হেলথ ডেস্কঃ করোনা ভাইরাস নিয়ে সম্প্রতি জনমনে উদ্বিগ্নতা দেখা দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি পশু থেকে মানুষে ছড়ালেও সম্প্রতি করোনা ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হচ্ছে বলে জানা যায়। কিছুদিন আগেই চীনের উহান নামক একটি শহরে একটি সামুদ্রিক খাবার ও পশুর বাজার থেকে প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত করা হয়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত এই রহস্যজনক ভাইরাস থেকে প্রায় তিন হাজার ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের অধিকাংশই চীনের হুবেই প্রদেশের অন্তর্গত। উল্লিখিত উহান শহরের কোনো না কোনোভাবে ভ্রমণ করেছিলেন, নয়তো সেখানকার বাসিন্দা। এছাড়া চীনে ভ্রমণজনিত কারণে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, আমেরিকা, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, হংকং, মেকাউ, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি  দেশে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

যেভাবে করোনা ভাইরাস ছড়ায় : বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এ ভাইরাসটি একজন মানুষের দেহ থেকে আরেকজন মানুষের দেহে দ্রুত ছড়াতে পারে। করোনা ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়।

লক্ষণ সমূহ : ১. জ্বর ও কাশি। ২. শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া। ৩. অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া। ৪. ভাইরাসটি শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় পাঁচ দিন লাগে। প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। তারপর দেখা দেয় শুকনো কাশি। এক সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট।

চিকিৎসা ও জটিলতাঃ  সিম্পটম্যাটিক ট্রিটমেন্ট বা উপসর্গ সমুহের চিকিৎসা দেয়াই এর একমাত্র নিরাময়। কিন্তু এর ভয়াবহ দিক হল যদি আক্রান্ত ব্যক্তি অন্য কোন শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকেন, এই ভাইরাস আক্রমণ করলে সেই সমস্যাটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বিশেষ করে শ্বাসতন্ত্রে। এবং সেটাই মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে।

ভ্রমণসংক্রান্ত পরামর্শ : যেহেতু এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি ভাইরাস এবং এর ভয়াবহতা ও বিস্তার সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে জানা এখনো সম্ভব হয় নাই, তাই ভ্রমণকালীন বিশেষ করে চীন থেকে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ থেকে চীনে ভ্রমণকারীগণ সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকার জন্য স্বাভাবিক শ্বাসতন্ত্রেও প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। অথবা কিছুদিনের জন্য বেশি জরুরি কিছু না হলে চীন ভ্রমণে বিরত থাকাই ভালো।

ভাইরাস থেকে বাঁচতে যা যা করতে হবে : ১. আক্রান্ত ব্যক্তি হতে কমপক্ষে তিন ফুট দূরে থাকতে হবে। ২. বারবার প্রয়োজনমতো সাবান পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে, বিশেষ করে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে কিংবা সংক্রমণস্থলে ভ্রমণ করলে। ৩. অসুস্থ জীবিত/মৃত গৃহপালিত/বন্যপ্রাণী থেকে দূরে থাকতে হবে। ৪. ভ্রমণকারীরা আক্রান্ত হলে কাশি শিষ্টাচার অনুশীলন করতে হবে (আক্রান্ত ব্যক্তি হতে দূরত্ব বজায় রাখা, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা, হাত ধোয়া, যেখানে-সেখানে কফ কাশি না ফেলা)।.৫। ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য ভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত গাইডলাইন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং দ্রুত যোগাযোগের জন্য আইইডিসিআরে মোট চারটি হটলাইন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে এই নাম্বারগুলোতে ফোন দেয়া যেতে পারে (হট লাইন নাম্বারসমূহ: +৮৮০১৯৩৭০০০০১১/ +৮৮০১৯৩৭১১০০১১/ +৮৮০১৯২৭৭১১৭৮৪/ +৮৮০১৯২৭৭১১৭৮৫)

 সূত্রঃ তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়

Share

আরও খবর