১৯ এপ্রিল, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ ফিলিপাইনে ধরা পড়ল বিশালাকৃতির শিপওয়ার্ম। এই বিরল আকারে শিপওয়ার্মের জীবিত নমুনা এই প্রথম বিজ্ঞানীদের হাতে এল।

এক মার্কিন বিজ্ঞান সাময়িকীর দেওয়া বর্ণনা অনুসারে, প্রাণীটির দৈর্ঘ্য ১.৫৫ মিটার (৫ ফুট) এবং পরিধি ৬ সেন্টিমিটার (২.৩ ইঞ্চি)।

মিন্দানাওয়ের কাছে একটি উপসাগর থেকে মার্কিন, ফরাসী ও ফিলিপিনো বিজ্ঞানীদের একটি দল সম্প্রতি পাঁচটি দৈত্যাকার শিপওয়ার্ম খুঁজে পেয়ে তা সংগ্রহ করে।

ভিডিওতে দেখা যায়, বিজ্ঞানীরা একটি শিপওয়ার্মের খোলসের এক প্রান্ত সাবধানে কাটছেন। তারপর ধীরে ধীরে ঝাঁকিয়ে একটা লম্বা কালো থলথলে প্রাণীকে নলাকৃতির খোলস থেকে বের করছেন।

প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস অব দি ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা’ (পিএনএস) প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, কাফাস পলিথেমিয়া নামের এই বিরল ও রহস্যময় বাইভালভিয়া প্রজাতির জীবটি এখন পর্যন্ত পাওয়া দীর্ঘতম শিপওয়ার্ম। এর অস্তিত্ব আগে জানা থাকলেও এর জীবিত নমুনা পাওয়া গেল এই প্রথম।

দানবীয় এই শিপওয়ার্মের জীবন কাটে শক্ত খোলসের মধ্যে, কাদার ভিতর মুখ ডুবিয়ে। গালভরা নামের এই প্রাণীটি আসলে মলাস্কা বা ঝিনুক জাতীয় প্রাণীর সমগোত্রীয়। এই পরিবারের অন্যান্য প্রাণীগুলো আকারে অনেক ছোট হয়। পানির নিচে পচা কাঠে গর্ত করে থাকে তারা, বাঁচে সেই কাঠ খেয়ে। কিন্তু বৃহতাকারের শিপওয়ার্ম তার পরিবর্তে এক জাতীয় ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে কাদা ও সামুদ্রিক পলল খেয়ে বাঁচে। তাই শুধু আকৃতি নয়, তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র পাচনতন্ত্রের কারণেও এই প্রাণীটি বাকিদের চেয়ে আলাদা।

এই জীবটি ক্যালসিয়াম কার্বনেট দিয়ে নিজেই নিজের খোলস তৈরি করে। এ সময় নিজের মাথায় এক ধরনের শক্ত ঢাকনিও তৈরি করে শিপওয়ার্ম। কিন্তু পরে আকারে বাড়লে বা কাদার মধ্যে আরো গর্ত করতে চাইলে ওই ঢাকনি নিজে নিজেই গিলে ফেলে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

Share

আরও খবর