৭ আগস্ট, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ ভেনেজুয়েলার উত্তর-পশ্চিমের শহর ভেলেনসিয়ায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে সরকারবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহীরা হামলা চালিয়েছে।

স্থানীয় সময় রোববার ভোরের এ ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন।

সামরিক-বেসামরিক মিলে ২০ জনের একটি বিদ্রোহী দল হামলা চালায়। সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরা দলটি এ সময় দাবি করে, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ‘খুনি স্বৈরশাসনের’ বিরুদ্ধে বিপ্লব ঘোষণা করা হচ্ছে।

হামলার পর প্রেসিডেন্ট মাদুরো বলেছেন, সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে অস্ত্রসহ পালিয়ে যাওয়া ১০ বিদ্রোহীর সন্ধানে অভিযান চলছে। ২০ জনের হামলাকারী দলের বাকি ১০ জনের মধ্যে দুজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন এবং সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তবে এ ঘটনার পর পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়নি। ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবেশ মাদুরো সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তড়িৎ পদক্ষেপের মাধ্যমে হামলা নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সেনাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদুরো। তিনি দাবি করেছেন, এটি একটি সন্ত্রাসী হামলা, যা ভাড়াটে লোকেরা চালিয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান চলছে। আমরা তাদের ধরবই।’

সাঁজোয়াযান ভেলেনসিয়ার রাস্তায় টহল দিচ্ছে এবং কমপক্ষে একটি সামরিক হেলিকপ্টার এই অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া সাত বিদ্রোহীর মধ্যে এক ‘অমানুষ’ লেফটেন্যান্ট রয়েছেন। অন্যরা সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরা বেসামরিক লোক।

মাদুরো অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কলোম্বিয়াভিত্তিক সরকারবিরোধী নেতাদের সমর্থনে তারা এ কাজ করেছে। এ ছাড়া আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ করে আসছেন তিনি।

ভেলেনসিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে হামলার সমর্থনে শহরে কিছু লোককে অবস্থান নিতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর কাঁদানে গ্যাসের মুখে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় তারা। দেশের অন্য সব অঞ্চলে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

রোববারের ঘটনার ভিডিওতে হুয়ান কাগুয়ারিপানো নামে এক বিদ্রোহী নেতাকে কথা বলতে দেখা গেছে। সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো বিদ্রোহী গ্রুপকে তিনি ‘৪১তম ব্রিগেড’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, তারা মাদুরোর খুনি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলছে।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট মাদুরো সাংবিধানিক পরিষদ গঠনে নির্বাচন দিলে বিরোধী দলগুলো তা বয়কট করে এবং প্রতিহত করার চেষ্টা করে। নির্বাচনী সহিংসতায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনে বিজয় দাবি করে সাংবিধানিক পরিষদ গঠন সম্পন্ন করেছেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু দেশ এ ঘটনাকে মাদুরোর ক্ষমতা কুক্ষিগত করার কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছে।

এদিকে, শনিবার সাংবিধানিক পরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। এর একদিন পর ‘বিচ্ছিন্ন’ বিপ্লবের ডাক দিয়ে ভেলেনসিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় একদল বিদ্রোহী।

মে মাস থেকে শুরু হওয়া ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সহিংসতায় এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন নিহত হয়েছেন। জ্বালানি তেল রপ্তানি করে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে চাইলেও নানামুখী চাপে রয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার। খাদ্যপণ্য ও ওষুধের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে দেশটিতে। মূল্যস্ফীতি ঠেকেছে ৭০০ শতাংশে। এ অবস্থায় রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে চরম বিপাকে পড়বে ভেনেজুয়েলানরা। তবে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে মাদুরোর বিরোধিতায় নেমেছে, তাতে তার উপসংহার কী হয়- তাই দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র : বিবিসি ও রয়টার্স অনলাইন

Share

আরও খবর