১৫ ফেব্রুয়ারি, অনলাইন ডেস্কঃ চিনাবাদাম এর মতো দেখতে একটি গ্রহাণু, যা অ্যাম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চেয়ে বড়, তা পৃথিবীতে কোনো একদিন আঘাত হানবে বলে, সতর্ক বার্তায় জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

মহাকাশের এই পাথরখন্ড যা ‘২০১৫ বিএন৫০৯’ নামে পরিচিত, এটি গত সপ্তাহে পৃথিবীর কাছ দিয়ে অতিক্রম করে গেছে ঘণ্টায় ৪৪ হাজার মাইল বেগে। এটি পৃথিবী এবং চাঁদের দূরত্বের ১৪ গুণ দূরত্বে আসতে পেরেছে।

২০০ মিটার চওড়া ও ৪০০ মিটার লম্বা এই গ্রহাণুটিকে নাসা ‘সম্ভাব্য বিপজ্জনক’ হিসেবে অ্যাখায়িত করেছে। তুলনা করলে বলা যেতে পারে এটি নিউইয়র্কের অন্যতম সুউচ্চ ভবন অ্যাম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং (৩৮১ মিটার) এর চেয়েও লম্বা।

পুয়ের্তো রিকোতে অবস্থিত বিশাল আকৃতির আরসিবো অবজারভেটরি টেলিস্কোপে গ্রহাণুটি ধরা পড়েছে গত সপ্তাহে।

ইউনিভার্সিটিজ স্পেস রিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে গবেষণারত গ্রহ বিজ্ঞানী ডা. এডগার্ড রিভেরা-ভ্যালেনটিন, যিনি আরসিবো অবজারভেটরি টেলিস্কোপের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন, তিনি বিজনেস ইনসাইডারকে বলেন, ‘এই চিনাবাদাম শেপটা বোঝাচ্ছে যে এটি বাইনারি সংযোগের, যেখানে দুই অংশ (গ্রহাণু) পরস্পরকে সফলভাবে প্রদক্ষিণ করতে পারে না এবং একসঙ্গে ফিরে আসে।’

তিনি বলেন, আরসিবো একটি ভবিষ্যত বর্ণনাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে, এর সাহায্যে এ ধরনের বস্তুর ভেদাভেদ করা যায়। আমরা তাদের আকৃতি, ডিজাইন, ঘূর্ণণ গতি, বোঝাপড়া, কাছাকাছি ভূতত্ত্ব পৃষ্ঠ গবেষণা করতে পারি।’

‘আরসিবো থেকে প্রাপ্ত তথ্য নাসা দ্বারা ব্যবহার করা যেতে পারে গ্রহের প্রতিরক্ষা মিশন হিসেবে অবহিত করার জন্য।’

পৃথিবীর কাছাকাছি আসা বস্তুতে প্রতিহত করার জন্য নাসা গত বছর গ্রহ প্রতিরক্ষা বিভাগ গঠন করেছে। প্রতি বছর নাসা প্রায় পৃথিবীর কাছাকাছি আসা দেড় হাজার বস্তু শণাক্ত করে এবং ইতিমধ্যে চিহ্নিত করেছে পৃথিবীর কাছাকাছি আসা বস্তুগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশই ১ কিলোমিটারের চেয়ে বেশি লম্বা।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি বর্তমানে ‘নিওক্যাম’ নামক অত্যাধুনিক ইনফ্রারেড স্পেস টেলিস্কোপ নির্মাণ করছে, যা আরো বেশি দক্ষতার সঙ্গে চিহ্নিত করতে পারবে।

তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল

Share

আরও খবর