মওলানা ভাসানী১৭ নভেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।

মওলানা ভাসানী দেশের নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের মুক্তির জন্য সারা জীবন আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছেন। তিনি ছিলেন সামন্তবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ। বিশ শতকে বৃটিশ ভারতের অন্যতম তৃণমূল রাজনীতিবিদ ও গণআন্দোলনের অন্যতম নায়ক। দেশের মানুষের কাছে ‘মজলুম জননেতা’ হিসাবে সমধিক পরিচিত ছিলেন তিনি।

১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট গঠনকারী প্রধান নেতাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি রাজনৈতিক জীবনের বেশীরভাগ সময় মাওপন্থী কম্যুনিস্ট তথা বামধারা রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তাঁর অনুসারীদের অনেকে এজন্য তাঁকে ‘লাল মওলানা’ নামেও ডাকতেন।

দিবসটি পালনে বিভিন্ন দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে। ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে মওলানা ভাসানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

প্রদত্ত বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর আদর্শ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশ ও জনগণের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন। তাঁর নেতৃত্বের ভিত্তি ছিল কৃষক-শ্রমিক-সাধারণ জনগণ। জাতীয় সংকটে জনগণের পাশে থেকে তিনি দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতেন। তিনি ন্যায্য অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিলেন।’

প্রদত্ত বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মওলানা ভাসানী প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে এবং শোষণ ও বঞ্চনাহীন সমাজ প্রতিষ্ঠাল জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মওলানা ভাসানী আজীবন কাজ করেছেন, পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসকদের অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে এবং বাঙালি জাতিসত্ত্বার বিকাশেও তিনি (ভাসানী) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে মজলুম নেতার ছিল গভীর রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ও আদর্শিক ঐক্য।’

Share

আরও খবর