৩০ মার্চ, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ঝড়-বৃষ্টির কারণে স্থগিত থাকার পর মৌলভীবাজারের নাসিরপুর এলাকার জঙ্গি আস্তানায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ফের শুরু হয়েছে।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের নাসিরপুরে একতলা বাড়ির উঠানে অবস্থান নিয়েছে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট। এছাড়া সোয়াত সদস্যরা সেখানে তল্লাশি শুরু করেছেন। অভিযান শুরুর পর দুপুর ১টার দিকে দুই দফায় মুহুর্মুহু গুলি বর্ষণের শব্দ শোনা গেছে।

এদিকে পৌর শহরের বড়হাট এলাকায় অন্য আস্তানার দিক থেকে সকালে গুলির শব্দ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এর আগে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সোয়াত টিমের সদস্যরা মৌলভীবাজার পৌঁছান। পরে তারা নাসিরপুরে অভিযান শুরু করেন।

লন্ডন প্রবাসী এক ব্যক্তির মালিকানাধীন দুটি বাড়ি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বুধবার ভোরে ঘিরে ফেলে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। এরপর একাধিকবার গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায় ওই দুটি এলাকা থেকে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সোয়াত টিমের সদস্যরা মৌলভীবাজার পৌঁছান।

পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে ‘অপারেশন হিট ব্যাক’ শুরু করেন সোয়াত সদস্যরা। এ সময় ওই বাড়ির দিক থেকে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়। এরপর রাত ১০টার দিকে আলোর স্বল্পতার কারণে অভিযান স্থগিত করে ভোরে তা শুরুর করার কথা জানানো হয়।

কিন্তু ভোরে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে অভিযান আরও বিলম্বিত হয়। সোয়াত সদস্যরা সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নাসিরপুরে এলেও তারা বৃষ্টির কারণে অপেক্ষায় থাকেন।

এদিকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মৌলভীবাজারের নাসিরপুরের সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শেষ করার পর বড়হাটের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরু করা হবে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বড়হাটে এলাকায় পৌঁছার পর সেখানে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

মনিরুল ইসলাম বলেন, মৌলভীবাজারের দুটি জঙ্গি আস্তানায় বুধবার যে অভিযান শুরু হয়েছিল, বৈরী আবহাওয়ার কারণে আজ সকালে তা শুরু করা যায়নি। এখন নাসিরপুরে অভিযান শেষ করে আমরা বড়হাটে অভিযান শুরু করব।

এর আগে বুধবার বিকেল ৩টায় মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাট ও সংলগ্ন কুসুমবাগ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। একই সময়ে সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ভবন থেকে পূর্ব দিকে নাসিরপুর গ্রামসহ দুই কিলোমিটার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। দুটি এলাকার দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে। মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে এই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

Share

আরও খবর