১৫ এপ্রিল, অনলাইন ডেস্কঃ আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা দাবী করেছে, পৃথিবীর বাইরেও কোথাও প্রাণের সন্ধান মিলতে পারে। বিশেষ করে শনি কিংবা বৃহস্পতির উপগ্রহে প্রাণীর বাস থাকার সম্ভাবনা বেশি। কারণ বৃহস্পতির উপগ্রহ এনসেলাডাসে পানির সন্ধান মিলেছে। শুধু পানিই নয়, বরফের চাঁইয়ের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে আস্ত সমুদ্র। শনির উপগ্রহেও ৯৮ ভাগ পানি ও দুই ভাগ হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড ও মিথেনের মতো গ্যাস মিলেছে।

নাসা জানাচ্ছে, পৃথিবীতে যত সমুদ্র আর মহাসাগর রয়েছে, তার চেয়ে বহুগুণ গুণ বেশি সমুদ্র আর মহাসাগরে ভেসে যাচ্ছে বৃহস্পতি ও শনির উপগ্রহ। এসবে পানি তরল অবস্থায় রয়েছে। পৃথিবীর গভীরতম প্রশান্ত মহাসাগরের চেয়েও অন্তত ১০০ গুণ বেশি গভীর মহাসাগর রয়েছে বৃহস্পতির উপগ্রহে। সুবিশাল সমুদ্র আর মহাসাগরে রয়েছে বৃহস্পতির আর একটি উপগ্রহতেও। এত পানি পৃথিবীতে কোথাও নেই। আর সেই তরল পানির মহাসাগরগুলি ঢাকা রয়েছে পুরু বরফের চাদরে।

নাসা জানিয়েছে, বিশাল বিশাল সমুদ্র আর মহাসাগরে ভেসে যাচ্ছে শনির দুই উপগ্রহও। তবে সেই মহাসাগরগুলি ভাসছে তরল হাইড্রোকার্বনে। মিথেন ও ইথেনের সাগর, মহাসাগর। ওই উপগ্রহগুলিতে পুরু বরফের চাদরের তলায় লুকিয়ে থাকা পানি মহাসাগরগুলোর একেবারে নীচে প্রচণ্ড তাপে জল বাস্পীভূত হয়ে ধোঁয়ার মতো উপরে উঠে আসছে। কোনও সমুদ্রের তলায় প্রাণ না থাকলে বা কোনও জৈবিক ক্রিয়া না ঘটলে এটা সম্ভব হত না। শুধু তাই নয় এও দেখা গিয়েছে, ওই মহাসাগরগুলির তলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড ও মিথেন গ্যাস। এটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে, বেঁচে থাকার জন্যে ওই গ্যাসগুলি থেকেই রসদ জোগাড় করছে জলজ প্রাণ।

নাসার বৈজ্ঞানিক লিন্ডা স্পিক্লার বলেন, প্রাণের অস্তিস্ব থাকতে যে রাসায়নিক এনার্জির দরকার হয়, শনির ছোট উপগ্রহে সেই ইঙ্গিত মেলায় প্রাণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এটি একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার। এসসেলাডাস যথেষ্ট ছোট আকৃতির। পৃথিবীর চাঁদের চেয়ে মাত্র ১৫ ভাগ বড়। পৃথিবীর সঙ্গে দূরত্বের নিরিখে মঙ্গল ছাড়াও বৃহস্পতি ও শনির উপগ্রহেই প্রাণের উপস্থিতির সম্ভাবনা সবচেয়ে উজ্জ্বল বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

Share

আরও খবর