বাকার বকুল ১

বাকার বকুল

বাকার বকুল। যিনি একাধারে একজন গুনী নাট্যকর্মী, নাট্য নির্দেশক, মুখাভিনয় ও লাঠি খেলার শিক্ষক। এছাড়াও এই গুনী ব্যক্তিটি বর্তমানে অভিনয় করছেন টিভি মিডিয়াতে। বলতে গেলে তিনি আছেন থিয়েটার ও মিডিয়ার সর্বময়। আজ তাঁর নানা ব্যস্ততা সত্যেও তিনি আমাদের ‘টাইমস টু হ্যালো ’র সাথে কিছুক্ষন আড্ডা দিয়েছেন আর জানিয়েছেন তাঁর কিছু জানা অজানা কথা।

দি টাইমস ইনফোঃ কেমন আছেন?
বাকার বকুলঃ ভাল।
দি টাইমস ইনফোঃ বর্তমানে কি নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
বাকার বকুলঃ আমি তো অনেক ধরনের কাজের সাথে যুক্ত তাই ব্যস্ততাটাও একটু বেশি। থিয়েটার, লেখালেখি, নির্দেশনা আর মিডিয়ায় টুকটাক অভিনয় এইত।
দি টাইমস ইনফোঃ প্রথমে মঞ্চ থেকেই শুরু করি, মঞ্চে বর্তমানে কি করছেন?
বাকার বকুলঃ বর্তমানে বাতিঘর নামে নতুন একটি দলের প্রথম প্রযোজনা ‘উর্নাজাল’ এর নির্দেশনা দিলাম। সম্পুর্ন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তৈরি করা হয়েছে এই নাটকটি পেক্ষাপট। আর আমার দল প্রাচ্যনাটে ‘ট্রাজেডি পলাশবাড়ী’ চলছে, এখানে আমি সহকারী নির্দেশক হিসেবে আছি। আর পাশাপাশি আমার অভিনয় করা দলের শো গুলোত করা হচ্ছেই।
দি টাইমস ইনফোঃ টিভি মিডিয়ায় কি কি করছেন?
বাকার বকুলঃ দুটি সিরিয়ালে কাজ করছি। আর সাথে সাথে কিছু এক ঘণ্টার কাজও করা হচ্ছে। আর কিছু কাজের কথা হয়ে আছে সেগুলো সামনে করব।
দি টাইমস ইনফোঃ আপনার মতে টিভি মিডিয়াতে কতটা পরিবর্তন এসেছে?
বাকার বকুলঃ সত্যি বলতে ছোট বেলা থেকে প্রায় এক ধরনের নাটক দেখে সিনেমা দেখে বড় হয়েছি। কিন্তু বর্তমানে যারা পরিচালনা করছেন তারা নতুন নতুন এক্সপেরিমেন্ট করছেন যেটা অনেক পরিবর্তন এনেছে সাথে সাথে আমাদের আলাদা একটা স্বাদ দিতে পারছে। আর এই পরিবর্তনটা এসেছে ফিল্ম এ্যান্ড মিডিয়া পড়ুয়া নির্মাতা ও থিয়েটারের নতুন এক্সপেরিমেন্টের দ্বারা।
দি টাইমস ইনফোঃ মিডিয়ার অবস্থান-
বাকার বকুলঃ আসলে আমি খুব ভাল মিডিয়ার লোক নই। তবুও আমার কথা যদি আমি বলি বলব শিল্পগুনের সাথে অর্থের একটা সম্পর্ক আছে। বর্তমানে যে কোনও কাজ এজেন্সি ভিত্তিক হয়ে গেছে তাই কয়েক বার হাত বদল হয়ে আসার পরে নির্মাতার কাছে যা থাকে তাতে আসলে কি তৈরি করা সম্ভব তাতে কি শিল্পগুন থাকবে নাকি অন্য কিছু থাকবে তা বোঝাই কঠিন। আর শিল্পগুন দানের জন্য আর একটি জিনিস বিশেষ দরকার তা হল এই বিষয়ে সঠিক শিক্ষা। এই গুলো থাকলেই আমি মনে করি ভাল কিছু করা সম্ভব।
দি টাইমস ইনফোঃ মিডিয়ার নেতিবাচকতা নিয়ে আপনার অভিমত-
বাকার বকুলঃ আসলে নেতিবাচকতা আসে আমাদের শিক্ষার অভাব থেকে। আমাদের ছোট বেলা থেকে যদি শিল্পের সাথে মিশতে দেয়া হত আর নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ক্ষেত্রে কাজ করতে দেয়া হল লেখাপড়ার পাশাপাশি তাহলে এই নেতিবাচকতা শব্দটা আসত না। যেহেতু সেই সুযোগটা আমরা পাইনা বাঁ দেয়া হয়না সে কারনেই এই শব্দটা বার বার ফিরে আসে।
দি টাইমস ইনফোঃ আপনার সামাজিক দায়বদ্ধতা কি?
বাকার বকুলঃ আমার চারপাশে যে ঘটনা কিংবা অনাকাঙ্কিত ঘটনা ঘটছে সেগুলো আমাকে ভাবায়। এবং এগুলোর জন্য আমি কাজ করছি এবং করব এটাই আমার দায়বদ্ধতা। তবে অবাক হই তখনই যখন দেখি আমরা এতটাই ঘরকোনা আর দলবিভক্ত হয়ে গেছি যে আমাদের দায়বদ্ধতা ভুলে গেছি ও যাচ্ছি। এটা খুবই লজ্জাজনক একটা ব্যাপার যে যাদের দ্বারা পরিবর্তন আসবে আসলে তারাই ঠিক উল্টো পথে হাঁটছি।
দি টাইমস ইনফোঃ আমরা বড় পর্দায় আপনাকে কবে দেখছি?
বাকার বকুলঃ আমি আসলে এঁর মধ্যে দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ফেলেছি যেগুলো আশাকরি খুব জলদি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। যা একটি হল ‘ডাকঘর’ এটি পরিচালনা করেছেন লুসি তৃপ্তি গোমেজ। আর একটি হল ইন্ডিয়া বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনায় ‘হাসন রাজা’। এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন একজন বৃটিশ পরিচালক রুহুল আমিন।
দি টাইমস ইনফোঃ আচ্ছা এখন একটু জলদি প্রশ্ন জলদি উত্তর দেবেন-
বাকার বকুলঃ হ্যা, বলুন।
দি টাইমস ইনফোঃ পছন্দের খাবার?
বাকার বকুলঃ আমি ভোজন রসিক নই। তবে যে কোনও সিজনাম খাবারের প্রতি আমার আলাদা আকর্শন আছে।
দি টাইমস ইনফোঃ পছন্দের রং?
বাকার বকুলঃ নীল।
দি টাইমস ইনফোঃ পছন্দের ফুল?
বাকার বকুলঃ গন্ধরাজ।

