মাবিয়া আক্তার সীমান্তমাবিয়া আক্তার সীমান্ত। এসএ গেমসের এবারের পর্বে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম স্বর্ণ জয়ের নায়ক তিনি। নানা প্রতিকুলতা আর কষ্ট কে জয় করে ভাষার মাসে বাংলাদেশের জন্য বয়ে এনেছেন সম্মান। আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে বাজিয়েছেন আমাদের জাতীয় সঙ্গীত। আর সেই আবেগে কেঁদেছেন অঝোর ধারায়। এসএ গেমস থেকে ফিরে টাইমস টু হ্যালো’র সাথে আড্ডায় জানালেন তার আনন্দ, কষ্ট আর আবেগের কথা।সাথে জানালেন তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা।

দি টাইমস ইনফোঃ কেমন আছেন?
মাবিয়া আক্তার সীমান্তঃ ভাল আছি।

দি টাইমস ইনফোঃ ভারোত্তোলনে আসার পেছনের গল্পটা যদি একটু বলতেন।
মাবিয়া আক্তার সীমান্তঃ ভারোত্তোলনে আসার পুরো অবদানটাই আমার মামার। ২০১১ সালে ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে পদক জেতার পর থেকে আব্বা-আম্মার একটু আগ্রহ বাড়ে। কিন্তু প্রথম দিকে আশপাশের পাড়া-প্রতিবেশীরা অনেক কটু কথা বলতেন। কিন্তু আমার মামার কারণেই সাহস করে খেলতে পেরেছি। আর এখন পাড়া-প্রতিবেশী আমাকে নিয়ে গর্বই করেন। আমার মামা তো আমার স্বর্ণ জয়ের খবর শুনে অনেক কান্না করেছেন।

দি টাইমস ইনফোঃ ভারত থেকে ফিরে আসের পর এখন কি করছেন?
মাবিয়া আক্তার সীমান্তঃ আসলে এখন একটু অল্প সময়ের জন্য অবসরে আছি। বেশি সময় কাটছে সাক্ষাৎকার দিয়েই।

দি টাইমস ইনফোঃ পদক জয়ের পর আপনার কান্নার দৃশ্য টেলিভিশনে দেশের অনেকেই দেখছেন, সে সময়ে আপনার অনুভুতি কেমন ছিল?
মাবিয়া আক্তার সীমান্তঃ তখন অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মত ছিল না। আমি দেশের জন্য কিছু করতে পেরেছি, ভাবতেই ভাল লাগছিল। আর ভাষার মাসে আমি বাংলাদেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে পেরেছি, বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত আন্তর্জারতিক এমন অনুষ্ঠানে বাজাতে পেরেছি ভাবতেই ভাল লাগছে।

দি টাইমস ইনফোঃ একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে আপনার কোন স্মৃতি?
মাবিয়া আক্তার সীমান্তঃ ছোট বেলায় বাবার হাত ধরে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াটা খুব মিস করি।

দি টাইমস ইনফোঃ স্বর্ণ জয় করে দেশে ফিরে কেমন লাগছে?
মাবিয়া আক্তার সীমান্তঃ দেশে ফেরার পর নিজের জগতটা অনেকটাই পরিবর্তন হয়ে গেছে। বিশেষ করে যারা আমাকে চিনত না তারাও আমার সাথে পরিচিত হচ্ছে। আমার অনুভূতি জানতে চাচ্ছে। এমনকি ভবিষ্যতে যেন আরও ভাল করতে পারি, দেশের জন্য আরও সম্মান বয়ে আনতে পারি সেই অনুপ্রনা দিচ্ছে। সবচেয়ে মজার বিষয় বাহিরে বেরুলে অনেকেই আমার সাথে সেলফি তুলছে।

দি টাইমস ইনফোঃ ভারোত্তোলনে এখন পর্যন্ত আপনার অর্জনগুলো কী কী?
মাবিয়া আক্তার সীমান্তঃ এসএ গেমসের স্বর্ণ জয়ের আগে ২০১২-তে নেপালে দক্ষিণ এশিয়ান ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতেছিলাম। থাইল্যান্ডের কিংস কাপে রৌপ্য জিতেছিলাম। ২০১৪-র আফ্রো-এশিয়ান গেমসে ২টি রৌপ্য জিতেছিলাম। এরপর কাতারে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতেছি। পুনেতে কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপেও স্বর্ণ জিতেছি।

দি টাইমস ইনফোঃ সবকিছুর জন্য কৃতজ্ঞতা?
মাবিয়া আক্তার সীমান্তঃ সর্বপ্রথমে অবশ্যই মহান আল্লাহ তালার কাছে কৃতজ্ঞ। আমাদের ফেডারেশন এর কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। ফেডারেশন যদি আমাকে সাহায্য না করত তাহলে এ অর্জন আমি করতে পারতাম না। আপনারা জানেন গেমসের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে হাতে চোট পেয়েছিলাম। তারপরও আমার স্যার এর অনুপ্রেরণা আর তার যোগানো সাহস নিয়েই গেমসে যোগদান করি। আর অবশ্যই আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রি শেখ হাসিনাকে।

দি টাইমস ইনফোঃ আপনার আজকের এই সাফল্যের পেছনে পরিবারের অবদান কতটুকু?
মাবিয়া আক্তার সীমান্তঃ আপনারা জানেন আমার পরিবারের অবস্থা ততটা ভাল না। তারপরও সেখান থেকে তাঁরা আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করেছে।আমি আমার পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞ। আমার বাবা সবসময় আমাকে বলতেন তুমি তোমার মত করে ট্রেনিং চালিয়ে যাও। তিনি কখনোই আমাকে পরিবারের অবস্থা বুঝতে দিতেন না।

দি টাইমস ইনফোঃ নারীদের এগিয়ে যাওয়া নিয়ে আপনি কী ভাবছেন?
মাবিয়া আক্তার সীমান্তঃ আমাদের দেশে নারীরা পিছিয়ে পড়ছে সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক কারনে। তবে উপযুক্ত পরিবেশ পেলে আমরাও পুরুষদের মত করে দেখাতে পারি। তার উদাহারন আমি ও শীলা আপু। বাংলাদেশে আমাদের মত পরিবার ও সামাজিক পরিবেশ পেলে আরও অনেক মাবিয়া তৈরি হবে। এটাই আমি চাই।

দি টাইমস ইনফোঃ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
মাবিয়া আক্তার সীমান্তঃ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এপ্রিলে আমার অলিম্পিকে কোয়ালিফাই আছে। সেখানেও যেন বাংলাদেশের জন্য সর্বোচ্চ সম্মান নিয়ে আসতে পারি।

দি টাইমস ইনফোঃ বিয়ে নিয়ে কোন পরিকল্পনা?
মাবিয়া আক্তার সীমান্তঃ আপাতত এসব নিয়ে ভাবছি না। আমার কিছু স্বপ্ন আছে তা পুরণ হলেই বিয়ে নিয়ে ভাবব।

দি টাইমস ইনফোঃ আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। দি টাইমস ইনফোকে সময় দেওয়ার জন্য। ভাল থাকবেন।
মাবিয়া আক্তার সীমান্তঃ আপনাদেরও ধন্যবাদ।

Share

আরও খবর