৫ নভেম্বর, অনলাইন ডেস্কঃ ভারতের রাজধানী দিল্লির বায়ুদূষণ অতি বিপজ্জনক মাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। দূষণের কারণে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে দুটি জেলার স্কুল। এছাড়া ধোঁয়ার কারণে দৃষ্টি অস্বচ্ছ হওয়ায় বিঘ্নিত হচ্ছে বিমান চলাচল।

এদিকে, দূষণে প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ায়  ৪০ শতাংশ বাসিন্দা দিল্লি ছেড়ে অন্যত্র স্থায়ীভাবে চলে যেতে চাইছেন। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে। ১৭ হাজার মানুষের কাছ থেকে দিওয়ালি এবং তার পরবর্তী সময়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এই সমীক্ষায়।

এনডিটিভি অনলাইন জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো রোববার সকালে দিল্লির বাতাসের গুণমান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ৬২৫-এ পৌঁছে। বিকেলের দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। ধোঁয়ার কারণে রানওয়ে দেখতে না পাওয়ায় ৩৭টি বিমান দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারে নি। গাড়ি চলাচলের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য আগামীকাল থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত জোড়-বেজোড় রেজিস্ট্রেশন নম্বর অনুযায়ী গাড়ি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লোকাল সার্কেল নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম দিল্লি এবং এনসিআর এলাকায় ১৭ হাজার বাসিন্দার ওপরে একটি সমীক্ষা চালিয়েছে। তাতে দেখা গেছে, ৪০ শতাংশ বাসিন্দা আর দিল্লিতে থাকতেই চাইছেন না। ৩১ শতাংশ দিল্লিবাসী ভাবছেন এয়ার পিউরিফায়ার, মাস্ককে সঙ্গী করে থেকে যাবেন, প্রয়োজনে আরো গাছ লাগাবেন। আবার দূষণের জেরে যখন বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ, বাড়ি থেকে বেরোনোও বন্ধ হওয়ার উপক্রম তখন দিন কয়েকের জন্যে ঘুরে আসতে চাইছেন অন্য জায়গা থেকে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব পিকে মিশ্র পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। পাঞ্জাব, দিল্লি, ও হরিয়ানার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্সে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রাত্যহিক ভিত্তিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘উত্তর ভারতে দূষণের মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। দিল্লি সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। দিল্লিবাসী অনেক ত্যাগ করেছে। কোনো দোষ না করেও দিল্লির বাসিন্দাদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

Share

আরও খবর