১৯ এপ্রিল, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ভারতের সঙ্গে তিস্তাসহ অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে জাতিসংয়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছে বিএনপি।

এজন্য বিশ্বপরিমণ্ডলে পানি অধিকারের বিষয়টির যৌক্তিকতা তুলে ধরতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

‘রক্ত দিয়ে এনেছি স্বাধীনতা, জীবন দিয়ে রক্ষা করব সার্বভৌমত্ব’-শীর্ষক এক মানববন্ধনের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল।

সরকার ভারতের কাছ থেকে পানির অধিকার আদায়ে ব্যার্থ হয়েছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অবিলম্বে তিস্তা নদীর পানি এবং ৫৪টি অভিন্ন নদীর ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবি জাতিসংঘে তুলে ধরুন এবং সমস্যা সমাধানে তাদের সম্পৃক্ত করুন। কারণ আমরা কোনো দয়া চাই না, এটা আমাদের ন্যায্য অধিকার।’

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে তিস্তা চুক্তির বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শুধু তিস্তা চুক্তিই নয়, অভিন্ন ৫৪টি নদীর ন্যায্য হিস্যার কোনো চুক্তি করতে পারেননি। অথচ গত কয়েক বছর ধরে যে বিষয়গুলো ছিল বাংলাদেশের জন্য ট্রাম্পকার্ড, যা ছিল বাংলাদেশের জন্য দর কষাকষির বিষয়; সেগুলো তিনি (প্রধানমন্ত্রী) অবলীলায় ভারতের কাছে তুলে দিয়ে এসেছেন।’

তিনি বলেন, ‘ট্রানজিট দিয়েছেন, ব্যবসা বাণিজ্যর সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন, অথচ আমরা এখন পর্যন্ত কিছুই পাইনি। শুধু আশ্বাস পেয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের নতজানু মনোভাব দিয়ে কখনও দাবি আদায় করা যাবে না, আদায় করা যায় না। এই সরকার ব্যর্থ হচ্ছে কারণ এরা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়। যারা তাদের ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছে তাদের কাছে আমাদের কোনো বিষয়ে ন্যায্য দাবি সেভাবে পেশ করতে পারছেন না।’

সম্প্রতি দেশের উত্তর পূর্বাঅঞ্চলে উজানের ঢলে মেনে আসা পানিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির জন্য পানি চুক্তি না হওয়াকে দায়ী করেন বিবএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘উজান থেকে অসময়ে পানি এসে বন্যায় ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ফসল তলিয়ে গেছে। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে আমাদের কোনো চুক্তি নেই। তাই যখন বন্যা হয় তখন ভারত বাঁধগুলো খুলে দেয়, আমরা বন্যায় ভেসে যাই।’

বিএনপি মানুষের অধিকার আদায় এবং দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলন করছে দাবি করে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে। এজন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

আয়োজক সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি হাজী আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব) জয়নুল আবেদীন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।

Share

আরও খবর