১৯ জানুয়ারি, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে শুরু হয়েছে এবারের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। তাবলিগ জামাতের তিন দিনব্যাপী বৃহত্তম এ সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় শুক্রবার বাদ ফজর থেকে।

বিশ্ব ইজতেমার শীর্ষস্থানীয় মুরব্বি ইঞ্জিনিয়ার মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, বাদ ফজর থেকে বাংলাদেশের মাওলানা ফারুক হোসেন বয়ান করছেন।

প্রথম পর্বের চেয়ে দ্বিতীয় পর্বে শীতের তীব্রতা কম। আজ কুয়াশা নেই। এ পর্বে ঢাকার একাংশসহ দেশের ১৩ জেলার মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন। ইজতেমায় যোগ দিতে বুধবার থেকে দেশের ওই সব অঞ্চলের মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করেন। বৃহস্পতিবারও মুসল্লিদের আসা অব্যাহত ছিল। রাত অব্দি কয়েক লাখ মুসল্লি ইজতেমা ময়দানে সমবেত হয়েছেন। পুরো ইজতেমা ময়দান যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। এক সঙ্গে কয়েক লাখ লোক একস্থানে অবস্থান করলেও কারো কোনো অভিযোগ নেই, বিরক্তি নেই। সবাই মগ্ন হয়ে বিশ্ব ইজতেমার শীর্ষস্থানীয় মুরব্বিদের বয়ান শুনছেন। ইজতেমার এ পর্বেও দেশি মুসল্লিদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরাও অংশ নিচ্ছেন।

আজ শুক্রবার বরাবরের মতো ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে জুমার নামাজ। লাখ লাখ মুসল্লিদের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করতে ইজতেমার মুসল্লিদের বাইরেও ঢাকা, গাজীপুরসহ আশপাশ এলাকার মুসল্লিরা ময়দানে আসছেন। মুসল্লিদের আসা জুমার নামাজ শুরুর আগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দেওয়া মুসল্লিদের নিরাপত্তা দিতে সাত স্তরে প্রায় ৭ হাজার পুলিশ বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ও আশপাশ এলাকায় নিয়োজিত রয়েছে বলে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন। ওয়াচ টাওয়ার, সিসি টিভি, তুরাগ নদে নৌটহলসহ ময়দানের ভেতরে ও বাইরে পোশাকে-সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।

আগামী ২১ জানুয়ারি রোববার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে একই ময়দানে গত ১২ জানুয়ারি শুরু হয়েছিল বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। প্রথম পর্বে ঢাকার একাংশসহ ১৪ জেলার মুসল্লিরা অংশ নেন। ১৪ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছিল প্রথম পর্ব। দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতের মধ্য শেষ হবে এবারের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমা।

Share

আরও খবর