২৬ সেপ্টেম্বর, অনলাইন ডেস্কঃ রাজধানীর মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারে পর্যাপ্ত ‘রাইট টার্ন’ না রাখায় ট্রাফিক সিগন্যাল বসানো হয়েছে। ফ্লাইওভারের ওপরে যানজট এড়াতে মালিবাগ এবং মৌচাক পয়েন্টে এই সিগন্যাল স্থাপন করা হয়েছে।

যানজট নিরসন করতে রাইট টার্নের সুবিধার জন্যই রাস্তার বদলে তৈরি করা হয় ফ্লাইওভার। অথচ যানজট নিরসনের স্বস্তির জায়গায় দেশে প্রথমবারের মতো এই ফ্লাইওভারেই বসাতে হচ্ছে সিগন্যাল।

কুড়িল ফ্লাইওভার ও বনানী জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের নকশাকার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সামছুল হক বলেন, মালিবাগ ও মৌচাকের সিগন্যালে তৈরি হওয়া ঐতিহাসিক যানজট নিরসনের পরিকল্পনা থেকে এই ফ্লাইওভার প্রকল্পটি এসেছিল। অথচ সেখানেই এখন সিগন্যাল বসানো হচ্ছে। এত দীর্ঘ একটি উড়ালসড়কে পর্যাপ্ত রাইট টার্নের ব্যবস্থা না রাখায় তা যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে না। তাহলে শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্থাপনা ব্যবহার করা আর ভূমির ওপরে তৈরি রাস্তার মধ্যে পার্থক্যটা থাকল কী? উল্টো ফ্লাইওভারের কলামগুলোর কারণে রাস্তার জায়গা নষ্ট হলো। এখন ফ্লাইওভারের ওপরে যানজট নিরসনে আবার পুলিশ বসাতে হবে। কারণ, বিদেশে সিগন্যাল মানলেও আমাদের দেশে সিগন্যাল মানার প্রবণতা নেই।

সরেজমিন মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের মালিবাগ অংশে দেখা যায়, ফ্লাইওভারের কাজ প্রায় শেষ। বিভিন্ন অংশে হালকা ঝালাই কিংবা ধোয়ামোছার কাজ চলছে। আগামী অক্টোবরেই উদ্বোধন হবে ফ্লাইওভারের। নিচের রাস্তায় চলছে পিচ ঢালাইয়ের কাজ। ফ্লাইওভারের মালিবাগ এবং মৌচাক এই দুই জায়গায় বসানো হয়েছে সিগন্যাল। এই ফ্লাইওভারে ওঠার পথ নামার পথের চেয়ে তুলনামূলক খাড়া।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এই ফ্লাইওভারে ওঠার দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০ মিটার আর নামার ক্ষেত্রে ৩২০ মিটার। ফ্লাইওভারে ওঠার রাস্তা বেশি ঢালু হয়, যাতে স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালিয়েই ওঠা যায়। আর নামার রাস্তাটি হয় তুলনামূলক খাড়া। কিন্তু মালিবাগ-মৌচাক ফ্লাইওভারে এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। এই ফ্লাইওভারের নকশা করে দিয়েছে বিদেশি প্রতিষ্ঠান। বিদেশে বাঁ দিকে স্টিয়ারিংয়ে চালিত গাড়ির কথা মাথায় রাখায় ওঠানামার লুপে এই বৈপরীত্য দেখা দিয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ব্যাপারে ড. সামছুল হক বলেন, বিদেশি গাড়ির কন্ডিশন এবং স্টিয়ারিংয়ের ধরন আমাদের চেয়ে আলাদা। তাই যে প্রতিষ্ঠান নকশা বুঝে নিয়েছে তারাও এই ভুলটা ধরতে পারেনি। এই ফ্লাইওভারের কারণে গণপরিবহন ব্যবস্থা ও যাত্রী ওঠানামায় ভোগান্তি তৈরি হবে। যেটা হয়েছে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে। আমাদের দেশে ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রবণতা এবং জবাবদিহিতা কম। ফলে উন্নয়নের নামে টাকা খরচ হয় কিন্তু জনগণের ভোগান্তি কমে না। তবে নকশা ভুলের কথা অস্বীকার করে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক সুশান্ত কুমার পাল বলেন, এই ফ্লাইওভারে নকশা ভুলের কোনো অবকাশ নেই। এটা মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে ছড়ানো হচ্ছে। রাইট টার্ন না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, মালিবাগ-মৌচাকের মতো জনবহুল এলাকায় জায়গা ছিল খুব কম। তাই আলাদা লুপ বের করার জায়গা কোথায়? এজন্য সিগন্যাল বসানো হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ফ্লাইওভারের ওপর সিগন্যাল আছে। এটা নতুন কিছু নয়। ফ্লাইওভারের কাজ শেষ, এখন উদ্বোধনের অপেক্ষা।

Share

আরও খবর