১৭ ডিসেম্বর, অনলাইন ডেস্কঃ রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মার্কা ও ব্যক্তি নিয়ে মনস্তাত্ত্বিক দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন নগরীর প্রায় ৪ লাখ ভোটার। মেয়র পদে তিন রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগের সরফুদ্দিন আহমদ ঝন্টুর নৌকা, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার লাঙ্গল ও বিএনপির প্রার্থী কাওসার জামান বাবলার প্রতীক ধানের শীষ। এ ছাড়াও বাসদের মেয়র প্রার্থী আবদুল কুদ্দুস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মেয়র প্রার্থী সেলিম আখতার ও একমাত্র স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে লড়াই জমবে তিন দলে। তবে মার্কা দেখে ভোট দেবেন ভোটাররা, না ব্যক্তি দেখে ভোট এমন প্রশ্ন এখন নগরজুড়েই। নৌকার প্রার্থী ঝন্টু প্রচারে নেমে বলছেন, রংপুর সিটি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে বর্তমান সরকারের আমলে। আর এতে রংপুরে এখন আওয়ামী লীগের ভোটের পাল্লা ভারী। প্রার্থীর সঙ্গে একমত দলের জেলা, মহানগরের নেতারাও। প্রতীক নৌকার পাশাপাশি রয়েছে তার উন্নয়নের জোয়ার। এ দুটোই কাজে লাগাবেন ঝন্টু।

অন্যদিকে লাঙ্গলের প্রার্থী মোস্তফা বলছেন, রংপুরে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বাড়ি হওয়ায় রংপুর লাঙ্গলের ঘাঁটি। পাশাপাশি তার রয়েছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। তাই দলমত নির্বিশেষে ভোটাররা তাকেই ভোট দেবেন। অপরদিকে ধানের শীষের প্রার্থী বাবলা বলছেন, ক্ষমতাসীন সরকারের সময় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ঊর্ধ্বে চলে গেছে। আর রংপুরে বিএনপি ও জামায়াতের নীরব ভোট রয়েছে। এসব কাজে লাগাবেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিটি নির্বাচন হলেও এটি আবহ তৈরি করেছে জাতীয় নির্বাচনেরই। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় ক্ষমতাসীন দলের সাফল্য ব্যর্থতার অগ্নিপরীক্ষা হচ্ছে এ নির্বাচনে। আবার জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের বাড়ি রংপুরে এমন মূল্যায়নও করছেন ভোটাররা। বিএনপিরও রয়েছে জনপ্রিয়তার যাচাই মূল্যায়ন। প্রতীক ও উন্নয়নের কথা চিন্তা করলে ভোটে এগিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঝন্টু। কিন্তু ব্যক্তি দেখে ভোট দিলে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তফা এগিয়ে থাকবেন বলে অনেক ভোটার মনে করেন। তবে ভোটারদের মধ্যে আকর্ষণ করছে দলীয় প্রতীকও। সেক্ষেত্রে ভোটারদের মধ্যে তৃণমূলের ভোটাররা বলছেন, লড়াই হবে ত্রিমুখী। তবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কথাও বলছেন কেউ কেউ।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) রংপুর জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মলয় কিশর ভট্টাচার্য বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যক্তিকে সাধারণত জনগণ বেছে নেয়। কিন্তু এবার যেহেতু প্রতীকে নির্বাচন, সেক্ষেত্রে ভোটারদের মধ্যে প্রতীকের ‘আবেগ’ কাজ করবে, এটা স্বাভাবিক। তারপরও রংপুরবাসী ভেবেচিন্তে যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দেবে। দৈনিক দাবানল পত্রিকার সম্পাদক প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক এমপি খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুল বলেন, রংপুরের মানুষ খুবই সচেতন। আমি মনে করি সাধারণ ভোটাররা এবারের নির্বাচনে এমন ব্যক্তিকে ভোট দেবেন, যার মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন হবে। তবে ওই ব্যক্তিটি যেন জনবান্ধব হয় তার বিবেচনাও করবেন নগরবাসী। ঝন্টু নৌকার প্রার্থী হিসেবে নন, ব্যক্তি ঝন্টুরও একটি ভোটব্যাংক রয়েছে। পাশে আছে প্রতীক নৌকার ভোট। দুটো একসঙ্গে রাখলে নৌকার পাল্লাই ভারী হয়। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, এলাকায় তাদের একটি বড় অংশ নৌকার পক্ষে রয়েছে। তবে জাতীয় পার্টির নেতা বলছেন, রংপুরে লাঙ্গল ও এরশাদের আলাদা ইমেজ রয়েছে। পাশাপাশি প্রার্থী মোস্তফার ব্যক্তি ইমেজ এবারের নির্বাচনে জয়ী হতে কাজ করবে।

