তোফায়েল২৯ সেপ্টেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে নিরাপদ ও কর্মবান্ধব করতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করা হয়েছে। অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স এবং ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভের পরামর্শ মোতাবেক কারখানাগুলো সংস্কার করা হয়েছে। এখন আর শেয়ারড বিল্ডিংয়ে কোনো কারখানা নেই।’

বৃহস্পতিবার হোটেল রেডিসনে ঢাকাস্থ নেদারল্যান্ড দূতাবাস আয়োজিত ‘সাসটেইনেবল সোর্সিং ইন দ্য গার্মেন্ট সেক্টর’ শীর্ষক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন কারখানায় আমাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চলছে। শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। ক্রেতাগোষ্ঠীর পরামর্শ মোতাবেক তৈরি পোশাক কারখানা নিরাপদ ও কর্মবান্ধব করা হলেও তৈরি পোশাকের দাম বাড়ানো হয়নি। নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক অংশিদার। তৈরি পোশাকের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে নেদারল্যান্ডস উদ্যোগ নিলে এ খাত উপকৃত হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, অপ্রত্যাশিত রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ উদ্যোগ এবং গার্মেন্ট শিল্প মালিকদের আন্তরিক সহযোগিতায় এ শিল্পকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করতে অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকার শিল্প-কারখানাগুলোকে নিরাপদ ও কর্মবান্ধব করতে ফায়ার সেফটি ও বিল্ডিং সেফটির যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর থেকে সরকার শুল্ক তুলে নিয়েছে। বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে দেশে একের পর এক গ্রিন ফ্যাক্টরি তৈরি হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প অনেক নিরাপদ এবং কর্মবান্ধব। অ্যাকর্ড, অ্যালোয়েন্স এবং ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভ ৩ হাজার ৭০০টি তৈরি পোশাক কারখানা পরিদর্শন করেছে। এর মধ্যে ত্রুটি ছিল মাত্র ৩৯টি ফ্যাক্টরিতে, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন মোতাবেক শতকরা ২ ভাগ ত্রুটি গ্রহণযোগ্য। সেখানে বাংলাদেশে এ ত্রুটির পরিমাণ ২ শতাংশের কম।

তৈরি পোশাক শিল্পের কল্যাণে নেদারল্যান্ডস সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে থাইল্যান্ড, ভারত, ভিয়েতনাম এবং চীনে উৎপাদন খরচ বেড়েই চলছে। বর্তমানে থাইল্যান্ডে শ্রমিকদের মজুরি মাসে ৩০০ মার্কিন ডলার। তুরস্কের শ্রমিকরা পায় ১ হাজার মার্কিন ডলার। সখানে বাংলাদেশের শ্রমিকরা পাচ্ছে মাত্র ৭০ ডলার। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে তুরস্কে ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

মন্ত্রী আরো জানান, বাংলাদেশে প্রতি বছর ২.৫ মিলিয়ন যুবশক্তি কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হচ্ছে। তৈরি পোশাক শিল্পে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করছে। এর ৯০ শতাংশই নারী। নেদারল্যান্ডসসহ ক্রেতাগোষ্ঠীর সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক শিল্পে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সফররত নেদারল্যান্ডের বৈদেশিক বাণিজ্য ও ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক মন্ত্রী লিলিয়ানি প্লাউম্যান বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Share

আরও খবর