২০ মার্চ, অনলাইন ডেস্কঃ সংসদ ভেঙে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। অবিলম্বে এ নির্বাচন চান তিনি। তার দাবি, দেশে গণতন্ত্র এখন অবরুদ্ধ। বাকস্বাধীনতা ও সভা-সমাবেশের অধিকারসহ সব রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। বিতর্কিত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও নির্বাচনী ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর দাবিও জানান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ১৯ দফা দাবি সংবলিত একটি প্রচারপত্রে এসব কথা বলেন বেগম জিয়া। প্রচারপত্রটির লক্ষাধিক কপি এরই মধ্যে তৃণমূলে পাঠিয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। পোস্টার আকারে এগুলো লাগানোর জন্য নেতা-কর্মীদের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সম্পদ, জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বেগম খালেদা জিয়ার ডাক সংবলিত এ পোস্টারটি দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রচার করেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, জনদাবি সংবলিত এ পোস্টার সাঁটাতে গিয়ে তারা পুলিশসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে পড়ছেন। তারপরও সারা দেশে পোস্টার সাঁটানো হচ্ছে। জেলা-মহানগর, অঙ্গ-সংগঠনের মাধ্যমে পোস্টার লাগানোর কাজ চলছে। পোস্টারে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ছাড়াও গুম, খুন, অপহরণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ এবং এসবে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং অপহূত সব নাগরিককে পরিবারের কাছে ফেরত প্রদানের দাবিও জানান বেগম জিয়া। প্রচারপত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ পাচার, ব্যাংক লুট, শেয়ার কেলেঙ্কারিসহ রাষ্ট্রের টাকা আত্মসাৎ ও পাচারকারীদেও গ্রেফতার এবং পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধার কমর দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত করা, প্রশাসন আওয়ামীকরণ, আঞ্চলিকীকরণ বন্ধ এবং বিচার বিভাগকে সরকারের প্রভাব মুক্ত করা, শিক্ষার মান ধ্বংস, পরীক্ষায় কৃত্রিম উপায়ে পাসের হার বৃদ্ধি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও সরকারি চাকরিতে নিয়োগে দলীয়করণের ঘৃণ্য অপতৎপরতা বন্ধ করা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি ছাত্র সংগঠনের সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব বন্ধ করা, শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, সুন্দরবন রক্ষার্থে পরিবেশ বিধ্বংসী ও বিতর্কিত কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকন্দ্র প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ করা, সার, কীটনাশক ও বীজের দাম কমানো, পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য কমানো, শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, ধর্মীয় উপাসনালয়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিত হামলা বন্ধ, চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্যের দাম কমিয়ে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা। পাশাপাশি ‘বাজারে আগুন, বিপর্যস্ত জনজীবন’ শিরোনামে আরেকটি পোস্টার তৈরি করা হয়েছে।

এই বর্তমান সরকারের সঙ্গে বিএনপি সরকারের আমলে নিত্যপণ্য ও সেবাজাতীয় পণ্যের দামের তারতম্য তুলে ধরা হয়েছে। ক্যাবের (কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) সূত্র উল্লেখ করে বিএনপি হিসাব করে দেখিয়েছে মোটা চালের দাম বিএনপি সরকারের সময়ে ছিল ১৮.২৫ টাকা এখন দাম ৩৫.৪১ টাকা। বেড়েছে ১৫৮.১৬ শতাংশ। আটার দাম বেড়েছে ৭০.৬৬ শতাংশ, ডাল ১২৬.৪১ শতাংশ, ভোজ্যতেল ১২৮ শতাংশ, লবণ ১৫৯.১৮ শতাংশ, চিনি ৩১ শতাংশ, গরুর গোস্ত ১০৪.২৮ শতাংশ, খাসির গোস্ত ১৮৭.৯০ শতাংশ, পিয়াজ ৯৫ শতাংশ ও গুঁড়া দুধ ৯১.৯৬ শতাংশ বেড়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় এ রকম অনেক পণ্যের বর্তমান দাম তুলে ধরার পাশাপাশি জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, গণপরিবহন, বাড়ি ভাড়া, ট্রেড লাইসেন্স, সিএনজি অটোরিকশা, জমির খাজনা ও সারের দাম বিএনপি সরকারের চেয়ে অনেকগুণ যে বেড়েছে, তা তুলে ধরা হয়েছে।

Share

আরও খবর