সঞ্জয় নীলপৃথিবীর আদি লগ্ন থেকেই নারীরা পুরুষদের শাসনে চলে বলে শোনা বা দেখা যায়। বিশেষ করে এই দৃশ্যটা আমাদের মত মধ্য কিংবা নিম্ন আয়ের দেশে যেখানে নারী মানেই ঘরের মেয়ে, মা কিংবা বউ এমন সমাজেই বেশি দৃশ্যত হয়। আমাদের দেশে নারী নিয়ে অনেক কথা হয়। নারীর অধিকার, নারী ও পুরুষ সমঅধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন কিংবা নারীর যোগ্য সন্মান নিয়েই চলে চায়ের কাপে ঝড়। কিন্তু বাস্তব ঘাটলে দেখা যায় যারা এই কথা বলে বা প্রশ্ন তোলে তারাই আসলে মানেনা কিছু। তাদের হাতেই নারী নামক বাঁকা চোখে দেখতে পাওয়া যে মানুষটি থাকেন তাঁর মূল্যই নেই বললে চলে। এখন প্রশ্ন হল যখন অবস্থা এই তাহলে সেখানে নারীর সত্যিকারভাবে মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভ কিভাবে আসবে? এটা কি নারীরা আন্দোলন করে আনতে পারবেন! নাকি বদলাতে হতে আমাদের সবার নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি! কিংবা নারীকে নারী রূপে না দেখে প্রথমে তাকে মানুষ হিসেবে দেখতে শিখতে হবে!

এখন আসি আসল কথায় আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা নেতিবাচক আচরণের কারন উৎঘাটন। প্রথমেই বলব আমাদের দেশের মানুষের শিক্ষার হার কম তাই তাঁরা তাদের মুল্যবোধ কিংবা মনুষ্যত্ব জ্ঞান থেকে বহু দূরে বাস করেন। কারন শিক্ষা মানুষের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে একটি প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তবে এখানে একটা ফাঁক থেকে যায় সেটা হল শিক্ষিত লোকতো সমাজে গন্ডায় গন্ডায় আছেন কিন্তু কই তাঁরা তো মুখ ফুটে কিছু বলেন না কিংবা নারীকে অসন্মান করতেও পিছপা হননা। তাহলে কি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনও গলদ আছে! এই প্রশ্ন বাস্তবগতভাবে মনে আসতেই পারে আমাদের। আমি যদি আমার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলি তাহলে বলব আমাদের শিক্ষা আছে কিন্তু সুশিক্ষা নেই। কেন এই কথা বললাম সেই প্রশ্ন আপনাদের মনে জাগতেই পারে, অনেকে বেশ চটেও যেতে পারেন আমার উপর। কারন সত্য কথা বেশ তিতাই লাগে সবার কাছে। আর তা শুনলেও না শোনার ভান করাটাও আমাদের নিজেদেরই একটা জন্মগত অভ্যেস হয়ে গেছে। কারন আমাদের এই জাতিটি সবসময়ই একটু ঝামেলা মুক্ত থাকতে চান। ঘরে বসে তাঁরা আলোচনা করে ঝড় তুলতে থামবেন না কিন্তু রাইরে গিয়ে যে একটা প্রতিকার করবেন সে ঝামেলায় না জড়ানোই তাঁরা উত্তম মনে করেন। তাহলে বলুন আমি কেন আমাদের শিক্ষিতদের শিক্ষিত বলব। উত্তরটা নিশ্চয়ই এখন খুঁজে পেয়েছেন।