নৌকার প্রার্থী ঝন্টু সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, দলমতনির্বিশেষে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আমাকে জনগণ ভোট দেবে। অপরদিকে লাঙ্গলের প্রার্থী মোস্তফার রয়েছে লাঙ্গল ও ব্যক্তি ইমেজ ভোট। নতুন সংযুক্ত ওয়ার্ডগুলোতে রয়েছে মোস্তফার একটি ভোটব্যাংক। ধানের শীষের প্রার্থী বাবলা সাংবাদিকদের বলেন, ধানের শীষ গণতন্ত্রের প্রতীক। ধানের শীষ দেখেই ভোটাররা তাকে ভোট দেবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রংপুর নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের এবার মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ জন। ২০১২ সালে এখানে ভোটার ছিল তিন লাখ ৫৭ হাজার ৭৪২ জন।

বিভিন্ন সূত্রমতে, এখানে সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছে ৫০-৬০ হাজার। অবাঙালি (বিহারি) ভোটার প্রায় ৩০ হাজার, বর্ধিত এলাকার ভোটার রয়েছে প্রায় দেড় লাখ এবং নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে ৩৬ হাজার।

২০১২ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অবাঙালিরা (বিহারি) সরফুদ্দিন আহমদ ঝন্টুর পক্ষে কাজ করেছিলেন। তবে এ বছর কিছুটা নীরব রয়েছেন। কেউ কেউ আবার মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে জানা গেছে। নগরের এক জামায়াত নেতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, জোট যেহেতু আছে তাই ধানের শীষে ভোট দেব। জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরাও একই কাজ করবেন। নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার বাবুল বলেন, বিএনপিকেই ভোট দেব আমি। জিতুক আর না জিতুক। তবে ধানের শীষের লড়াই হবে লাঙ্গলের সঙ্গে। ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার সোহেল জানান, নৌকা ও ঝন্টু দুটোই ভালো। তাই নৌকাকেই দেব ভোট। ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আরজু মিয়া বলেন, দলটল বুঝি না। ভোট দেমু লাঙ্গলেই।

শেষ মুহূর্তে প্রচারণায় সরব বিএনপি : নির্বাচনের প্রচারণা এখন শেষের দিকে। আর শেষ মুহূর্তে প্রচারণায় সরব হয়ে উঠেছে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে গত দুই দিন আগ পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থী বাবলার পক্ষে তেমন একটা প্রচারণা চোখে পড়েনি। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা রংপুরে নির্বাচনী প্রচারণায় যোগ দিতেই যেন তাদের হালে পানি এসেছে। গতকাল সকালে বিএনপির কার্যালয় থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ টুকুর নেতৃত্বে শত শত নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে প্রচারণায় নামেন। এ সময় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, জনগণ এখন বিএনপির পক্ষে রায় দিতে উন্মুখ হয়ে আছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ টুকু বলেন, রংপুরের নির্বাচনে আইন শুধু আমাদের জন্য, আওয়ামী লীগের জন্য নয়। পক্ষপাতিত্ব করছে প্রশাসন।

