১৭ জানুয়ারি, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ‘ত্রুটিপূর্ণ তফসিলের’ কারণে ডিএনসিসি নির্বাচন স্থগিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে দাবি করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘নির্বাচন বানচাল করা সরকারের পূর্বপরিকল্পিত নীলনকশা।’

বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া এ নির্বাচন কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

রিজভী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ত্রুটিপূর্ণ তফসিলের কারণেই সংক্ষুদ্ধরা রিট করার সুযোগ পেয়েছেন। আমরা বারবার বলে আসছি নির্বাচন নিয়ে বর্তমান সিইসি আওয়ামী লীগের মাস্টার প্ল্যানেরই অংশ। ডিএনসিসিসহ ঢাকা সিটিতে যদি সুষ্ঠু ভোট হয় তাহলে ক্ষমতাসীনদের ভরাডুবি হবে এটা সরকারি দল নিশ্চিত জানে। ডিএনসিসি নির্বাচন বানচাল করা পূর্বপরিকল্পিত নীলনকশা, এটি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ প্রযোজনা।’

পরাজয়ের ভয়ে সরকার নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে ত্রুটিপূর্ণ তফসিল ঘোষণা করেছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।

‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও এ বছর হওয়ার কথা। তাই ঢাকা সিটিতে বিপুল ভোটে পরাজিত হলে আওয়ামী লীগের জাতকুল কিছুই থাকবে না। তাই সরকারের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন আইনি ত্রুটি রেখে এ তফসিল ঘোষণা করেছেন। এটা সরকারেরই নীল নকশার একটা অংশ।’

তিনি বলেন, ‘গত ৯ জানুয়ারির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১৮ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এখন যিনি প্রার্থী হবেন তিনি জানেন না তিনি ভোটার কি না। তা ছাড়া মনোনয়নপত্রে ৩০০ ভোটারের স্বাক্ষর থাকতে হবে। ভোটার তালিকা প্রকাশ না হলে এটা সম্ভব হচ্ছে না।’

রিজভী বলেন, ‘এ ছাড়া স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী উত্তর সিটি করপোরেশনে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ড মিলে কাউন্সিলর ৭৫ শতাংশ হয় না। কারণ নতুন ১৮টিতে তো নির্বাচনই হয়নি। তা ছাড়া, সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডে যারা কাউন্সিলর হবেন তারা কত দিনের জন্য নির্বাচিত হবেন। তারা কি পাঁচ বছরের জন্য হবেন, না আড়াই বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। তা নির্ধারণ করেনি কমিশন। এ সকল ত্রুটির কারণেই রিট করার সুযোগ পেয়েছেন সংক্ষুব্ধরা।’

Share

আরও খবর