২০ মার্চ, অনলাইন ডেস্কঃ অভিযোগ যাচাই-বাছাই না করেই কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসি নজরুল ইসলামকে প্রত্যাহারের জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজি) চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পুলিশের দাবি, যাকে গ্রেফতার করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর মডেল থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এমনকি তার বিরুদ্ধে জোড়া খুনের অভিযোগসহ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে জঙ্গিবাদের প্রশিক্ষণ নেওয়ার তথ্যও রয়েছে পুলিশের কাছে।

অন্যদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল ইসলাম সাক্কুর একক অভিযোগের ভিত্তিতে ওসি প্রত্যাহারের চিঠিতে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রার্থীরা বলছেন, একজন প্রার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে ওসিকে প্রত্যাহার করা ঠিক হবে না।

কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মণ্ডল বলেছেন, ‘আমি জেনেছি এ বিষয়ে আইজিপিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ’ জানা গেছে, আবদুল কুদ্দুস ওরফে বোমা কুদ্দুসকে কয়েক দিন আগে গ্রেফতার করে কুমিল্লা মডেল থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, কুদ্দুস পাকিস্তান ও আফগানিস্তান বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জঙ্গি। এমনকি জোড়া খুনের আসামি। তার বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর মডেল থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য মামলাগুলো হচ্ছে—মামলা নম্বর ৩০, ধারা ৩০২/৩৬, তারিখ ১৩/০৮/১৬; মামলা নম্বর ৪১, ধারা ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫(খ), তারিখ ১৯/০১/১৭; মামলা নম্বর ৩৫, ধারা ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা ১৫(৩)/২৫(ঘ)।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আবদুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্তার অভিযোগ রয়েছে। তিনি হত্যা মামলার প্রধান আসামি। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলাও রয়েছে।

জানা গেছে, শনিবার কুমিল্লা টাউন হলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচনী আচরণবিধি ও আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু অভিযোগ করেন, তার সদর দক্ষিণের ধনাইতরী এলাকার কর্মী আবদুল কুদ্দুস জামিনে থাকলেও পুলিশ ধরে নিয়ে হয়রানি করছে। এ অভিযোগের পরদিন, অর্থাৎ গতকাল সদর দক্ষিণ থানার ওসি নজরুল ইসলামকে প্রত্যাহারের চিঠি আইজিপিকে দেওয়া হয় ইসি থেকে। এ ছাড়া বিকালে এ-সংক্রান্ত একটি ফ্যাক্সে কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন অফিসে পাঠানো হয়। এ চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে কুমিল্লার ডিসি, এসপি ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে।

Share

আরও খবর