বিপদের গন্ধমাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘে বেশ জোড়ালো ভূমিকা পালন। চ্যাম্পিয়নস অফ দি আর্থ পুরস্কার লাভ। এইগুলো আমাদেরকে প্রফুল্ল রাখার কথা। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের পরিচয় একধাপ উপরে যাবার কথা। অন্যদিকে একই সময়ে হটাৎ করে ইতালিয় ও জাপানি নাগরিকের নৃসংশ খুন বাংলাদেশের মর্যাদা অনেকখানি ক্ষুন্ন করেছে। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিন আফ্রিকা তাদের খেলোয়াড়দের আসতে দেয়নি। গার্মেন্টস বায়ার্স ফোরাম তাদের মিটিং বাতিল করেছে।

ক্রিকেট ও গার্মেন্টস দুটোই বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিচয়ের দিক। দুই ক্ষেত্রেই আঘাত। এরসাথে বাংলাদেশের গার্মেন্টস নিয়ে ষড়যন্ত্র সুপ্রাচীন কালের। বিদেশিরা যদি সাবলীলভাবে কাজ করতে না পারে, হত্যা, গুম বা অন্য যে কোন বিপদের সম্মুখীন হয় তবে বৈদেশিক সম্পর্ক শীথিল হয়ে পড়বে। সকল সাহায্য সংস্থা মুখ ফিরিয়ে নিবে। দেশে একটা অরাজক পরিবেশ তৈরি হবে।

এহেন বিপদের আশংকা থাকলেও সরকারের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে বিষয়গুলো হালকা হয়ে যাচ্ছে। বিষয়গুলো রসিকতার নয়। রসিকতা করে রস আহরনের জন্য ভবিষ্যতে বহু ঘটনা বা উপকরণ পাওয়া যাবে। এই সময় রসিকতা করার লোভ সংবরন করে কিছু দায়িত্বশীল আচরণ জাতি প্রত্যাশা করে।

সরকার গত কয়েক বছর বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ রয়েছে এবং তা দমনে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে এই প্রচারনা চালিয়ে এসেছে। বেশ ফলাও করে জঙ্গিবাদ দমনের প্রচারও করেছে। অনেক ক্ষেত্রে সফলতারর সাথে তা মোকবেলাও করেছে। তবে হটাৎ করে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির এহেন অবনতি দেশে বিদেশে সরকারকে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে।

ঢাকা এবং রংপুরে দুই বিদেশির হত্যাকান্ড যে খুব পরিকল্পিত এবং সম্পর্কযুক্ত তা বুজতে পারার জন্য আইনস্টাইন হতে হয় না। তাহলে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি কিছুটা রিল্যাক্স ছিল? নাকি হত্যাকারীরা বেশি শক্তিশালী ও তৎপর হয়ে উঠেছে?

যদি এই পরিস্থিতি দক্ষতার সাথে সামাল দেওয়া না যায় তবে হারবে বাঙ্গালী, কাঁদবে বাংলাদেশ।

মাহফুজুল ইসলাম সাইমুম।
তারিখঃ ০৬-১০-২০১৫।

Share

আরও খবর