৯ নভেম্বর, স্পোর্টস ডেস্কঃ ইমরুল কায়েসের ভাগ্য ভালো বলতেই হবে।  ভিজিটর ভিসা নিয়ে ভারতে ঢুকে কোনো ঝামেলায় পড়তে হয়নি। যদি ‘ধরা’ খেতেন তাহলে দেশে ফিরতেই হতো! দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে জায়গা পেয়ে ভারতে তার খেলা হতো কিনা কে জানে?

ঢাকা থেকে কলকাতা।  নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু বিমানবন্দরে কয়েক ঘন্টার অপেক্ষা। এরপর নাগপুরের ফ্লাইট।  মুমিনুলের নেতৃত্বে আট ক্রিকেটার যোগ দিয়েছে টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডের সঙ্গে। আজ নাগপুরের বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি দলের সঙ্গে অনুশীলনে ছিলেন টেস্ট দলের ক্রিকেটাররা।  লাল বলে ব্যাটিং, বোলিং, ফিটনেস ট্রেনিং সবই করেছেন তারা।

টি-টোয়েন্টির ক্রিকেটাররা এক ম্যাচ জিতে কিছুটা হলেও ভারতে মান রেখেছেন।  টেস্ট ক্রিকেটাররা কতোটুকু পারবেন তা সময় বলে দেবে। তবে ইডেনের পিঙ্ক বলের টেস্ট নিয়ে ক্রিকেটারদের উন্মাদনার কমতি নেই।  প্রথমবারের মতো ভারত ও বাংলাদেশ খেলবে দিবারাত্রির টেস্ট।  ক্রিকেটাররা উন্মাদনায় থাকলেও মনের ভেতরে রয়েছে ভয়।

ভয় পিঙ্ক বল নিয়ে, প্রস্তুতির যথেষ্ট সুযোগ নিয়ে।  দেশ ছাড়ার আগে মিরপুরে এক সেশন পিঙ্ক বলে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ।  ওই প্রস্তুতি যথেষ্ট মনে করছেন না ইমরুল কায়েস। আবার ফ্রেশ উইকেট না পাওয়ার আক্ষেপও ঝরল তার কন্ঠে, ‘এনসিএলের ম্যাচের পর একটা সেশন অনুশীলন করেছি। মিরপুরের চতুর্থ দিনের উইকেট কেমন হয় বুঝেনই তো! নতুন বলে হুটহাট লাফিয়ে উঠে বল।  বল পুরোনো হলে কেমন রিঅ্যাক্ট করে সেটাও তো দেখার।’

পিঙ্ক বলের সিমের সুঁতো কোন রঙের হবে তা নিয়ে অনেক ভাবনা। অধিনায়ক মুমিনুল হক জিজ্ঞাসা, ‘জানেন নাকি পিঙ্ক বলের সিম কোন রঙের?  অন্ধকারে কালো রঙের হলে তো সমস্যা হতে পারে।’

এখন পর্যন্ত যে কয়েকটি দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচ খেলা হয়েছে প্রতিটিই হয়েছে কুকাবোরা বলে।  ইডেনে প্রথমবারের মতো দুই দল খেলবে এসজি বল দিয়ে। ভারতের প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে এরই মধ্যে তিন ডজন বল কিনেছে বিসিবি। যেগুলো বাংলাদেশ দল হাতে পাবে ইন্দোরে পা দেওয়ার পরে।  ফলে পিঙ্ক বলে প্রস্তুতির কোনো সুযোগই পাচ্ছে না দল।

মেহেদী হাসান মিরাজ মিরপুরে পিঙ্ক বলে হাত ঘুরিয়েছেন অনেক ওভার। পিঙ্ক বল নিয়ে তার ভাবনা, ‘উইকেটে বল ঘুরলে আমাদের জন্য ভালো। যদি না ঘোরে তাহলে সমস্যা। এমনিতে আর কিছু নিয়ে তো ভাবার সুযোগ নেই। খেলতেই হবে।’ পেসার ইবাদত হোসেন ভাবতে চান না এসব নিয়ে।  ইন্দোর টেস্টের পর ইডেন নিয়ে ভাবতে চান ডানহাতি এই পেসার।

প্রথমবারের মতো ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফরে এসে বাংলাদেশ পূর্ণ সুবিধা পাচ্ছে কিনা সেটা নিয়ে বড় প্রশ্ন আছে। টেস্ট সিরিজের আগে কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ নেই। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে শুরু টেস্ট ম্যাচ। এর আগে কি প্রস্তুতির যথেষ্ট সুযোগ পেল সফরকারীরা? প্রস্তুতি ম্যাচ কি দরকার ছিল না? রাসেল ডমিঙ্গো এ নিয়ে তেমন কথা বাড়ালেন না, ‘থাকলে অবশ্যই ভালো হতো।’

 

Share

আরও খবর