২৮ ডিসেম্বর, অনলাইন ডেস্কঃ অ্যালিসা কারসন, বয়স মাত্র পনের। কিন্তু এই পনের বছরের কিশোরী-ই কিনা মানুষের ইতিহাসে একটা নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। ২০৩৪ সালে মঙ্গলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি, হতে যাচ্ছেন মঙ্গলের বুকে প্রথম মানুষ।

মানুষের আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা জন্ম থেকেই আর তারই বহিঃপ্রকাশ অন্য কোনো গ্রহে বসতি স্থাপন করার চেষ্টা। মঙ্গল পৃথিবীর নিকটবর্তী হওয়ায় এটা নিয়েই চলছে গবেষণা।

অ্যালিসার মঙ্গলে যাওয়ার স্বপ্নটা শুরু হয় মাত্র তিন বছর বয়সে। কি? অবাক হচ্ছেন তো! তিন বছরের শিশু কেমন করে মঙ্গলে যাওয়ার কথা চিন্তা করল! তার এই অনুপ্রেরণা আসে নিকলেডন নামক একটি অ্যানিমেটেড কার্টুন দেখে। তার বাবাও মেয়েকে সমানে অনুপ্রেরণা দিতে থাকেন। নিজেই মেয়েকে নিয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ক্যাম্পে ২০০৮ সালে। শুরু হয় অ্যালিসার প্রশিক্ষণ।

সে প্রথম ব্যক্তি যে নাসার তিনটি মহাকাশ ক্যাম্পে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। অ্যালিসার বাবা তার মেয়ের মঙ্গলে যাওয়ার ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। তিনি বলেন, আমার মেয়ের মঙ্গলে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই তাকে মঙ্গলে নিয়ে যাবে। এজন্য অ্যালিসা যে পরিশ্রম করছে তা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে।

নাসার স্পেস ক্যাম্প প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পাশাপাশি নভোচারী হওয়ার অন্যান্য সকল প্রশিক্ষণও নিচ্ছে অ্যালিসা। নভোচারী হওয়ার ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাঁধা নয়, ইতিহাসে সে নজির সৃষ্টি করেছে অ্যালিসা। এ বছরের অক্টোবরে অ্যাডভান্সড স্পেস একাডেমি নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছে, এই বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী সবচেয়ে কম বয়সী হচ্ছে অ্যালিসা।

মঙ্গলে যাওয়া প্রসঙ্গে অ্যালিসা বলেন, ‘আমি মঙ্গলে যেতে চাই। কারণ এটি এমন একটি স্থান, যেখানে কেউই আগে কখনো যায়নি। আমিই প্রথম সেই পদক্ষেপটি নিতে চাই।’

নাসার কর্মকর্তা পল ফোরম্যান বলেন, অ্যালিসার মতো মানুষকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখে নাসা। সঠিক ভাবনা, সঠিক প্রশিক্ষণ, সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে নভোচারী হওয়ার পথেই এগিয়ে যাচ্ছে অ্যালিসা।

মঙ্গলে গিয়ে আর ফিরে আসতে পারবে না এমন কথা জেনেই অ্যালিসা সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। ২০৩৪ সালে মঙ্গল মিশনে যার লক্ষ্যেই প্রস্তুতি অ্যালিসার। সবকিছু ঠিক থাকলেই অ্যালিসাই হতে যাচ্ছেন মঙ্গলের প্রথম মানুষ।

https://youtu.be/9ychKZIG8ms

Share

আরও খবর