১৭ সেপ্টেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর কাশফুল দেখলেই বোঝা যায় ঋতুর আবর্তনে এখন শরৎ। ভাদ্র গিয়ে পড়েছে আশ্বিনে।

ঘড়ির কাঁটায় বেলা ১১টা। ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে এদিক থেকে ওদিক ছুটছেন মন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকরা। কেউ পরিষ্কার করছেন প্রদীপ, কেউ ঘষে মেজে চকচকে করছেন ধূপতি। আর সপ্তাহ খানেক পরেই সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। তাই কেন্দ্রীয় এই মন্দিরে জোরেশোরে চলছে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি।

সরেজমিন ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গা মণ্ডপের কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। এ বছর নতুন মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা। ২১ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করা হবে নবনির্মিত এই মন্দির ভবন। মন্দিরে লাগানো অনুষ্ঠান সূচিতে দেখা যায়, দুর্গাপূজার শুরু হয় মহালয়ার মধ্য দিয়ে। আগামী মঙ্গলবার সকালে মহালয়ার ঘট স্থাপনের মধ্যদিয়ে শুরু হচ্ছে দুর্গাপূজা। ২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে মর্তে আগমন ঘটবে দেবী দুর্গার। ২৭ সেপ্টেম্বর মহাসপ্তমী পূজা এবং এর পরদিন মহাঅষ্টমী ও সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ২৯ সেপ্টেম্বর মহানবমী পূজায় আরতি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন পূজা কমিটি। ৩০ সেপ্টেম্বর বিজয়া দশমীর মধ্যদিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ঢাকশ্বেরী মন্দিরে প্রতিবছর চিরাচরিত নিয়ম মেনেই তৈরি করা হয় দুর্গা প্রতিমা। এই প্রতিমা নির্মাণ করেন সুকুমার পাল আর পূজায় পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন রণজিৎ চক্রবর্ত্তী।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ্যামল কুমার রায় বলেন, পূজার অনেক আগে থেকেই আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। এ বছর নবনির্মিত মন্দিরে পূজার আয়োজন করায় ব্যস্ততা একটু বেশি। দুর্গা পূজার সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতিদিনই পূজা শেষে ভক্তবৃন্দের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হবে। পূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আমাদের দফায় দফায় বৈঠক চলছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূজা মণ্ডপে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ এবং আনসার দিতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতি মণ্ডপে ১০ জন করে স্বেচ্ছাসেবক রাখা হবে। তাদের কার্ড দেবে মহানগর পূজা কমিটি। এর বাইরে কেউ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ঘোরাফেরা করতে পারবে না। শুধু ঢাকেশ্বরী মন্দির নয় রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনসহ অন্যান্য মন্দিরেও চলছে দুর্গাপূজার প্রস্ততি। রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠন, সোসাইটি এবং ব্যক্তি উদ্যোগেও আয়োজন করা হয়েছে দুর্গাপূজার। পূজার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় মণ্ডপ তৈরি এবং আলোকসজ্জার প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি সূত্রে জানা যায়, এ বছর সারা দেশে পূজা মণ্ডপের সংখ্যা ৩ হাজার ৭৭টি। আর রাজধানীতে পূজা মণ্ডপের সংখ্যা ২৩১টি। লোকনাথ পঞ্জিকা অনুসারে এবার পৃথিবীতে দেবী দুর্গা আসবেন নৌকায় আর যাবেন ঘোড়ায় চড়ে। নৌকায় এলে দেশে বর্ষা-বৃষ্টি হয় আর ঘোড়ায় গেলে পৃথিবীর ওপর দিয়ে ঝড়-ঝাপটা বয়ে যায় বলে বিশ্বাস করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

Share

আরও খবর