বাকার বকুল

মঞ্চে বাকার বকুল

দি টাইমস ইনফোঃ প্রথম ক্রাস কে আপনার?
বাকার বকুলঃ বলা যাবেনা। (হেসে)
দি টাইমস ইনফোঃ সংসার জীবনে কতটা সুখি?
বাকার বকুলঃ অনেক হ্যাপি। আমি আমার স্ত্রী ও আমার বাচ্চা আমরা বন্ধুর মত থাকতে চাই সবসময়।
দি টাইমস ইনফোঃ সন্তানকে কি হিসেবে দেখতে চান?
বাকার বকুলঃ আসলে খুব সাধারন ভাবে সাধরন মানুষের মত বড় করতে চাই আমার সন্তানকে। আর সে যা হতে পছন্দ করবে আমরা তাতেই তাকে সাহায্য করব। বাইরে থেকে সঠিক দিক নির্দেশনা দেব এইত।
দি টাইমস ইনফোঃ অবসরে কি করেন?
বাকার বকুলঃ লেখালেখি, বই পড়া আর ফেজবুক ঘাঁটাঘাঁটি।
দি টাইমস ইনফোঃ কোনও মজার স্মৃতি?
বাকার বকুলঃ মজার স্মৃতি বলতে যেটা আছে তা হল, আমি মফস্বল শহরে বড় হয়েছি আর সেখানে ছোট বেলা থেকেই টুকটাক নাটক করতাম। আমাদের এক দাদা ছিল যিনি আগে যাত্রা করতেন। তো স্কুলে নাটক করব আমরা তিনি বায়না ধ্রলেন তিনিও কাজ করবেন আমাদের সাথে। তো তাকে একটা চরিত্র দেয়া হল যিনি গুলি খেয়ে মারা যাবেন। দাদা কানে একটু কম শুনতেন সেজন্য গুলির শব্দের আগে কিংবা পরে তিনি পড়তেন। তো যথারীতি যেদিন শো করব সেদিন মা খালাদের শাড়ি দিয়ে সামিযানা বানান হল, স্কুলের বেঞ্চ দিয়ে মঞ্চ করা হল। আমরা সবাই দাদাকে নিয়ে চিন্তিত তিনি সময় মত মারা যাবেন কিনা। তো যখনই গুলির শব্দ হল দাদা প্রায় ৪-৫ হাত লাগ দিয়ে উঠে ৩-৪ খানা বেঞ্চ ভেঙ্গে নিচে পড়লেন। আমরা দৌড়ে গেলাম তিনি ব্যাথা পেয়েছেন কিনা না ঠিক আছেন কিনা। আশ্চর্য মজার কথা তিনি এক চোখ খুলে বললেন কি সময় মত পড়েছি তো, ঠিক ছিল তো। ঐ ঘটনা আমাকে এখনও ভাবায়। আসলে অভিনয় যে আসে অনেক কিছু মনে রেখে করতে হয় তা আমরা ভুলে যাই। আভিনয় আসলে আর্টিফিসিয়াল একটা জিনিস পুর্ন স্বত্বা নয় অর্ধ স্বত্বা এটা মনে রাখতে হবে সবসময়।
দি টাইমস ইনফোঃ শেষ প্রশ্ন- লাঠিখেলা ও মাইম শিখেছেন কবে?
বাকার বকুলঃ আসলে আমি একটা জিনিস মনে করি যে থিয়েটার করতে গেলে ফিজিক্যাল ফিটনেস অনেক গুরুত্বপুর্ন একটা বিষয়। ঐ চিন্তা থেকেই ছোট বেলা থেকে যখন থিয়েটার করি তখন আমি দেশের বিভিন্ন জেলা ঘুরে এই লাঠিখেলা ও মাইম শিখেছি। প্রথমে নিজেকে ফিট রাখার জন্য শেখা আর এখন সেই অভিজ্ঞতাকেই এক্সপেরিমেন্ট করে নির্দেশনার কাজে লাগান।
দি টাইমস ইনফোঃ আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের এতটা সময় দেয়ার জন্য। ভাল থাকবেন।
বাকার বকুলঃ আপনাদেরকেও ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন।

Share

আরও খবর