২ সেপ্টেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ঈদের আনন্দ মাটি হল ভবদহ পাড়ের পানিবন্দি মানুষগুলোর।

এ অঞ্চলের স্থায়ী জলবদ্ধতার কারণে বন্যা কবলিত হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়া হাজার হাজার পরিবারের মানুষের বাড়ি ফেরা হল না।

ফলে এসব বানভাসি মানুষের ঈদ কাটবে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে ও রাস্তায়। এ অঞ্চলের ঈদের নামাজও পড়তে হবে রাস্তায় বা সম্ভাব্য কোনো উঁচু স্থানে।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, কপোতাক্ষ, হরিহর, মুক্তেশ্বরী, টেকা ও শ্রী-হরি নদীর উজানের পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও, ভবদহের জলবদ্ধতার পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, মণিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড়, মশ্মিমনগর, হরিহরনগর, হরিদাসকাটি, কুলটিয়া, নেহালপুর, দুর্বাডাঙ্গা ও মনোহরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি। এদের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে রাস্তার দুধারে, সম্ভাব্য উঁচু স্থানে, ইউনিয়ন পরিষদ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। প্রায় একমাস যাবত পানিবন্দি এই মানুষগুলো বসত ভিটে ছাড়া হলেও ঈদের আগে তাদের বাড়ি ফেরা হল না। ফলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাস্তায় বা আশ্রয়কেন্দ্রে কাটবে ওই সব পরিবারের ঈদ।

নাগোরঘোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া গৃহবধূ হালিমা বেগম বলেন, প্রায় এক মাস ধরে বাড়ি-ঘর ছেড়ে পরিবারের পাঁচজন মানুষকে নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। চারিদিকে শুধু পানি আর পানি, কাজ কর্ম নেই, বড়ই অসহায়ভাবে দিন কাটছে।

যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কে ফকির রাস্তা এলাকায় রাস্তায় আশ্রয় নেওয়া অশীতিপর বৃদ্ধা করিমন নেছা বলেন, ‘আমাগে আবার নামাজ, নামাজের আনন্দ আমাগে নেই। প্রায় প্রায় বাড়িতে পানি ওঠে, আর আমরা রাস্তায় থাহি, আমাগে আবার নামাজ।’

আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া দিন মজুর ফজর আলী বলেন, ‘নামাজের জন্যি সেমাই চিনি জোটাতে পারলেও ছেলে-মেয়ের জন্যি গোস মাংসের ব্যবস্থা করতে পারিনি। বড়ই অসহায়ভাবে দিন কাটছে আমাদের, পরিবার পরিজন নিয়ে কোনোরকম বেঁচে আছি।’

শ্যামকুড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি বলেন, পানি যেভাবে কমছে তাতে ঈদের আগে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া পানিবন্দি মানুষের ঘরে ফেরা হল না। ঈদের আনন্দ মাটি হল তাদের, এছাড়াও অত্র ইউনিয়নের অনেক ঈদ গাহে নামাজ পড়া সম্ভব হবে না।

Share

আরও খবর