১৭ জানুয়ারি, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের নিয়ে কর্মরত জাতিসংঘের ত্রাণ ও সাহায্য সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএকে অনুদান হিসেবে ৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার বিষয়টি ইউএনআরডব্লিউএকে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।

ইউএনআরডব্লিউএ’র সবচেয়ে বড় দাতা যুক্তরাষ্ট্র। সংস্থার বাজেটের ৩০ শতাংশই দেয় ওয়াশিংটন। সে হিসেবে প্রতিবছর সংস্থাটিকে ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে এবার সংস্থাটিকে মাত্র ৬ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে এ অর্থ দিলেও ইউএনআরডব্লিউএকে সংস্কারের শর্ত জুড়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ক্ষমতাসীন দল পিএলও’র কর্মকর্তা ওয়াসিল আবু ইউসুফ তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকার স্বেচ্ছায় অস্বীকারের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র এবং এর সঙ্গে গত ৬ ডিসেম্বর ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, অনুদান কমানোর বিষয়টি তার জানা নেই। তবে এর সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। কারণ স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

ইউএনআরডব্লিউএ’র কমিশনার জেনারেল পিয়েরে ক্রাহিনবুহল এক বিবৃতিতে বলেছেন, মার্কিন অনুদান কমিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ‘মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে সফল ও উদ্ভাবনী মানবিক উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে হুমকি দিচ্ছে।’

এর আগে সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইউএনআরডব্লিউএ’র অনুদান অর্ধেক কমিয়ে আনার প্রস্তাবটি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস মাত্তিস। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত নিক্কি হ্যালি পুরোটাই বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে ছিলেন। হ্যালির প্রস্তাবের সমঝোতা হিসেবেই টিলারসন ও মাত্তিস এই পাল্টা প্রস্তাব করেছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর প্রতিবাদে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আরব দেশগুলোর উদ্যোগে একটি প্রস্তাব আনা হয়। মার্কিন হুমকি উপেক্ষা করে প্রস্তাবটি সাধারণ পরিষদে পাস হয়। এরপরই ফিলিস্তিনে অনুদান বন্ধের হুমকি দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

Share

আরও খবর