২৭ নভেম্বর, অনলাইন ডেস্কঃ এবার সরকার দেশের দুর্গম এলাকায় তথ্য প্রযুক্তি সহজে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে ‘দুর্গম এলাকায় তথ্য প্রযুক্তি নেটওয়ার্ক স্থাপন (কানেক্টেড বাংলাদেশ)’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আট হাজার ১০৬ কিলোমিটার অপটিকাল ফাইবার কেবল প্রয়োজন হবে। এগুলো সংগ্রহ করতে সরকারের মোট ১১০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয় হবে।

তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার দেশব্যাপী সুদৃঢ়, আধুনিক এবং উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামো প্রতিষ্ঠার কাজ করছে।

এ লক্ষ্যে সারাদেশে আইসিটি নেটওয়ার্ক স্থাপনের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকায় একটি স্থায়ী নেটওয়ার্ক স্থাপন ও সারা দেশে ব্যাকবোন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে ‘কানেক্টেড বাংলাদেশ’ প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের দক্ষতা, দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতাসহ বিভিন্ন খাতে অগ্রগতি হবে। যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র জানায়, গতবছর সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল ব্যবস্থাপনা কমিটির এক বৈঠকে ‘দুর্গম এলাকায় তথ্য প্রযুক্তি নেটওয়ার্ক স্থাপন (কানেক্টেড বাংলাদেশ)’ প্রকল্পটি ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল’ এর অর্থায়নে ৪৭৬ কোটি ৭ লাখ টাকায় প্রাক্কলিত ব্যয়ে এবং ২০১৮ সালের জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদিত হয়।

প্রকল্পের আওতায় দেশের ৮টি বিভাগের অন্তর্গত ৭৭২টি দুর্গম ইউনিয়নে অপটিকাল ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে। তবে ইতোমধ্যে প্রকল্প শেষ হওয়ার সময় দুই বছর বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের ডিপিপি এবং বাৎসরিক ক্রয় পরিকল্পনা অনুযায়ী সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে একমাত্র রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কেবল শিল্প লিমিটেড থেকে প্রয়োজনীয় অপটিকাল ফাইবার কেবল ক্রয়ের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে বাংলাদেশ কেবল শিল্প লিমিটেড মোট ১১১ কোটি ২৩ লাখ টাকা মূল্যের দরপত্র দাখিল করে। দরপত্রের মেয়াদ আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসারে একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কেবল শিল্প লিমিটেড থেকে ক্রয় করার বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে।

যেহেতু বর্ণিত দরপত্রে অন্যকোন সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সুযোগ ছিলনা। তাই দরপত্র উন্মুক্ত করার নির্ধারিত সময়ের আগে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান নির্বাহী পরিচালক বিসিসি এর অনুমোদনক্রমে দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটি কর্তৃক দাখিলকৃত দরপত্রটি উন্মুক্ত করা হয়।

পরে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির আহ্বায়কের সভাপতিত্বে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির বৈঠকে প্রাথমিক মূল্যায়ন সম্পাদিত হয়। বৈঠকে দরপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে যোগ্যতার মানদণ্ড ও কারিগরি বিষয়ে মূল্যায়ন করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ কেবল শিল্প লিমিটেড রেসপন্সিভ মর্মে বিবেচিত হয়।

সূত্র জানায়, জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে প্রয়োজনীয় অপটিকাল ফাইবার সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তার আগে বুধবার বিষয়টি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদনের পর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

Share

আরও খবর