আচ্ছা যাই হোক এখন আসা যাক সুশিক্ষিত বলতে আমি কি বোঝচ্ছি। বলতেই পারেন দাদাভাই বেশত গেজাচ্ছেন অনেকক্ষন ধরে সুশিক্ষিত শব্দটা নিয়ে তা বলুন না সেটা কি। হ্যাঁ, সুশিক্ষিত বলতে আমি তাকেই বোঝাব যিনি সত্যে অটল, নির্ভিক ও মনুষ্যত্ব সম্পন্ন। যিনি হক কথা বলতে পিছপা হননা। যার কাছে নারী পুরুষ ভেদাভেদ নেই। যিনি বিশ্বাস করেন সবাই এক। এখন বলি সমস্যাটা আসলে হয় কিভাবে! আমাদের সমাজে সবসময়ই নারী ও পুরুষ আলাদা এমনটাই শুনে আমরা বড় হই। আর যেটা আমাদের থেকে আলাদা সেটাকে নিয়ে আমাদের মাথাব্যথাটা সবসময়ই থাকে। তবে সুখকর মাথাব্যাথা নয় সেটা দুঃখকর। কারন যদি ব্যাখ্যা করি তবে বলব নারী পুরুষ আলাদা দুটি লিঙ্গ এটাই আসল ভেদ আমাদের মধ্যে। আর সেটাই সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে। অন্য লিঙ্গে আমাদের আকর্শন থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে ছোট বেলা থেকে শুনে বড় হই নারী হইতে দূরে থাক। তা বলুন আপনাকে যদি বলা হয় ঐ ঘরে তোমার যাওয়া নিষেধ আছে তো আপনার তো ঐ ঘরের প্রতিই আকর্শন বাড়বে তাই না। আর আপনি ঐ ঘরেই ঢুকবেন, তা ভালভাবে দরজা খুলে কিংবা লুকিয়ে কিংবা জোড় করে দরজা ভেঙ্গে। আর এই জিনিসটাই যত সমস্যা ঘটায়। আরও যদি বলি তাহলে বলব আমাদের জাতিগত একটা সমস্যা আছে সেটা হল আমরা পজেটিভ অপেক্ষা নেগেটিভ এ বেশি আকৃষ্ট। বলতেই পারেন এমনটা কেন বললাম। উত্তর আপনাদের সামনেই। আপনি এমনিতেই ভাই বিয়ে করে একজন নারীকে আপনার সারা জীবনের সঙ্গী হিসেবে পাচ্ছেন আর তাতেই তুষ্ট থাকুন না। কেন শিয়াল হতে আপনার এত ইচ্ছা আর কেনইবা পরের মুরগীতে আপনার এত আকর্শন। এর কিছুটা ব্যাখ্যা আগেই দিয়েছি এবার অন্যটা বলি। যেহেতু আমরা নেগেটিভে আকৃষ্ট তাই ফ্রি ফ্রি যেকোনও জিনিস পেতে আমাদের পছন্দ। আর সেক্ষেত্রে আমাদের চরিত্রের হানী ঘটাকেও আমরা তেমন একটা পাত্তা দেই না। কারন চরিত্র কি সেটাই আমরা জানিনা। ঐ যে আগেই বলেছি আমরা শিক্ষিত কিন্তু সুশিক্ষিত নই।

যাই হোক আসল কথায় আসি, এখন এই নারীকে আমরা তাদের সঠিক মর্যাদা কিভাবে দিতে পারি আর তাঁর জন্য কি করতে হবে আমাদের সেটাই আসল কথা কারন যদি একটার পর একটা আমাদের সমস্যার কথা খুঁজতে থাকি তাহলে খাতা কলম সব শেষ হবে তবু সমস্যা শেষ হবেনা। একজন নারী তিনি মা, মেয়ে কিংবা স্ত্রী। এখন আমাদের সবার ঘরেই এই নারী রূপ দেখতে পাই আমরা। এখন এই রূপকে যদি আমরা সব নারীর মাঝে দেখি তাহলেই সমস্যার সমাধান আসবে তবে মা কিংবা মেয়ে হিসেবে দেখলেই ভাল হবে, কারন সবাইকে স্ত্রী হিসেবে দেখতে গেলে ব্যাপারটা সুখকর হবে বলে মনে হয়না। এখন প্রশ্ন আসবে কিভাবে আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাব? আমরা শিক্ষা অর্জন করি সবাই টুকটাক আর সবখানেই একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে উঠতে গেলে কি করতে হবে তা বলা থাকে তা জেনেও তেমন একটা ফল আসেনা সমাজে। তবে এই যে শিক্ষার কথা বলা হচ্ছে এটা যদি সন্তান জন্ম নেয়ার পর থেকেই তাকে সুন্দরভাবে বন্ধুবেশে বোঝান হয় তাহলে তাঁর ফল অবশ্যই সুখকর হবে। কারন প্রথম শিক্ষাটা আসে মা বাবার কাছ থেকেই। তাই শুরু করতে হবে আমাদের গোঁড়া থেকেই। এছাড়া আর কোনও উপায় আছে বলে বর্তমানে কিছুই মনে করতে পারছি না, তবে পরে যদি পেয়ে যাই তাহলে তা অবশ্যই সবাইকে জানাব নিজ দায়িত্বে সেটা বলেই রাখলাম। আর শেষ অবধি একটা কথাই বলি বিপরীতে আকর্শন থাকবে চিরকাল তবে তা সুখকর আকর্শন হোক সেই আশা রাখি সবসময় হয়ত আমার এই লেখাটা মূল্যহীন হবে বলেই মনে করি। শেষবধি বলব দৃষ্টিভঙ্গী হোক ইতিবাচক আর শিক্ষা হোক মনুষত্বেরশিক্ষা সর্বময় তা কিবা নারী কিবা পুরুষ যেন ভেদ নাহি হয়।

সঞ্জয় নীল
৫ আগস্ট, ২০১৫ইং।

Share

আরও খবর