২১ জানুয়ারি, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ জানুয়ারির ১ তারিখে বই হাতে পেয়ে আনন্দে উদ্বেলিত হয়েছিল শিক্ষার্থীরা। ঘটা করে সারা দেশে বই বিতরণের আয়োজন নতুন উৎসবের আবহ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু লাখো-কোটি শিক্ষার্থীর জন্য এ উৎসব স্থায়ী হয়নি। পাঠ্যবইয়ের ভিতরে ভাঁজে-ভাঁজে নানা অসঙ্গতি আর ভুল পেয়ে বিমর্ষ হয়েছে শিশুমন। বইয়ে নানা অসঙ্গতি আর ভুলভ্রান্তি নিয়ে বিব্রত শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডও (এনসিটিবি)। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ভুল চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু কবে নাগাদ এসব ভুল শোধরানো হবে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

পাঠ্যবইয়ের ভুল চিহ্নিত করতে এনসিটিবির গঠিত পর্যালোচনা কমিটি এরই মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদন কবে নাগাদ মিলবে—তা জানা সম্ভব হয়নি। অগ্রগতি জানতে কমিটির আহ্বায়ক কাজী আবুল কালামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এনসিটিবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য বলেন, এমন ভুলের ক্ষেত্রে গণমাধ্যম মারফত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। ভুলের সংশোধনী এসব বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, ভুল সংশোধন করে বই বা শিট আকারে দূরবর্তী এলাকাগুলোতে পাঠানো অনেকটাই অসম্ভব।

ভুল পাঠ্যবই নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা আর সংশয় বাড়ছে দিন দিন। জীবনের প্রথম বই হাতে নিয়ে শিশুরা ভুল শিখছে—এমন মন্তব্য করেছেন অনেক অভিভাবকই।

প্রগতিশীল সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকী আক্তার বলেন, এবারের পাঠ্যবই ভুলেভরা, সাম্প্রদায়িক। সংশ্লিষ্ট সম্পাদকদের না জানিয়েই এতগুলো বই ছাপানো হলো। তাহলে তো আমরা আশঙ্কা করতে পারি যে, কোনো মিটিং ছাড়া বা কারও মতামত গ্রহণ ব্যতিরেকেই দেশের সংবিধানও পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। বইগুলো ভুলেভরা ও সাম্প্রদায়িক হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুধু ভুলের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলছে। আড়ালে থেকে যাচ্ছে সাম্প্রদায়িকতার মতো বিষয়গুলো। সব মিলিয়ে এ ক্ষেত্রে সরকার চরম অগণতান্ত্রিকতার পরিচয় দিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আঠাতত্ত্ব প্রয়োগ করে ভুল পড়াগুলো ঢাকতে বলছেন! তাহলে ওলটপালট কবিতাগুলো ঢাকবেন কিভাবে, সাম্প্রদায়িক তথ্য ঢাকবেন কিভাবে? এদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন, এবারের বইগুলোর ছাপাও অনেক নিম্নমানের। কোনো কোনো বই ধরলে হাতে রং উঠে আসছে।

ভুল তথ্য সংবলিত পাঠবইগুলো কবে নাগাদ সংশোধন হতে পারে—এমন তথ্য রয়েছে কিনা জানতে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে ‘তাদের কাছে কোনো তথ্য নাই’ বলে জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করে তারা জানান, এসব নিয়ে শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন। প্রতিনিয়তই ছাত্রছাত্রীদের জিজ্ঞাসার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ভুল সংশোধনের ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে। সে মোতাবেক এনসিটিবি কাজ করবে। তদন্ত কমিটি এ নিয়ে কাজ করছে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, যেহেতু তদন্ত কমিটি কাজ করছে, এ ব্যাপারে মন্তব্য করা অনৈতিক। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলে তাদের সুপারিশ মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, এ বছর প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে বিতরণ করা বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ে তথ্যগত নানা ভুলভ্রান্তি পরিলক্ষিত হয়। বানান ভুলসহ ধরা পড়ে নানা অসঙ্গতি। অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক তথ্য সংযোজনেরও। কোনো কোনো প্রসিদ্ধ কবিতারও কয়েক লাইন অযাচিতভাবে কেটে ফেলা হয়েছে। এর প্রতিবাদে বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠন মানববন্ধন, বিক্ষোভ, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে।

Share

আরও খবর