প্রার্থীদের গণসংযোগ : এদিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমদ ঝন্টু, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, বিএনপির প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা, স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ, বাসদের প্রার্থী আবদুল কুদ্দুস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী সেলিম আখতার গতকাল নগরীর বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়িয়েছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঝন্টু দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে নগরীর নূরপুর, বাবুখাঁ, সুলতানের মোড়, চাঁদেরহাট ও রবার্টসনগঞ্জ এলাকায় গণসংযোগ ও নির্বাচনী সভা করেন। অপরদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তফা দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে নগরীর দর্শনা, পার্বতীপুর, তাজহাট, চাঁদেরহাট, কামারপাড়া ও মাহিগঞ্জ এলাকায় গণসংযোগ ও নির্বাচনী সভা করেন। বিএনপির মেয়র প্রার্থী বাবলাকে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ধানের শীষের পক্ষে মিছিল করতে দেখা যায়।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে প্রচারণা শেষ : আগামী মঙ্গলবার ১৯ ডিসেম্বর দিবাগত মধ্যরাত থেকে শেষ হবে সব ধরনের প্রচারণা। আগামীকাল রাত ১২টার পর থেকে বহিরাগতদের ছাড়তে হবে নির্বাচনী এলাকা। নির্বাচন প্রভাবমুক্ত রাখতে যারা রংপুর সিটি এলাকার বাসিন্দা নন বা ভোটার নন, তাদের নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

কাউন্সিলর প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ : রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে উত্তেজনা। বৃহস্পতিবার রাতে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক কাউন্সিলর প্রার্থীকে কুপিয়ে জখম করার পর গতকাল ভোরে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবেদ আলী সরকারের নির্বাচনী কার্যালয় পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। কাউন্সিলর প্রার্থী আবেদ আলী সরকার জানান, গতকাল ভোরে পূর্ববড়বাড়ি ডারারপাড় এলাকায় তার নির্বাচনী কার্যালয়ে কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয়রা টের পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও পোস্টার ও কার্যালয়ের একাংশ পুড়ে যায়। পরাজয়ের আশঙ্কায় প্রতিপক্ষরা আমার নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে বলে ধারণা করছি। বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার ও কোতোয়ালি থানার ওসিকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল মিয়া বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী জাসদ (ইনু) নেতা মনিরুজ্জামান মাসুদকে কুপিয়ে আহত করেন আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী মোখলেছুর রহমান তরু। এ ঘটনায় তরুসহ ২০ জনের নামে মামলা করে আহতের ছোট ভাই। পুলিশ ৮জনকে গ্রেফতার করলেও মূল আসামি তরু রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে কোতোয়ালি থানার ওসি বাবুল মিয়া বলেন, ঘটনার পর থেকে তরু এলাকা ছেড়েছে। তার সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।

মন্ত্রী রাঙ্গাকে সতর্ক করল রিটার্নিং কর্মকর্তা : নির্বাচন আচরণবিধি অমান্য করে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাকে সতর্কতা নোটিশ দিয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। রিটার্নিং ও রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আচরবিধি অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোট গ্রহণের দিন পর্যন্ত এমপি, মন্ত্রী এবং সমমর্যাদার কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতেও পারবেন না। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা তার দল জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে শুক্রবার রাতে তাকে লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও তিনি এলাকায় থেকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালালে তাকে চূড়ান্ত নোটিস দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমরা উৎসবমূখর পরিবেশে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার সব প্রস্তুতি নিয়েছি। যারা নির্বাচনী পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করবে সে যে-ই হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।

জানা গেছে, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা তফসিল ঘোষণার পর থেকে বেশ কয়েকবার রংপুরে এসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। শুক্রবার ফের রংপুরে এসে দলীয় মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার পক্ষে নগরীর বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা চালান। রাতে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বেশ কয়েকটি গাড়িতে করে নগরীতে মহড়া দেন। বিএনপির মেয়র প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা রংপুরে অবস্থান করে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছি। এ ছাড়া বিষয়টি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদেরও অবহিত করেছি।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে তার দলের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে শুধু আচরণবিধিই অমান্য করছেন না, নির্বাচনী পরিবেশ অশান্ত করছেন। আমরা বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, আচরণবিধি মেনেই আমি স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছি। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেইনি।

Share

আরও খবর