার্কিন মদদপুস্ট কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তৈরীর চেষ্টা হলে বা থাকলে সেখানেও রাশিয়ার উপস্থিতি থাকবে।

আপাত দৃষ্টিতে এটা ধরনা করা যায় ৯০ এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্যদিয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন যে এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল তার হয়তো অবসান হতে যাচ্ছে। আর এ ক্ষেত্রে রাশিয়ার সাথে আছে চীন, ভারত এর মত দেশ গুলো। চীন এ মুহূর্তে বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতির দেশ। এছাড়াও তার সামরিক, রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে উঠছে দিন দিন। আর চীন ও রাশিয়া দুটিই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যাদের হাতে রয়েছে ভেটো ক্ষমতা। এছাড়া রাশিয়া চীন, ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বৃহৎ দেশগুলোকে নিয়ে নতুন অর্থনৈতিক ও সামরিক জোট “ব্রিক্স” গড়ে তুলছে। আর এসবই কি ইঙ্গিত দিচ্ছে এক পরাশক্তির পতনের?

শেষ।

মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়া, এক পরাশক্তির পতনের ঘন্টা (পর্ব -১)

Share

আরও খবর